প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৩, ২০২৬, ৪:৫৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১৭, ২০২৬, ১১:২২ এ.এম
রাণীনগরে সালিশ বৈঠকে দ্বন্দ্বের জের, দুইপক্ষের সংর্ঘষে আহত ১৫

নওগাঁ সংবাদদাতা: নওগাঁর রাণীনগরে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে দ্বন্দ্বের জের ধরে দুইপক্ষের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে উপজেলার পারইল ইউনিয়নের ভান্ডারগ্রাম নওপুকুরিয়া গ্রামে এই সংর্ঘষের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটার পর থেকে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের এছাহক ফকিরের ছেলে আদম ফকির (২৫) বিদেশ থেকে গত ১৫দিন আগে দেশে আসেন। তার ১ম স্ত্রী থাকার পরেও জনৈক ৪০-৪৫ বছর বয়সি এক নারীকে ২য় বিয়ে করে বিভিন্ন স্থানে ঘোড়াফেরা করে দুইদিন আগে ওই মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে যান। এ ঘটনায় ওই মেয়ে পক্ষের লোকজন শুক্রবার রাতে এছাহক ফকিরের খলিয়ানে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। ওই বৈঠকে মেয়ে পক্ষের লোকজন কাজী বংশের লোকজনকে সহায়তা করার জন্য ডেকে নেয়। এতে ১ম পক্ষের স্ত্রীর স্বজনরাও উপস্থিত ছিল।
বৈঠকে ১ম স্ত্রীর বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্র না থাকায় ১ম স্ত্রীর পক্ষের লোকজন ২০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে কাবিন রেজিস্ট্রির দাবি জানায়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে ১২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বৈঠকেই কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়। এর পরই কাজী বংশের লোকজন এবং এছাহক ফকিরের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কা-ধাক্কি হয়। এ ঘটনার জের ধরে শনিবার বেলা ১১টার দিকে আব্দুস সাত্তার কাজীর ছেলে রুহুল আমিন কাজী (৩০) এছাহক ফকিরের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় এছাহক ফকির ও তার লোকজন রুহুলকে মারধর করে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।
এতে কুদ্দুস কাজী (২৮), জাহাঙ্গীর কাজী (৩৬), নুর ইসলাম কাজী (৩৮), হেলাল কাজী (৪২), রেজাউল ইসলাম রাব্বানী কাজী (৩৮), ফাহিম কাজী (২৬), শিহাব কাজী (১৫), আসমা খাতুন (৪০) ও দিলবর কাজী (৪৫) আহত হয়।
অপর দিকে এছাহক ফকির পক্ষের এছাহক ফকির (৫৫), ইসরাফিল ফকির (৩৫), জাহিদুল ফকির (৪২), রিপন ফকির (১৮), আব্দুল মজিদ ফকির (৩২) ও জিয়াউর ফকির (৪০) আহত হয়েছেন।
নওপুকুরিয়া গ্রামের ফারেস কাজী দাবি করেন, সালিশ বৈঠকে কাজী বংশের লোকজন এবং এছাহক ফকিরের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ ঘটনার জের ধরে রুহুল আমিন কাজী- এছাহক ফকিরের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় এছাহক ফকির ও তার লোকজন রুহুল কাজীকে মারধর করে। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পরলে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় এছাহক ফকির বলেন, শুক্রবার রাতে সালিশ বৈঠকে কাজী পরিবারের লোকজনের সাথে দ্বন্দ্ব হয়েছে। আমরা আগে মারধর করিনি দাবি করে তিনি বলেন, রাতে সালিশ বৈঠকে দ্বন্দ্বের জের ধরে শনিবার হঠাৎ করেই তারা আমাদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট শুরু করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থীতি শান্ত করা হয়েছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক :- এম আবদুস্ সালাম । নির্বাহী সম্পাদক:- আফতাব হোসেন। সম্পাদকীয় কার্যালয়:- দুই নং রেলগেট, গাইবান্ধা।
ঢাকা অফিস : হাউস#৯৫/A, রোড #৪ ব্লক-F বনানী ঢাকা ১২১৩ মোবাইল :- ০১৭১৩৪৮৪৬৪৭
ই পেপার