Dhaka ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বীরমুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও ‎দাফনে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন সুন্দরগঞ্জে ট্রাক-অটোভ্যান সংঘর্ষ: নিহত ২, আহত ১ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাসাদের কাছে বিমান বিব্ধস্ত, পাইলটসহ সকল আরোহীর মৃত্যু সাঘাটায় জমি বিরোধে বিধবার ৪০টি গাছ নিধন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আটক ১ জেলার ১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ, ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ গাজীপুরে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন বাংলাদেশের চার সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশেস সাথে সংঘর্ষ মার্কিন ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ স্থগিত করলেন আপিল আদালত ব্রহ্মপুত্রের বুকে নৌকার পাটাতনে জন্ম নিলো ফুটফুটে কন্যাশিশু

জনবল সংকটে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৫৩ Time View

তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণির জনবল সংকট চলছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বড় একটি অংশ শূন্য থাকায় সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক ও কর্মচারীকে অতিরিক্ত চাপ নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক রোগীর কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সারি। বিভিন্ন ওয়ার্ডেও রয়েছে রোগীর চাপ। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও অনেক সময় নির্ধারিত শয্যার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকছেন। শয্যা সংকটের কারণে অতিরিক্ত রোগীদের কেউ কেউ মেঝেতে অবস্থান করেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এ হাসপাতালে বহির্বিভাগে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগীর টিকিট বিক্রি হয়। এর বাইরে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও বহু রোগী। ৫০ শয্যার হাসপাতালে বেশিরভাগ সময় প্রায় ১০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল না থাকায় চিকিৎসকদের ওপর যেমন অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, তেমনি রোগীদেরও দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দীপান্বিতা দাস জানান, হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪৫টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন। অর্থাৎ ২৯টি চিকিৎসক পদই বর্তমানে শূন্য রয়েছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর কাজের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। একজন চিকিৎসককে একই সঙ্গে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

ডা. দীপান্বিতা দাস বলেন, আমার রোগী দেখার কথা ইনডোরে। কিন্তু এর পাশাপাশি আউটডোরেও রোগী দেখতে হচ্ছে। একজন চিকিৎসককে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন রোগী দেখতে হচ্ছে।

হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগে চিকিৎসক সংকট আরও প্রকট। গাইনি, সার্জারি, অ্যানেস্থেশিয়া, শিশু, মেডিসিন, নাক-কান-গলা এবং কার্ডিওলজি বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালসহ রংপুর ও অন্যান্য স্থানে যেতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।

বিশেষ করে প্রসূতি, শিশু ও জরুরি অস্ত্রোপচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেল অফিসারসহ চিকিৎসক ও অন্যান্য শ্রেণির মোট অনুমোদিত পদ রয়েছে ২১৩টি। এর মধ্যে ৮৬টি পদ শূন্য রয়েছে।ফলে চিকিৎসক ছাড়াও নার্স, টেকনিশিয়ান, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনবল সংকট রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

হাসপাতালের ডিপার্টমেন্টাল চিকিৎসকের অনুমোদিত ৮টি পদের মধ্যে ৭টিই শূন্য। বর্তমানে মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।

দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে এসে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পরও অন্য হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।

সালেহা বেগম নামে এক রোগী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় অন্য জায়গায় যেতে হয়। সরকারি হাসপাতালে যদি পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকতেন, তাহলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হতো।

আরেক রোগীর স্বজন ইদ্রিস আলী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসি কম খরচে ভালো চিকিৎসার আশায়। কিন্তু ডাক্তার না থাকলে বাইরে যেতে হয়। এতে খরচও বাড়ে, ভোগান্তিও বাড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সাদুল্লাপুর একটি বড় উপজেলা হওয়ায় এখানকার মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।

তাদের দাবি, হাসপাতালের শয্যা ও অবকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে। বিশেষ করে গাইনি, সার্জারি, অ্যানেস্থেশিয়া, শিশু, মেডিসিন, নাক-কান-গলা ও কার্ডিওলজি বিভাগে দ্রুত চিকিৎসক পদায়ন করা জরুরি।

স্থানীয়রা আরও বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে যদি রোগীদের জেলা সদর বা রংপুরে যেতে হয়, তাহলে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগই প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি হাসপাতালে নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের ভাষ্য, জনবল সংকটের কারণে তাদের নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, অন্যদিকে চিকিৎসকদের ওপরও বাড়ছে কর্মচাপ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম। ফলে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনে সমন্বয় করতে হচ্ছে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসককে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কার্যকর ও জনবান্ধব চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত করতে দ্রুত শূন্য পদ পূরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের মতে, উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে একদিকে জেলা ও বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় ও ভোগান্তিও কমবে।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিলকিস চৌধুরী বলেন, এ হাসপাতালের শূন্য পদপূরণের জন্য সংশ্লিষ্টাদের জানানো হয়েছে।

সাদুল্লাপুরের বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। তাই রোগীর চাপ, চিকিৎসক সংকট ও শূন্য পদ বিবেচনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে চিকিৎসক পদায়নের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করার দাবি এখন স্থানীয়দের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বীরমুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও ‎দাফনে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন

জনবল সংকটে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

Update Time : ০৪:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণির জনবল সংকট চলছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বড় একটি অংশ শূন্য থাকায় সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক ও কর্মচারীকে অতিরিক্ত চাপ নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক রোগীর কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সারি। বিভিন্ন ওয়ার্ডেও রয়েছে রোগীর চাপ। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও অনেক সময় নির্ধারিত শয্যার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকছেন। শয্যা সংকটের কারণে অতিরিক্ত রোগীদের কেউ কেউ মেঝেতে অবস্থান করেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এ হাসপাতালে বহির্বিভাগে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগীর টিকিট বিক্রি হয়। এর বাইরে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও বহু রোগী। ৫০ শয্যার হাসপাতালে বেশিরভাগ সময় প্রায় ১০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল না থাকায় চিকিৎসকদের ওপর যেমন অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, তেমনি রোগীদেরও দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দীপান্বিতা দাস জানান, হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪৫টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন। অর্থাৎ ২৯টি চিকিৎসক পদই বর্তমানে শূন্য রয়েছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর কাজের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। একজন চিকিৎসককে একই সঙ্গে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

ডা. দীপান্বিতা দাস বলেন, আমার রোগী দেখার কথা ইনডোরে। কিন্তু এর পাশাপাশি আউটডোরেও রোগী দেখতে হচ্ছে। একজন চিকিৎসককে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন রোগী দেখতে হচ্ছে।

হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগে চিকিৎসক সংকট আরও প্রকট। গাইনি, সার্জারি, অ্যানেস্থেশিয়া, শিশু, মেডিসিন, নাক-কান-গলা এবং কার্ডিওলজি বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালসহ রংপুর ও অন্যান্য স্থানে যেতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।

বিশেষ করে প্রসূতি, শিশু ও জরুরি অস্ত্রোপচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেল অফিসারসহ চিকিৎসক ও অন্যান্য শ্রেণির মোট অনুমোদিত পদ রয়েছে ২১৩টি। এর মধ্যে ৮৬টি পদ শূন্য রয়েছে।ফলে চিকিৎসক ছাড়াও নার্স, টেকনিশিয়ান, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনবল সংকট রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

হাসপাতালের ডিপার্টমেন্টাল চিকিৎসকের অনুমোদিত ৮টি পদের মধ্যে ৭টিই শূন্য। বর্তমানে মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।

দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে এসে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পরও অন্য হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।

সালেহা বেগম নামে এক রোগী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় অন্য জায়গায় যেতে হয়। সরকারি হাসপাতালে যদি পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকতেন, তাহলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হতো।

আরেক রোগীর স্বজন ইদ্রিস আলী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসি কম খরচে ভালো চিকিৎসার আশায়। কিন্তু ডাক্তার না থাকলে বাইরে যেতে হয়। এতে খরচও বাড়ে, ভোগান্তিও বাড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সাদুল্লাপুর একটি বড় উপজেলা হওয়ায় এখানকার মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।

তাদের দাবি, হাসপাতালের শয্যা ও অবকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে। বিশেষ করে গাইনি, সার্জারি, অ্যানেস্থেশিয়া, শিশু, মেডিসিন, নাক-কান-গলা ও কার্ডিওলজি বিভাগে দ্রুত চিকিৎসক পদায়ন করা জরুরি।

স্থানীয়রা আরও বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে যদি রোগীদের জেলা সদর বা রংপুরে যেতে হয়, তাহলে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগই প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি হাসপাতালে নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের ভাষ্য, জনবল সংকটের কারণে তাদের নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, অন্যদিকে চিকিৎসকদের ওপরও বাড়ছে কর্মচাপ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম। ফলে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনে সমন্বয় করতে হচ্ছে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসককে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কার্যকর ও জনবান্ধব চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত করতে দ্রুত শূন্য পদ পূরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের মতে, উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে একদিকে জেলা ও বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় ও ভোগান্তিও কমবে।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিলকিস চৌধুরী বলেন, এ হাসপাতালের শূন্য পদপূরণের জন্য সংশ্লিষ্টাদের জানানো হয়েছে।

সাদুল্লাপুরের বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। তাই রোগীর চাপ, চিকিৎসক সংকট ও শূন্য পদ বিবেচনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে চিকিৎসক পদায়নের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করার দাবি এখন স্থানীয়দের।