Dhaka ০১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু শ্বশুরবাড়িতে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামাইয়ের মৃত্যু  চিলমারীতে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ডুবে গেছে ৭টি নৌকা সুন্দরগঞ্জে বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন নওগাঁয় বাসের বক্সের ঢাকনার আঘাতে অটোরিকশার ১ যাত্রী নিহত, আহত ২ শিশু   সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বকাপে জিতবে কোন দল? গোবিন্দগঞ্জে এক মানসিক রোগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে পুড়ছে দেশ, জুনে ২-৩ দফা তাপপ্রবাহের আভাস মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা ইরানের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিখোঁজ বাবা: ৫৪ বছর পর বাংলাদেশে জন্মভিটার সন্ধান পেল পাকিস্তানে বেড়ে ওঠা ছেলে

উত্তরের মাঠে কৃষকের পরম বন্ধু ‘কৃষক ছাউনি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ৩৯ Time View

স্টাফ রিপোর্ট:

তীব্র রোদ কিংবা আচমকা বজ্রবৃষ্টি-খোলা মাঠে কাজ করা কৃষকদের জন্য প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ বরাবরই এক আতঙ্কের নাম। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আকস্মিক বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের জন্য স্বস্তির আলো ছড়াচ্ছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, যার নাম ‘কৃষক ছাউনি’। মাঠের মাঝখানে এক চিলতে পাকা ছাদ এখন এই অঞ্চলের অন্নদাতাদের জন্য পরম আশ্রয়ের জায়গা হয়ে উঠেছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন কৃষকেরা। কিন্তু খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই তাদের পড়তে হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে। কৃষকদের জীবনের এই ঝুঁকি কমাতে এবং একটু স্বস্তি দিতে নেওয়া হয়েছে এক মানবিক উদ্যোগ।

উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০২২ সালে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে ৫টি ‘কৃষক ছাউনি’ নির্মাণ করা হয়। চারপাশ খোলা, ওপরে পাকা ছাদ এবং বসার সুব্যবস্থা সম্বলিত এই ছাউনিগুলো বর্তমানে মাঠের কৃষকদের কাছে এক নিরাপদ ঠিকানা।

শিবরাম গ্রামের স্থানীয়   কৃষক আলীম উদ্দিন মিয়া স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, “আগে মেঘ ডাকলে ভয়ে মাঠ থুইয়া দৌড় দেওয়া লাগত। এ্যালা (এখন) বাড়িত যাওয়ার আগেই এই ছাউনির নিচে আশ্রয় নিবার পারি। রোইদ লাগলে একনা জিরি নেই (বিশ্রাম নেই)। এটা আমাগোরে খুব উপকার হইছে।”

শুধু রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষাই নয়, তপ্ত দুপুরে একটু জিরিয়ে নেওয়া কিংবা দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্যও কৃষকেরা এখন এই ছাউনি ব্যবহার করছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি কৃষকদের জন্য একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুন্দরগঞ্জের এই ‘কৃষক ছাউনি’ মডেলটি জলবায়ু পরিবর্তনের এই ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে সারা দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের ফসলি মাঠে যদি সরকারি উদ্যোগে এমন ছাউনি নির্মাণ করা হয়, তবে কৃষকদের আকস্মিক বজ্রপাতের মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশেই কমে আসবে।

কৃষকের জীবন নিরাপদ হলে নিশ্চিত হবে দেশের কৃষির সমৃদ্ধি-এমনটাই প্রত্যাশা সুন্দরগঞ্জবাসীর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

উত্তরের মাঠে কৃষকের পরম বন্ধু ‘কৃষক ছাউনি

Update Time : ১২:১৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্ট:

তীব্র রোদ কিংবা আচমকা বজ্রবৃষ্টি-খোলা মাঠে কাজ করা কৃষকদের জন্য প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ বরাবরই এক আতঙ্কের নাম। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আকস্মিক বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের জন্য স্বস্তির আলো ছড়াচ্ছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, যার নাম ‘কৃষক ছাউনি’। মাঠের মাঝখানে এক চিলতে পাকা ছাদ এখন এই অঞ্চলের অন্নদাতাদের জন্য পরম আশ্রয়ের জায়গা হয়ে উঠেছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন কৃষকেরা। কিন্তু খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই তাদের পড়তে হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে। কৃষকদের জীবনের এই ঝুঁকি কমাতে এবং একটু স্বস্তি দিতে নেওয়া হয়েছে এক মানবিক উদ্যোগ।

উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০২২ সালে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে ৫টি ‘কৃষক ছাউনি’ নির্মাণ করা হয়। চারপাশ খোলা, ওপরে পাকা ছাদ এবং বসার সুব্যবস্থা সম্বলিত এই ছাউনিগুলো বর্তমানে মাঠের কৃষকদের কাছে এক নিরাপদ ঠিকানা।

শিবরাম গ্রামের স্থানীয়   কৃষক আলীম উদ্দিন মিয়া স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, “আগে মেঘ ডাকলে ভয়ে মাঠ থুইয়া দৌড় দেওয়া লাগত। এ্যালা (এখন) বাড়িত যাওয়ার আগেই এই ছাউনির নিচে আশ্রয় নিবার পারি। রোইদ লাগলে একনা জিরি নেই (বিশ্রাম নেই)। এটা আমাগোরে খুব উপকার হইছে।”

শুধু রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষাই নয়, তপ্ত দুপুরে একটু জিরিয়ে নেওয়া কিংবা দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্যও কৃষকেরা এখন এই ছাউনি ব্যবহার করছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি কৃষকদের জন্য একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুন্দরগঞ্জের এই ‘কৃষক ছাউনি’ মডেলটি জলবায়ু পরিবর্তনের এই ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে সারা দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের ফসলি মাঠে যদি সরকারি উদ্যোগে এমন ছাউনি নির্মাণ করা হয়, তবে কৃষকদের আকস্মিক বজ্রপাতের মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশেই কমে আসবে।

কৃষকের জীবন নিরাপদ হলে নিশ্চিত হবে দেশের কৃষির সমৃদ্ধি-এমনটাই প্রত্যাশা সুন্দরগঞ্জবাসীর।