
আফতাব হোসেন, কক্সবাজার থেকে ফিরে: কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ও বিশ্বের দীর্ঘতম দৃষ্টিনন্দন উপকূলীয় সড়ক ‘মেরিন ড্রাইভ’ চার লেনে উন্নীত করার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। প্রায় ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই মেগা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য—বর্তমান সড়কটিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব মহাসড়কে রূপান্তর করা।
অর্থায়ন ও প্রকল্প অনুমোদন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১,০৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এই ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার (জিওবি) এবং বাকি অংশ বৈদেশিক সহায়তা ও অন্যান্য খাত থেকে সংস্থান করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জুন মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় গুরুত্বপূর্ণ এই মেগা প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
বাস্তবায়ন ও তদারকিতে সেনাবাহিনী সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। তবে মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ ও সার্বিক তদারকির দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি)। সেনাবাহিনীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সূক্ষ্মতার সাথে সড়ক প্রশস্তকরণ ও সমুদ্রের ভাঙন রোধে টেকসই সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
অগ্রগতির পরিধি বর্তমানে কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি পর্যায়ক্রমে প্রশস্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে কলাতলী থেকে ইনানী পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।
প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও আধুনিকায়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে-রেজু খালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক দুই লেনের নতুন সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় প্রায় ৩ হাজার গাছ অক্ষত রেখে সড়কের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা প্রকল্পটিকে পরিবেশবান্ধব ও অনন্য করে তুলেছে। সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সোজা করা, ভাঙন রোধে সিসি ব্লক স্থাপন এবং আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া সম্পূর্ণ সড়কে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা ও আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল বসানোর কাজ এই প্রকল্পের অন্যতম অংশ।
কক্সবাজারের ব্যবসায়ী সৈয়দ মো. বাবর জানান, মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণ ও চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শেষ হলে এটি যেমন এশিয়ার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সড়কে পরিণত হবে, তেমনি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও দারুণ গতি আসবে।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী পিটার মজুমদার বলেন, সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে পর্যটকদের যাতায়াত ও ভ্রমণ আরও নিরাপদ, আরামদায়ক এবং মনোরম হবে। এটি দেশের সামগ্রিক পর্যটন খাতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে। এটি কেবল পর্যটন খাতের বিকাশই ঘটাবে না, বরং 'ব্লু-ইকোনমি' বা সমুদ্র অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে। প্রশস্তকরণের ফলে পর্যটকদের যাতায়াতের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটের ভোগান্তিও অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক ও সম্পাদক :- এম আবদুস্ সালাম । নির্বাহী সম্পাদক:- আফতাব হোসেন। সম্পাদকীয় কার্যালয়:- দুই নং রেলগেট, গাইবান্ধা। ঢাকা অফিস : হাউস#৯৫/A, রোড #৪ ব্লক-F বনানী ঢাকা ১২১৩ মোবাইল :- ০১৭১৩৪৮৪৬৪৭
ই পেপার