সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী গো-হাটে টোলের নামে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছে থেকে টোলের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে হাট ইজারাদারের বিরুদ্ধে।
গত বছরের চেয়ে ১ কোটি টাকা কমে হাটটি ইজারা নিলেও গরু কেনাবেচা করতে আসা লোকজনের থেকে অতিরিক্ত টোল নেওয়ায় অসন্তোষ বিরাজ করছে ক্রেতা বিক্রেতাদের মাঝে। ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের থেকে টোল আদায় নিয়ে হাট ইজারাদারদের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হচ্ছে গরু কিনতে আসা ও বেচতে আসা অনেকের সাথে।
শুধুমাত্র ক্রেতা দিবে টোল এমনটাই নিয়ম থাকলেও এই হাট ইজারাদার তা মানছে না। ইচ্ছেমতোন ক্রেতা ও বিক্রেতার থেকেই হাটের টোল আদায় করছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ । সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করায় হাট ইজারাদারের উপর হাট কমিটির সভাপতি, মুক্তিনগর ইউপি চেয়ারম্যান আহসান হাবিব লায়ন অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন।
গাইবান্ধার সাঘাটায় ঐতিহ্যবাহী হাট ভরতখালী উত্তরবঙ্গের গরু, ছাগল কেনা বেচার ফলেই সবচেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করেছে । সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার আশেপাশের কয়েকটি জেলা উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত গরু ছাগল এই হাটে ক্রয় বিক্রয়ের জন্য আসে ফলে এই হাটে ব্যাপক ক্রেতা বিক্রেতাদের আগমন ঘটে। হাটের দিনে কমপক্ষে ৯শ'-১১শ' গরু কেনা বেচা হয়। হাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষ প্রতি গরুতে ক্রেতার থেকে ৬শ টাকা ও বিক্রেতার নিকট থেকে ৩শ টাকা আদায় করছেন। অতিরিক্ত টাকা আদায় করলেও দেখা যায় গো ও ছাগল হাটের টোল আদায় রশিদে কোনো প্রকার টাকা লিখছেন না ইজারাদারের লোকজন। ভুক্তভোগিরা বলেন, আইনের হাত থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি গোপন রাখতেই এমন রশিদ লিখেন হাট ইজারাদার।
বিভিন্ন সময়ে দূরের ক্রেতা বিক্রেতারা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে মুখ খুললেও হাট কমিটির লোকজনের রুঢ় আচরণের ভয়ে তটস্থ থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্রেতা বিক্রেতা অনেকেই এমন মন্তব্য করেন।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও হাটটি ইজারা হয়েছে। তবে গতবছরের চেয়ে এবারের হাটটিতে সূত্রমতে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা কম মূল্যে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান হাটটির ইজারা মূল্য ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে । হাট বাজার নিয়ন্ত্রণ আইনে হাটে বেচা-কেনা পশুর টোল নির্ধারণ করে স্ব স্ব জেলার জেলা প্রশাসক। কিন্তু এই হাটের চিত্র সম্পুর্ন উল্টো। এখানে টোল আদায় নির্ধারন করেছে খোদ ইজারাদার নিজেই। অতিরিক্ত টোল ও ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের থেকে টোল আদায় করা বিষয়টি ইউএনও আশরাফুল কবীরকে অবগত করেছে বলে দাবি করেছে স্বয়ং হাট কমিটির সভাপতি, মুক্তিনগর ইউপি চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লায়ন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, এসব দুর্নীতি ও ক্রেতা বিক্রেতার থেকে টাকা আদায় বিষয়ে আমি ইউএনও মহোদয়কে অবগত করেছি। বিক্রেতাদের নিকট থেকে খাজনা বা টোলের টাকা নেয়ার নিয়ম নেই।
হাট ইজারাদার এনামুল হকের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ক্রেতা বিক্রেতার থেকে টোল আদায় বিষয়ে জানতে চাইলে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর বলেন, ক্রেতার থেকে টোল নিবে ইজারাদার বিক্রেতার থেকে কোনো টাকা নেয়ার নিয়ম নেই। তবে তিনি অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক :- এম আবদুস্ সালাম । নির্বাহী সম্পাদক:- আফতাব হোসেন। সম্পাদকীয় কার্যালয়:- দুই নং রেলগেট, গাইবান্ধা। ঢাকা অফিস : হাউস#৯৫/A, রোড #৪ ব্লক-F বনানী ঢাকা ১২১৩ মোবাইল :- ০১৭১৩৪৮৪৬৪৭
ই পেপার