
তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার খামার থেকে শুরু করে প্রান্তিক কৃষকরা ঈদুল আযহায় কোরবানীর জন্য গরু-ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করে রাখলেও কাউকে দুম্বা প্রস্তুত রাখতে দেখা যায়নি। তবে এ বছর জাহিরুল ইসলাম জাহিদ নামের এক যুবকের খামারে কোরবানির জন্য বিক্রি করা হবে চারটি দুম্বা। উন্নত জাতের এই দুম্বাগুলো ক্রয়ের জন্য ইতোমধ্যে ক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে।
মরুর প্রাণী দুম্বার এই খামারটি গড়ে উঠেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দড়ি জামালপুর গ্রামে। এ গ্রামের মৃত তারা মন্ডলের ছেলে খামারি জাহিদ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহিরুল ইসলাম জাহিদ এক সময়ে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের একটি দুম্বার খামার ভিজিট করেন। সেই থেকে নিজেও উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এরপর প্রাথমিক অভিজ্ঞতায় গত বছরে এজেন্টের মাধ্যমে ভারত থেকে টার্কি ও আওয়াসি জাতের পাঁঠাসহ পাঁচটি দুম্বা কিনেছেন। এরপর পরিকল্পনা অনুয়ায়ী মাচা পদ্ধতিতে এই পশু পালন শুরু করেছেন জাহিদ। এরই মধ্যে পেয়েছেন ৪ টি বাচ্চাও। ইতোমধ্যে ২টি বাচ্চা ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেছেন তিনি। আসছে কোরবানী ঈদে আরও ৪টি দুম্বা বিক্রির জন্য প্রস্তুত রখেছেন। এ অবস্থায় ধীরে ধীরে খামার সম্প্রাসরাণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ থেকে নিজে স্বাবলম্বী হওয়াসহ অন্যদেরও কর্মসংস্থানের আশা করছেন উদ্যোক্তা জাহিরুল ইসলাম জাহিদ।
স্থানীয়রা বলছেন, দুম্বা মরু অঞ্চলের প্রাণী হলেও বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে দুম্বা পালন শুরু হয়েছে। এখানে প্রতিদিন উৎসুক জনতা আসেন। এই প্রথম নিজ চোখে দুম্বা দেখতে পেয়ে অনেকটা আনন্দিত ও পালনে আগ্রহ জাগছে তাদের।
ফয়জার রহমান নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, আমরা জানি দেশের বাইরে মরু অঞ্চলে দুম্বা পালন করা হয়। আর দুম্বার নাম অনেক শুনেছি কিন্তু বাস্তবে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে উদ্যোক্তা জাহিদ। প্রায়ই এই খামারটি দেখতে আসি। চিন্তা করছি আগামীতে আমিও দুম্বার খামার দিব।
এ বিষয়ে উদ্যোক্তা জাহিদের ছোট ভাই জিন্না মন্ডল বলেন, দুম্বাকে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করতে খাবারের ব্যবস্থাপনা জরুরি। প্রতিদিন দুম্বাগুলোকে নেপিয়ার ঘাস, খড়, ভুসি প্রভৃতি পরিমাণ মতো দিনে ৩ বার খাবার দিতে হয়। তবে গরু- ছাগলের চেয়ে সহজে দুম্বা পালন করা যায়।
উদ্যোক্তা জাহিরুল ইসলাম জাহিদ বলেন, শখ ছিল যে আমি আনকমন কিছু একটা করবো। আমি যদি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে সবাই এ দুম্বা কিনে কোরবানি ঈদে কোরবানি দিতে পারবে। যেহেতু এটা সুন্নতি প্রাণী, এ উদ্দেশ্য নিয়ে আমার যাত্রা শুরু করা। এবার কোরবানি ঈদে ৪টি দুম্বা বিক্রি করব। তবে ঝুঁকি ছাড়াই দুম্বা পালন অত্যন্ত লাভজনক।
সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুম্বা পালন বেশ লাভজনক। জাহিদ নামের যুবক দুম্বার খামার করে সফল হয়েছেন। আমরা তাকে সর্বাত্নকভাবে সহযোগিতা করছি।
প্রকাশক ও সম্পাদক :- এম আবদুস্ সালাম । নির্বাহী সম্পাদক:- আফতাব হোসেন। সম্পাদকীয় কার্যালয়:- দুই নং রেলগেট, গাইবান্ধা। ঢাকা অফিস : হাউস#৯৫/A, রোড #৪ ব্লক-F বনানী ঢাকা ১২১৩ মোবাইল :- ০১৭১৩৪৮৪৬৪৭
ই পেপার