Dhaka ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি লাওসে এশিয়া ন্যাশনাল ওয়াটার কনসালটেটিভ মিটিংয়ে এমপি মিলন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার সবসময় থাকবে: এমপি মমতাজ আলো আড়াই বছর ধরে আটকে গাইবান্ধার ৯ সেতুর কাজ, ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় দুর্ভোগে মানুষ ধ্বংস আর মৃত্যুর মাঝেও ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল কর্মশালা অনুষ্ঠিত নিরাপদ নওগাঁ গঠনে শিক্ষার্থীদের সাথে র‍্যাবের মতবিনিময় সভা অভিভাবকের উদাসীনতাই তরুণ প্রজন্মের অবক্ষয়ের জন্য দায়ী? এবার সয়াবিন তেলে মিলল বিপুল পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক

সুন্দরগঞ্জের হাট-বাজারে নেই টোল আদায়ের তালিকা, ভোগান্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতারা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছোট-বড় কোনো হাট-বাজারেই সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী টোল আদায়ের চার্ট বা তালিকা ঝুলানো নেই। এই সুযোগে ইজারাদাররা তাদের ইচ্ছেমতো টোল আদায় করছেন। ফলে প্রতিটি হাটে কেনাবেচা করতে আসা সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় হাটগুলোতে এখন চলছে ইজারাদারদের ‘পকেট কাটার’ মহোৎসব।

সরেজমিনে হাট-বাজারের চিত্র:
উপজেলার শোভাগঞ্জ হাট, মীরগঞ্জ হাট, পাঁচপীর বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও টোল আদায়ের সরকারি রেট চার্ট টাঙানো হয়নি। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি হাটের প্রবেশমুখে বা প্রকাশ্য স্থানে বড় সাইনবোর্ডে টোল চার্ট থাকা বাধ্যতামূলক।

ইচ্ছেমতো আদায় হচ্ছে টোল:
হাটগুলোতে আসা ক্ষুদ্র সাধারণ বিক্রেতাদের অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে।
“ভুক্তভোগী বিক্রেতার ক্ষোভ: এক প্রান্তিক কৃষক বলেন, “হামরা দুইটা ছাগল নিয়া আসছি, কিন্তু ইজারাদারের লোকরা যে টাকা চাচ্ছে তাতে লাভের বড় অংশই টোল দিতে চলে যাচ্ছে। কোনো তালিকা নাই, যা চাচ্ছে তাই দেওয়া লাগছে।”

অতিরিক্ত টোলের চাপ:
সবজি বাজার থেকে শুরু করে গবাদি পশুর হাট সবখানেই অতিরিক্ত টোলের চাপে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ বিক্রেতারা। প্রতিবাদ করলে ইজারাদারের লোকদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ও থাকে অনেকের মনে।

নীতিমালার তোয়াক্কা নেই:
সরকারি বিধি মোতাবেক, হাটে পণ্যভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আদায়ের নিয়ম থাকলেও ইজারাদাররা সেই নিয়ম তোয়াক্কা করছেন না। কোনো কোনো হাটে রসিদ দেওয়া হলেও তাতে টাকার অংক উল্লেখ থাকছে না ।

কর্তৃপক্ষের নীরবতা:
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটের এই অনিয়ম নিয়ে উপজেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের এই নীরবতাকে ইজারাদারদের জন্য ‘লাইসেন্স’ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।

উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য:
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “হাট-বাজারে নির্ধারিত টোলের তালিকা টাঙ্গানো বাধ্যতামূলক। আমরা অভিযোগ পেলে প্রতিটি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব এবং নির্দেশ অমান্যকারী ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দাবি:
বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা এবং অবিলম্বে প্রতিটি হাট-বাজারে দৃশ্যমান স্থানে সরকারি টোল চার্ট স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জবাসী। অন্যথায় অতিরিক্ত টোলের এই প্রভাব সাধারণ বাজারের পণ্যের মূল্যের ওপর পড়ছে, যা মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্তদের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

সুন্দরগঞ্জের হাট-বাজারে নেই টোল আদায়ের তালিকা, ভোগান্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতারা

Update Time : ০৪:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছোট-বড় কোনো হাট-বাজারেই সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী টোল আদায়ের চার্ট বা তালিকা ঝুলানো নেই। এই সুযোগে ইজারাদাররা তাদের ইচ্ছেমতো টোল আদায় করছেন। ফলে প্রতিটি হাটে কেনাবেচা করতে আসা সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় হাটগুলোতে এখন চলছে ইজারাদারদের ‘পকেট কাটার’ মহোৎসব।

সরেজমিনে হাট-বাজারের চিত্র:
উপজেলার শোভাগঞ্জ হাট, মীরগঞ্জ হাট, পাঁচপীর বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও টোল আদায়ের সরকারি রেট চার্ট টাঙানো হয়নি। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি হাটের প্রবেশমুখে বা প্রকাশ্য স্থানে বড় সাইনবোর্ডে টোল চার্ট থাকা বাধ্যতামূলক।

ইচ্ছেমতো আদায় হচ্ছে টোল:
হাটগুলোতে আসা ক্ষুদ্র সাধারণ বিক্রেতাদের অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে।
“ভুক্তভোগী বিক্রেতার ক্ষোভ: এক প্রান্তিক কৃষক বলেন, “হামরা দুইটা ছাগল নিয়া আসছি, কিন্তু ইজারাদারের লোকরা যে টাকা চাচ্ছে তাতে লাভের বড় অংশই টোল দিতে চলে যাচ্ছে। কোনো তালিকা নাই, যা চাচ্ছে তাই দেওয়া লাগছে।”

অতিরিক্ত টোলের চাপ:
সবজি বাজার থেকে শুরু করে গবাদি পশুর হাট সবখানেই অতিরিক্ত টোলের চাপে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ বিক্রেতারা। প্রতিবাদ করলে ইজারাদারের লোকদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ও থাকে অনেকের মনে।

নীতিমালার তোয়াক্কা নেই:
সরকারি বিধি মোতাবেক, হাটে পণ্যভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আদায়ের নিয়ম থাকলেও ইজারাদাররা সেই নিয়ম তোয়াক্কা করছেন না। কোনো কোনো হাটে রসিদ দেওয়া হলেও তাতে টাকার অংক উল্লেখ থাকছে না ।

কর্তৃপক্ষের নীরবতা:
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটের এই অনিয়ম নিয়ে উপজেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের এই নীরবতাকে ইজারাদারদের জন্য ‘লাইসেন্স’ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।

উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য:
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “হাট-বাজারে নির্ধারিত টোলের তালিকা টাঙ্গানো বাধ্যতামূলক। আমরা অভিযোগ পেলে প্রতিটি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব এবং নির্দেশ অমান্যকারী ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দাবি:
বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা এবং অবিলম্বে প্রতিটি হাট-বাজারে দৃশ্যমান স্থানে সরকারি টোল চার্ট স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জবাসী। অন্যথায় অতিরিক্ত টোলের এই প্রভাব সাধারণ বাজারের পণ্যের মূল্যের ওপর পড়ছে, যা মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্তদের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।