
ডেস্ক রিপোর্ট:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি উজ্জ্বল আকন্দের বাড়ি ভাঙচুর ও তাঁর স্বজনদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সোমবার উজ্জ্বল আকন্দ বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এর আগে, রবিবার বিকালে ওই ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় নয়নপুর গ্রামের ছকু আকন্দ (৫৫), তাঁর স্ত্রী মোর্শেদা বেগম (৪০) ও মনজুরুল ইসলামকে (৪২) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকাল ৪টার দিকে উজ্জ্বল আকন্দের চাচাতো ভাই শাহিন মিয়া রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মাদারগঞ্জ হাট থেকে নিজের ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বাড়ির অদূরে নয়নপুর গ্রামের জামে মসজিদের সামনে ১৩-১৪ জনের একদল দুর্বৃত্ত লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর গতিরোধ করে। এ সময় তারা ভ্যানটি ভাঙচুর করে এবং শাহিনকে মারধর করে। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে বাধা দিলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে শাহিন ও তাঁর স্বজনরা দৌড়ে উজ্জ্বল আকন্দের বাড়িতে আশ্রয় নিলে দুর্বৃত্তরা সেখানে গিয়েও তাঁদের মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
উজ্জ্বল আকন্দ অভিযোগ করে জানান, দুর্বৃত্তরা তাঁর চাচা ছকু আকন্দ ও চাচাতো ভাই ইউনুস আকন্দের ঘরবাড়িও ভাঙচুর করেছে। তাঁর দাবি, স্বজনরা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব পারভেজ সরকারও একই দাবি করেছেন।
তবে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, কোনো রাজনৈতিক কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় বাজারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে এই মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দ্বন্দ্বটি পারিবারিক নাকি রাজনৈতিক কারণে হয়েছে, তা অনুসন্ধানে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Reporter Name 







