
ডেস্ক রিপোর্ট: চলতি এপ্রিল মাসেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা এরই মধ্যে ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। বিশেষ করে রাজশাহী ও যশোরে তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি অবস্থান করছে, যার ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)।
তাপপ্রবাহের এই তীব্রতা থেকে বাদ পড়েনি উত্তরাঞ্চলও। বিশেষ করে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর চরাঞ্চলের তপ্ত বালুময় এলাকায় বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। চলতি মাসে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধির পূর্বাভাসে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরমে টিকতে না পেরে চরাঞ্চলের গরু-মহিষকে নদীর পানিতে নেমে স্বস্তি খুঁজতে দেখা গেছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তবে শ্রমজীবীরা জীবিকার তাগিদে প্রখর রোদ ও গরম উপেক্ষা করেই কাজের সন্ধানে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ১৫ এপ্রিল রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৩৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে, ১২ এপ্রিল যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকাতেও গরমের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। আজ (১৬ এপ্রিল) ঢাকায় সর্বোচ্চ ৩৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাতাসে আর্দ্রতা কমে শুষ্কতা বেড়ে যাওয়ায় মূলত গরমের তীব্রতা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। দেশের কিছু স্থানে কালবৈশাখী বা বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা থাকলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আপাতত তাপমাত্রা দ্রুত কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
তীব্র এই গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তীব্র দাবদাহ থেকে রক্ষা পেতে জনসাধারণকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:
বাইরে চলাচলে সতর্কতা: রোদের তীব্রতা এড়াতে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
পর্যাপ্ত পানি পান: পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোক রোধে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি ও খাওয়ার স্যালাইন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পোশাক ও সুরক্ষা: বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি এবং রোদচশমা ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি হালকা রঙের ও সুতির আরামদায়ক কাপড় পরিধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ যত্ন: শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং আগে থেকেই অসুস্থ থাকা ব্যক্তিদের এই গরমে বিশেষ যত্নে রাখতে হবে।
এছাড়া কৃষি ও শ্রমজীবী মানুষদের জন্য রোদে কাজ করার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক ও সম্পাদক :- এম আবদুস্ সালাম । নির্বাহী সম্পাদক:- আফতাব হোসেন। সম্পাদকীয় কার্যালয়:- দুই নং রেলগেট, গাইবান্ধা। ঢাকা অফিস : হাউস#৯৫/A, রোড #৪ ব্লক-F বনানী ঢাকা ১২১৩ মোবাইল :- ০১৭১৩৪৮৪৬৪৭
ই পেপার