Dhaka ০৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরিয়া ছাড়ল যুক্তরাষ্ট্র: এক দশকের সামরিক অধ্যায়ের সমাপ্তি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩০ Time View

ডেস্ক রিপোর্ট: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণে, বদলাতে পারে শক্তির ভারসাম্য। এক যুগের অবসান—প্রায় ১০ বছর পর অবশেষে সিরিয়ার মাটিতে আর নেই মার্কিন সেনা।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হাসাকাহ অঞ্চলের কাসরাক ঘাঁটি ত্যাগের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি।

২০১৫ সালে তথাকথিত আইএস দমনের লক্ষ্যে সিরিয়ায় প্রবেশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সময়ের সাথে সেই উপস্থিতি শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাবও বিস্তার করেছিল পুরো অঞ্চলে। কিন্তু এখন সেই অধ্যায়ের ইতি।
মার্কিন সেনারা সরে যাওয়ার পরপরই সিরীয় সেনাবাহিনী দ্রুত ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। জানা গেছে, সম্ভাব্য হামলা এড়াতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জর্ডান সীমান্ত হয়ে সরানো হয়েছে সেনা ও সরঞ্জাম।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নয়—বরং দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ফল। সিরিয়ার নতুন সরকার, কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার ফলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে মার্কিন উপস্থিতি আর প্রয়োজনীয় মনে করা হচ্ছে না।

২০২৪ সালে গৃহযুদ্ধের অবসানের পর নতুন নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসে। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এখন সিরিয়া নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব নিজেই নিতে প্রস্তুত। এদিকে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে আঞ্চলিক রাজনীতিও।

তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা, ইরান-সম্পর্কিত ঝুঁকি, এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘটনাগুলো সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘যুদ্ধ কমানো’কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই পদক্ষেপকে।

সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায় শুধু একটি সামরিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যার প্রভাব ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সিরিয়া ছাড়ল যুক্তরাষ্ট্র: এক দশকের সামরিক অধ্যায়ের সমাপ্তি

Update Time : ০২:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণে, বদলাতে পারে শক্তির ভারসাম্য। এক যুগের অবসান—প্রায় ১০ বছর পর অবশেষে সিরিয়ার মাটিতে আর নেই মার্কিন সেনা।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হাসাকাহ অঞ্চলের কাসরাক ঘাঁটি ত্যাগের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি।

২০১৫ সালে তথাকথিত আইএস দমনের লক্ষ্যে সিরিয়ায় প্রবেশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সময়ের সাথে সেই উপস্থিতি শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাবও বিস্তার করেছিল পুরো অঞ্চলে। কিন্তু এখন সেই অধ্যায়ের ইতি।
মার্কিন সেনারা সরে যাওয়ার পরপরই সিরীয় সেনাবাহিনী দ্রুত ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। জানা গেছে, সম্ভাব্য হামলা এড়াতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জর্ডান সীমান্ত হয়ে সরানো হয়েছে সেনা ও সরঞ্জাম।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নয়—বরং দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ফল। সিরিয়ার নতুন সরকার, কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার ফলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে মার্কিন উপস্থিতি আর প্রয়োজনীয় মনে করা হচ্ছে না।

২০২৪ সালে গৃহযুদ্ধের অবসানের পর নতুন নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসে। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এখন সিরিয়া নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব নিজেই নিতে প্রস্তুত। এদিকে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে আঞ্চলিক রাজনীতিও।

তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা, ইরান-সম্পর্কিত ঝুঁকি, এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘটনাগুলো সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘যুদ্ধ কমানো’কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই পদক্ষেপকে।

সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায় শুধু একটি সামরিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যার প্রভাব ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।