ক্যারিয়ার বিষয়ক আলোচনার খেরোখাতার শুরুতে দুই থেকে তিনটি কৌতুক পড়তে পারেন যদি মুখের কঠিনভাবটা কিছুটা কাটানো যায়-
শিক্ষিকা: তুমি বড় হয়ে কী হতে চাও?
শিক্ষার্থী: যে পেশায় ছুটির দিন বেশি হয় ম্যাডাম!
শিক্ষিকা: তাহলে তুমি ‘ক্যারিয়ার প্ল্যানার’ হও... সব প্ল্যান তোমার!
আমি মা-বাবাকে বললাম আমি একজন শিল্পী হতে চাই।
তারা বললেন, “ঠিক আছে, কিন্তু একটা আসল চাকরিও সাথে যেন থাকে!”
ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নতুন রেস্টুরেন্টে খাবার অর্ডার দেওয়ার মতো
কী ভালো তা বোঝা যায় যখন অনেক দেরি হয়ে যায়!
আমাদের সমাজে নারী-পুরুষ, মেয়ে—ছেলে, শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যতে কি করবেন তা নিয়ে যারপরনাই চিন্তিত শুধু সেই মানুষটিই নয় তার পরিবারের সদস্যবৃন্দ বা প্রতিবেশী চিন্তিত যা বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে আলোচনার প্রধান্যপাওয়া বিষয়ের অন্যতম বিষয় হয়ে দাঁড়ায় (অমুকের ছেলের কি হলো একটি চাকুরি পাচ্ছেনা? অমুকের মেয়ে এত ভালো ছাত্রী কিন্তু কোন বিশ^বিদ্যালয়ে এখনও ভর্তি হতে পারলোনা কেন?)। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের তথাকথিত সমাজের দৃষ্টিতে মানসম্পন্ন পেশায় না থাকায় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত না থাকায় কেমন যেন বিব্রত/ লজ্জিত/ অপরাধী থাকেন সামাজিক অনুষ্ঠান বা আলোচনা থেকে দূরে থাকেন বা দূরে থাকার কৌশল নেন।
আপনি বা আমি তো সহসা সমাজের এই প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারবোনা কিন্তু নিজেদের সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করতে পারি যা আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনে নিজের চোখে একটি মর্যাদাকর অবস্থানে নিয়ে যেতে সহায়ক হতে পারে। তাই ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বিষয়ে কিছু ধারণাগত আলোচনা করছি যা হয়তো বা আপনাদের বা আমাদের কাজে লাগতে পারে।
ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ((Career Planning))
ক্যারিয়ার পরিকল্পনা মানে হলো ভবিষ্যতে আপনি কী হতে চান, কী ধরনের কাজ করতে চান, তার জন্য এখন থেকেই লক্ষ্য ঠিক করে ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নেওয়া।
ক্যারিয়ার পরিকল্পনা কেন প্রয়োজন
- ভবিষ্যৎ জীবন সহজ ও সুন্দর করার জন্য।
-নিজের পছন্দ ও যোগ্যতা অনুযায়ী পথ বেছে নেয়ার জন্য।
-সময় ও পরিশ্রম বাঁচাতে, যাতে লক্ষ্যহীনভাবে জীবন না অতিবাহিত না হয়।
-উপযুক্ত শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের জন্য।
ক্যারিয়ার পরিকল্পনার ধাপসমূহ
১.নিজেকে জানুন: আমি কী পছন্দ করি? কী করতে পারি?
২.তথ্য সংগ্রহ করুন: কোন কোন পেশা আছে? কী কী করতে হয়?
৩.লক্ষ্য নির্ধারণ করুন: আমি কী হতে চাই? ডাক্তার, শিক্ষক, উদ্যোক্তা, ব্যাংকার, ফ্রিল্যান্সার, উন্নয়ন কমীর্ না কি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার?
৪. পরিকল্পনা করুন: কী পড়বেন? কোথায় পড়বেন? কীভাবে দক্ষ হবেন?
৫.কাজ শুরু করুন: শেখা, চেষ্টা, যোগাযোগ, নেটওয়ার্ক তৈরি করা।
ক্যারিয়ার পরিকল্পনা মানে শুধু “কী হতে চাই” না, বরং “কীভাবে হবো” সেটার প্রস্তুতিও। আপনার আগ্রহ, দক্ষতা ও বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে ক্যারিয়ার বেছে নিলে সফল হওয়া সহজ হয়।
তাই, এখন থেকেই পরিকল্পনা করুন এবং নিজের স্বপ্নের পথে অগ্রসর হোন।
(চলবে)
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন খান
উন্নয়ন এবং মানবাধিকার সহায়ক ও বিশ্লেষক
যোগাযোগ:sazzad@gukbd.net
প্রকাশক ও সম্পাদক :- এম আবদুস্ সালাম । নির্বাহী সম্পাদক:- আফতাব হোসেন। সম্পাদকীয় কার্যালয়:- দুই নং রেলগেট, গাইবান্ধা। ঢাকা অফিস : হাউস#৯৫/A, রোড #৪ ব্লক-F বনানী ঢাকা ১২১৩ মোবাইল :- ০১৭১৩৪৮৪৬৪৭
ই পেপার