স্টাফ রিপোর্ট, সুন্দরগঞ্জ
জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব আর ক্রমাগত বাড়তে থাকা তাপমাত্রার হাত থেকে প্রান্তিক মানুষকে স্বস্তি দিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নেওয়া হয়েছে এক অভিনব উদ্যোগ। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গণ উন্নয়ন কেন্দ্র’ (জিইউকে)-এর উদ্যোগে এবং ‘জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই অঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে নির্মাণ করা হয়েছে ১৬টি বিশেষ বিশ্রামাগার, যার নাম দেওয়া হয়েছে "শীতল ছায়া"।
সম্প্রতি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চর খোদ্দা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছনের ঐতিহ্যবাহী গোল ছাউনি এবং বাঁশের তৈরি দৃষ্টিনন্দন এই বসার স্থানে তীব্র রোদের মাঝে একটু স্বস্তির খোঁজে আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় নারী, শিশু ও কৃষিশ্রমিকরা। সেখানে আশ্রয় নেওয়া চরাঞ্চলবাসী শাহানা বেগম বলেন, "ধু-ধু বালুচরে জমির ফসল দেখতে এসে তীব্র রোদে জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠছিল। এখন এই গোল ঘর এবং পাশে টিউবওয়েল করে দেওয়ায় এখানে এসে একটু জিরিয়ে নিতে পারছি, নিরাপদ পানিও পাচ্ছি।"
কছিম উদ্দিনের খেয়াঘাটে স্থাপিত ‘শীতল ছায়া’য় গিয়ে দেখা যায়, ৮-১০ জন স্কুল শিক্ষার্থী বসে বিশ্রাম নিচ্ছে। তিস্তার বুক চিরে জেগে ওঠা চর ভাটি কাপাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা এই শিক্ষার্থীরা জানায়, খেয়া নৌকা আসতে দেরি হওয়ায় তারা এখানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে আবার বসে স্কুলের পড়াও সেরে নিচ্ছে। শিক্ষার্থী মনি আক্তার বলে, "এই ঘরটি হওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি ও তীব্র রোদে আমরা এখানে সবাই মিলে আশ্রয় নিতে পারছি। এটি আমাদের জন্য খুব নিরাপদ।"
সংস্থা সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের উত্তরাঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ ও ঘন ঘন বজ্রপাতের মতো চরম আবহাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকার খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক, খেটে খাওয়া মানুষ ও নারীরা তীব্র রোদে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। তাদের কষ্ট লাঘব করতেই সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, কিশামত সদর, চরকানি চরিতাবাড়ী, পশ্চিম ছাপরহাটি, কশিমবাজার ঘাট ও উজান তেওড়াসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে প্রাথমিকভাবে ৭টি "শীতল ছায়া" তৈরি করা হয়েছে। দুই উপজেলা মিলিয়ে মোট ১৬টি এমন আশ্রয়স্থল নির্মিত হয়েছে।
তারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, "গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের এই উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। ঐতিহ্যবাহী ছন ও বাঁশ দিয়ে তৈরি এই বিশ্রামাগারগুলোতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, পথচারী ও কৃষিশ্রমিকরা তীব্র রোদে আশ্রয় নিচ্ছেন। পাশেই নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েলের ব্যবস্থা থাকায় তা মানুষের পানির চাহিদাও মেটাচ্ছে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই উদ্যোগটি শুধু তীব্র গরম বা বজ্রপাত থেকেই রক্ষা করছে না, বরং গ্রামীণ জনপদে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার (অভিযোজন) একটি চমৎকার ও অনুকরণীয় উদাহরণ তৈরি করেছে।
গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের ‘জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট’-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব, তাপপ্রবাহ ও ঘন ঘন বজ্রপাত থেকে প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষা দিতেই আমরা এই 'শীতল ছায়া' ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করেছি। এটি চরের শ্রমজীবী মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করছে।"
প্রকাশক ও সম্পাদক :- এম আবদুস্ সালাম । নির্বাহী সম্পাদক:- আফতাব হোসেন। সম্পাদকীয় কার্যালয়:- দুই নং রেলগেট, গাইবান্ধা। ঢাকা অফিস : হাউস#৯৫/A, রোড #৪ ব্লক-F বনানী ঢাকা ১২১৩ মোবাইল :- ০১৭১৩৪৮৪৬৪৭
ই পেপার