
ডেস্ক রিপোর্ট: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ফুরকান মিয়ার বিরুদ্ধে। ভয়ংকর এই ঘটনার পর তিনি নিজেই স্বজনদের ফোন করে হত্যার কথা জানিয়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পরিবার।
শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেন। নিহতরা হলেন— ফুরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
স্বজনদের দাবি, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে বলেন, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে বাড়িতে গিয়ে সবাই দেখতে পান ভয়াবহ দৃশ্য। ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল তিন শিশুর মরদেহ। শারমিনের মরদেহ পাওয়া যায় জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায়, আর রসুল মিয়ার মরদেহ ছিল বিছানার ওপর।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, কোকাকোলার বোতল ও রান্না করা পায়েশ উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া মরদেহের পাশে কিছু প্রিন্ট করা কাগজও পাওয়া যায়। সেগুলো ঘেঁটে পুলিশ জানতে পারে, এর আগে ফুরকান তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাত ও পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফুরকান পলাতক রয়েছেন। তাকে ধরতে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া।

Reporter Name 







