Dhaka ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কৃষকের সন্তান থেকে চিকিৎসক হওয়ার পথে শাকিল শনিবার দেশে ফিরছে ৫ প্রবাসীর লাশ, শোকের মাঝেও ঋণের চাপ সাঘাটায় অবৈধ বালু মজুদে জরিমানা করায় এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ সাঘাটায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সহস্রাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১৬ বামনডাঙ্গা জনতা ব্যাংকে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ গাইবান্ধায় টেলিভিশন রিপোর্টিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোবিন্দগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির জালে জব্বার সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ

সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ছেই: মূল্যবৃদ্ধি ও চাকরি সংকটে দিশেহারা ইরান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৮:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ১২১ Time View

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাবে ইরানে নিত্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে, আর লাখো মানুষ পড়ছেন চাকরির সংকটে। ফলে দেশটির অর্থনীতি ক্রমেই চাপে পড়ছে।

সপ্তাহের শুরুতেই দেখা গেছে—খাদ্য, ওষুধ, গাড়ি, ইলেকট্রনিকস থেকে শুরু করে প্রায় সব পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে ১,২০০ ডলারের একটি ২৫৬ জিবি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স তেহরানে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০০ কোটি রিয়াল (প্রায় ২,৭৫০ ডলার) দামে! অনেক দোকান আবার পণ্য বিক্রিতেই অনীহা দেখাচ্ছে।

গাড়ির বাজারেও একই অবস্থা। জনপ্রিয় পিউজো ২০৬-এর দাম পৌঁছেছে প্রায় ৩০০০ কোটি রিয়াল (প্রায় ১৬,৫০০ ডলার)। আমদানিকৃত গাড়ির ক্ষেত্রে সংকট আরও তীব্র—কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

যদিও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলছে, এই দাম বৃদ্ধির পেছনে ‘মনস্তাত্ত্বিক কারণ’ ও ‘ভুয়া মূল্য’ প্রচার দায়ী, বাস্তবে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ছে প্রতিদিন।

বর্তমানে ইরানে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১৭০ মিলিয়ন রিয়ালেরও কম (প্রায় ৯২ ডলার)। সরকার চলতি বছরে মজুরি প্রায় ৬০% বাড়ালেও, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভর্তুকি খুবই কম—প্রতি মাসে ১০ ডলারেরও কম।

একজন তেহরানবাসীর কথায়, “দাম আর বেতনের হিসাব মিলছে না। যা আছে, তা দ্রুত এমন কিছুর পেছনে খরচ করতে হচ্ছে, যার দাম কমবে না—নইলে পরে আর কেনা সম্ভব হবে না।”

চাকরির ক্ষেত্রে বিশাল ধস নেমেছে। সরকার সঠিক সংখ্যা না জানালেও, প্রযুক্তি খাত থেকে ইস্পাত শিল্প—প্রায় সব বড় প্রতিষ্ঠানেই চলছে কর্মী ছাঁটাই।

এর মধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামরিক সংঘাতে ইরান তার সক্ষমতা দেখিয়েছে—এখন অর্থনৈতিক লড়াইয়েও জিততে হবে। ব্যবসায়ীদের কর্মী ছাঁটাই না করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কৃষকের সন্তান থেকে চিকিৎসক হওয়ার পথে শাকিল

সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ছেই: মূল্যবৃদ্ধি ও চাকরি সংকটে দিশেহারা ইরান

Update Time : ০৯:২৮:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাবে ইরানে নিত্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে, আর লাখো মানুষ পড়ছেন চাকরির সংকটে। ফলে দেশটির অর্থনীতি ক্রমেই চাপে পড়ছে।

সপ্তাহের শুরুতেই দেখা গেছে—খাদ্য, ওষুধ, গাড়ি, ইলেকট্রনিকস থেকে শুরু করে প্রায় সব পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে ১,২০০ ডলারের একটি ২৫৬ জিবি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স তেহরানে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০০ কোটি রিয়াল (প্রায় ২,৭৫০ ডলার) দামে! অনেক দোকান আবার পণ্য বিক্রিতেই অনীহা দেখাচ্ছে।

গাড়ির বাজারেও একই অবস্থা। জনপ্রিয় পিউজো ২০৬-এর দাম পৌঁছেছে প্রায় ৩০০০ কোটি রিয়াল (প্রায় ১৬,৫০০ ডলার)। আমদানিকৃত গাড়ির ক্ষেত্রে সংকট আরও তীব্র—কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

যদিও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলছে, এই দাম বৃদ্ধির পেছনে ‘মনস্তাত্ত্বিক কারণ’ ও ‘ভুয়া মূল্য’ প্রচার দায়ী, বাস্তবে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ছে প্রতিদিন।

বর্তমানে ইরানে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১৭০ মিলিয়ন রিয়ালেরও কম (প্রায় ৯২ ডলার)। সরকার চলতি বছরে মজুরি প্রায় ৬০% বাড়ালেও, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভর্তুকি খুবই কম—প্রতি মাসে ১০ ডলারেরও কম।

একজন তেহরানবাসীর কথায়, “দাম আর বেতনের হিসাব মিলছে না। যা আছে, তা দ্রুত এমন কিছুর পেছনে খরচ করতে হচ্ছে, যার দাম কমবে না—নইলে পরে আর কেনা সম্ভব হবে না।”

চাকরির ক্ষেত্রে বিশাল ধস নেমেছে। সরকার সঠিক সংখ্যা না জানালেও, প্রযুক্তি খাত থেকে ইস্পাত শিল্প—প্রায় সব বড় প্রতিষ্ঠানেই চলছে কর্মী ছাঁটাই।

এর মধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামরিক সংঘাতে ইরান তার সক্ষমতা দেখিয়েছে—এখন অর্থনৈতিক লড়াইয়েও জিততে হবে। ব্যবসায়ীদের কর্মী ছাঁটাই না করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।