Dhaka ০৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গোবিন্দগঞ্জে এসআই শিবলী কায়েসের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার, থানায় জিডি ঘোড়াঘাটে টেন্ডারের এক বছর পরও থমকে আছে সড়ক সংস্কার: দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ দা নিয়ে পুলিশের উপর হামলা আসামীর স্ত্রীর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গোবিন্দগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার পথে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ: আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি চিলমারীতে শিশু আয়শার হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ গাইবান্ধায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: লণ্ডভণ্ড শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি গাইবান্ধায় অজ্ঞাত নারীসহ দুজনের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক মাহমুদুল গণি রিজনের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি আত্রাইয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬ Time View

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হচ্ছে, যা প্রকল্পটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

প্রায় এক যুগের দীর্ঘ পথচলায় মহামারি ও বৈশ্বিক নানা সংকট মোকাবিলা করেও থেমে থাকেনি এই প্রকল্পের অগ্রগতি। এখন এটি পরীক্ষামূলক উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইয়ার-১২০০ প্রযুক্তির এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য সংযোজিত হয়েছে আধুনিক ‘কোর ক্যাচার’ ব্যবস্থা। এটি ৯ মাত্রার ভূমিকম্প এবং ১০–১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসেও টিকে থাকতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে কেন্দ্রটি ৮০–৯০ বছর পর্যন্ত সচল রাখা সম্ভব।

প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন হবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম ফুয়েল বান্ডেল, যেখানে প্রতিটি বান্ডেলে রয়েছে ১৫টি করে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ রড। ইতোমধ্যে ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি সংরক্ষণে রাখা হবে। এসব বান্ডেল চুল্লিতে স্থাপন করতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হবে, যা পানি বাষ্পে রূপান্তর করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন হতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে এবং এরপর আরও ১৫ দিন বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে এই ধাপ শেষ হবে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় দুই মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে পারমাণবিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এর আগে নন-নিউক্লিয়ার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরই এই ধাপের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ধাপে ধাপে উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করা হবে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্ট থেকে জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যেতে সময় লাগতে পারে আগামী বছর পর্যন্ত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গোবিন্দগঞ্জে এসআই শিবলী কায়েসের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার, থানায় জিডি

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

Update Time : ১২:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হচ্ছে, যা প্রকল্পটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

প্রায় এক যুগের দীর্ঘ পথচলায় মহামারি ও বৈশ্বিক নানা সংকট মোকাবিলা করেও থেমে থাকেনি এই প্রকল্পের অগ্রগতি। এখন এটি পরীক্ষামূলক উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইয়ার-১২০০ প্রযুক্তির এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য সংযোজিত হয়েছে আধুনিক ‘কোর ক্যাচার’ ব্যবস্থা। এটি ৯ মাত্রার ভূমিকম্প এবং ১০–১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসেও টিকে থাকতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে কেন্দ্রটি ৮০–৯০ বছর পর্যন্ত সচল রাখা সম্ভব।

প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন হবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম ফুয়েল বান্ডেল, যেখানে প্রতিটি বান্ডেলে রয়েছে ১৫টি করে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ রড। ইতোমধ্যে ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি সংরক্ষণে রাখা হবে। এসব বান্ডেল চুল্লিতে স্থাপন করতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হবে, যা পানি বাষ্পে রূপান্তর করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন হতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে এবং এরপর আরও ১৫ দিন বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে এই ধাপ শেষ হবে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় দুই মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে পারমাণবিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এর আগে নন-নিউক্লিয়ার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরই এই ধাপের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ধাপে ধাপে উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করা হবে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্ট থেকে জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যেতে সময় লাগতে পারে আগামী বছর পর্যন্ত।