
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গমুখী ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ও পশুবাহী যানবাহনের ভোগান্তি কমাতে খুলে দেওয়া হয়েছে নির্মাণাধীন হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের বগুড়া-রংপুরগামী ফ্লাইওভার লেন। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন এই লেনটি চালু করা হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, এর ফলে এবারের ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারের চিরচেনা যানজট অনেকটাই কমবে এবং যাতায়াত হবে স্বস্তিদায়ক।
শনিবার (২৩ মে) সকালে হাটিকুমরুল এলাকায় সরজমিনে চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই মোড়ের যানজট ছিল উত্তরাঞ্চলের মানুষের বড় দুর্ভোগের কারণ। তবে নতুন লেন চালুর ফলে এবার পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হবে বলে তারা মনে করছেন।
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বরকে বলা হয় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। এখান থেকেই ঢাকা, পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া ও রংপুরমুখী যানবাহন বিভিন্ন মহাসড়কে বিভক্ত হয়ে যায়। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন এই মোড় দিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও, ঈদকে ঘিরে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছায়। ফলে প্রতিবছরই এই এলাকায় মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো।
ঢাকা থেকে রংপুরগামী বাসচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদের আগে লেনটি চালু হওয়ায় যাত্রীদের যাত্রা এবার অনেকটাই স্বস্তির হবে। অতিরিক্ত গাড়ির চাপ থাকলেও আগের মতো দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হবে না।” বগুড়াগামী যাত্রী কামাল হোসেনের ভাষ্য, হাটিকুমরুল মোড় মানেই ছিল দুর্ভোগ। নতুন লেন চালুর কারণে এবার ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফেরা যাবে বলে আশা করছেন তিনি। পলাশবাড়ীগামী ট্রাকচালক হামিদুল বলেন, “ঈদের সময় পশুবাহী যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যায়। নতুন লেন চালু হওয়ায় মালবাহী ও পশুবাহী গাড়িগুলো দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।”
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিক বাড়ে। বিশেষ করে পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী পরিবহন একসঙ্গে চলাচল করায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নতুন লেনটি সেই চাপ সামলাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
সাসেক-২ প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক সরফরাজ হোসাইন জানান, উত্তরবঙ্গগামী প্রায় ৬০ শতাংশ যানবাহন এই নতুন লেন ব্যবহার করতে পারবে। প্রায় ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের এই হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের মূল কাজ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “ঘরমুখো মানুষ ও পশুবাহী পরিবহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে জেলার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা মহাসড়কে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।”

Reporter Name 







