Dhaka ০৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ি দিবস আজ, ২৫ বছরেও মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪ Time View

সুখ বাদশা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
আজ ১৮ এপ্রিল, ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ি দিবস। ২০০১ সালের এই দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বড়াইবাড়ি ছিটমহলে প্রবেশ করে হামলা চালায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘুমন্ত মানুষের ওপর আকস্মিকভাবে এ হামলা চালানো হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ১৮ এপ্রিল দিনটি বড়াইবাড়ি দিবস হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে আসছেন সীমান্তবাসী। তবে ঘটনার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দিবসটি এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা।

বক্তারা বড়াইবাড়ি যুদ্ধে নিহত শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বড়াইবাড়ি দিবসকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোঃ হাসিবুর রহমান হাসিব, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও যুগ্ম আহ্বায়ক কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি; রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান; রৌমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক চেয়ারম্যান; সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু এবং রৌমারী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ মশিউর রহমান পলাশসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

২০০১ সালের ওই ঘটনার পর থেকে বড়াইবাড়ি সীমান্তের মানুষ প্রতিবছর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে আসছেন। সকালে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিফলকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধা জানান।

উল্লেখ্য, সে সময়ের বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) ক্যাম্প ও বড়াইবাড়ি ছিটমহল দখলের বিএসএফের অপচেষ্টা প্রতিহত করেন বিডিআর সদস্য ও স্থানীয় সীমান্তবাসী। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন বিডিআর সদস্য এবং ১৬ জন বিএসএফ সদস্য নিহত হন। আহত হন ছয়জন বাংলাদেশি সাধারণ মানুষ।

প্রায় ৪২ ঘণ্টাব্যাপী সম্মুখযুদ্ধে বড়াইবাড়ি ছিটমহলের বহু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং মর্টার শেল নিক্ষেপে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। স্থানীয় প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ।

যুদ্ধে শহীদ হন নায়েক সুবেদার ওয়াহিদ মিয়া, সিপাহী মাহফুজার রহমান এবং সিপাহী আব্দুল কাদের। তাদের স্মরণে ক্যাম্পের সামনে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে।

রৌমারী ও বড়াইবাড়ি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—১৮ এপ্রিলকে ‘ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ি দিবস’ হিসেবে সরকারিভাবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হোক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ি দিবস আজ, ২৫ বছরেও মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

Update Time : ০৩:৩৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সুখ বাদশা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
আজ ১৮ এপ্রিল, ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ি দিবস। ২০০১ সালের এই দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বড়াইবাড়ি ছিটমহলে প্রবেশ করে হামলা চালায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘুমন্ত মানুষের ওপর আকস্মিকভাবে এ হামলা চালানো হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ১৮ এপ্রিল দিনটি বড়াইবাড়ি দিবস হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে আসছেন সীমান্তবাসী। তবে ঘটনার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দিবসটি এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা।

বক্তারা বড়াইবাড়ি যুদ্ধে নিহত শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বড়াইবাড়ি দিবসকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোঃ হাসিবুর রহমান হাসিব, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও যুগ্ম আহ্বায়ক কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি; রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান; রৌমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক চেয়ারম্যান; সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু এবং রৌমারী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ মশিউর রহমান পলাশসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

২০০১ সালের ওই ঘটনার পর থেকে বড়াইবাড়ি সীমান্তের মানুষ প্রতিবছর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে আসছেন। সকালে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিফলকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধা জানান।

উল্লেখ্য, সে সময়ের বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) ক্যাম্প ও বড়াইবাড়ি ছিটমহল দখলের বিএসএফের অপচেষ্টা প্রতিহত করেন বিডিআর সদস্য ও স্থানীয় সীমান্তবাসী। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন বিডিআর সদস্য এবং ১৬ জন বিএসএফ সদস্য নিহত হন। আহত হন ছয়জন বাংলাদেশি সাধারণ মানুষ।

প্রায় ৪২ ঘণ্টাব্যাপী সম্মুখযুদ্ধে বড়াইবাড়ি ছিটমহলের বহু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং মর্টার শেল নিক্ষেপে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। স্থানীয় প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ।

যুদ্ধে শহীদ হন নায়েক সুবেদার ওয়াহিদ মিয়া, সিপাহী মাহফুজার রহমান এবং সিপাহী আব্দুল কাদের। তাদের স্মরণে ক্যাম্পের সামনে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে।

রৌমারী ও বড়াইবাড়ি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—১৮ এপ্রিলকে ‘ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ি দিবস’ হিসেবে সরকারিভাবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হোক।