Dhaka ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
অসহায় নারীর জমিসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ, থানায় মেলেনি প্রতিকার গাইবান্ধায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকের পুরস্কার বিতরণ গোবিন্দগঞ্জে বিষাক্ত মদপানে যুবকের মৃত্যু, অসুস্থ ২ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু শ্বশুরবাড়িতে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামাইয়ের মৃত্যু  চিলমারীতে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ডুবে গেছে ৭টি নৌকা সুন্দরগঞ্জে বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন নওগাঁয় বাসের বক্সের ঢাকনার আঘাতে অটোরিকশার ১ যাত্রী নিহত, আহত ২ শিশু   সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বকাপে জিতবে কোন দল?

এলজিইডি-পাউবো:দায়িত্বে টানাপোড়েন ঝুঁকিপূর্ণ সাঘাটা-জুমারবাড়ি সড়ক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
  • ১৬৩ Time View

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা:

স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর দায়িত্বে টানাপোড়েনের কারণে ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে উঠেছে সাঘাটা-জুমারবাড়ি সড়ক। পাউবো বাঁধের উপর এলজিইডি’র নির্মিত ৫কিলোমিটার এলাকার এই সড়কে অন্ততপক্ষে অর্ধশত স্থানে খানাখন্দ ও ধ্বস নামায় বন্ধপ্রায়  যানবাহন চলাচল।

সাঘাটার ডাকবাংলা থেকে জুমারবাড়ি পর্যন্ত সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কপথ। এই সড়কটি একদিকে যেমন বন্যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে অন্যদিকে গাইবান্ধা থেকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও মোকামতলা হয়ে বগুড়ার যাতায়াতের অন্যতম যোগাযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রতিদিন সিএনজি, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরণের পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করলেও গত সপ্তাহ থেকে বৃষ্টির পানি জমে সড়কের প্রায় অর্ধশত স্থানে ভেঙ্গে ধ্বসে যাওয়ায় বড় যানবাহন চলাচল পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। কোনমতে মটরসাইকেল অটোরিক্সা চললেও ঘটছে দুর্ঘটনা। গত একমাসে ছোট-বড় ১৬টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এই সড়কটি যানবাহন চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের সাথে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন পড়েছেন সিএনজি চালকেরা।

অপরদিকে, বিকল্প কোন সড়ক না থাকায় দুর—দুরান্তের চালকেরা যানবাহন নিয়ে এই সড়কে আসলেও বাধ্য হয়ে ফেরত যাচ্ছেন। সাঘাটার সিএনজি চালক হাফিজার রহমান বলেন, সাঘাটা ডাকবাংলা থেকে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ৪০ থেকে ৫০টি সিএনজি জুমারবাড়ি হয়ে বগুড়ায় চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে এখন চলাচল বন্ধপ্রায়। এতে করে যাত্রীদের বিরম্বার সাথে আমাদের আয় রোজগারও বন্ধ হয়েছে।

সাঘাটা বাজারের ব্যবসায়ী আকতার হোসেন, ঢাকা থেকে মালামাল ট্রাকে করে সাঘাটা বাজারে আনতে জুমারবাড়ি সড়কটি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন বন্ধ হওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ি, গাইবান্ধা, ভরতখালী হয়ে ৭০ কিলোমিটার ঘুরে আসতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি যাচ্ছে।

জুমারবাড়ি বাজারের লিটন মিয়া বলেন, গতবছর সড়কটি সংস্কার হয়েছে আর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি মেরামত কাজ চললেও দেখে মনে হবে না এটি আসলে কী হয়েছে। কাজের মধ্যে ধ্বসে যাচ্ছে শেষ হলে তো আর কেউ দেখবে না।

তবে, পানি নিষ্কানের ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটি দুর্বল হয়ে পড়ে এক বছরের মধ্যে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান। স্থানীয়রা ধ্বসে যাওয়া স্থানে বালুর বস্তা ও লাল কাপড় দিয়ে সতর্কতা করে দিয়েছেন।

সাঘাটা বাজারের জাকির হোসেন জানান জুমারবাড়ির সাথে সাঘাটা থানার একমাত্র সড়ক এটি, কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকির অভাবে সড়ক আরো বেশি ঝুঁকিপর্ণ হয়ে উঠছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে  সাঘাটার বাশহাটা থেকে জুমারবাড়ি পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সংস্কারের ২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পগ্রহণ করে। প্রথমে বাঁধের পাশ থেকে মাটি তুলে সংস্কার করা হলেও পরবতীর্তে যমুনা নদী থেকে বালু এনে সংস্কার করা হয়। তবে, বাঁধের মাটি কেটে বাঁধে দেওয়ায় বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এলজিইডির সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী নয়ন বাবু জানান, এই মুহুর্তে সংস্কার বা মেরামত করার সুযোগ নেই, কেননা এই বাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণ এর দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। এলজিইডি শুধুমাত্র পাকা রাস্তা সংস্কার করতে পারবে, কিন্তু বাঁধের বড় বড় গর্ত সংস্কারের দায়িত্বও তাদের। এজন্য তিনি পাউবোকেই এগিয়ে আসার কথা জানান।

পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক, বৃষ্টির কারণে বাঁধটির ক্ষতি হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এটির সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে, এটির পরবতীর্ দায়িত্ব এলজিইডিকেই নিতে হবে। কেননা আগে বাঁধের দু’পাশেই পানি নামতো, কিন্তু এখন পূর্বপাশে উচু করে দেওয়ায় পানি একদিকে গড়ছে এতে করে ধ্বসে যাচ্ছে। এজন্য এলজিইডির উচিত পানি নিষ্কাষনে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

অসহায় নারীর জমিসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ, থানায় মেলেনি প্রতিকার

এলজিইডি-পাউবো:দায়িত্বে টানাপোড়েন ঝুঁকিপূর্ণ সাঘাটা-জুমারবাড়ি সড়ক

Update Time : ০১:৩২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা:

স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর দায়িত্বে টানাপোড়েনের কারণে ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে উঠেছে সাঘাটা-জুমারবাড়ি সড়ক। পাউবো বাঁধের উপর এলজিইডি’র নির্মিত ৫কিলোমিটার এলাকার এই সড়কে অন্ততপক্ষে অর্ধশত স্থানে খানাখন্দ ও ধ্বস নামায় বন্ধপ্রায়  যানবাহন চলাচল।

সাঘাটার ডাকবাংলা থেকে জুমারবাড়ি পর্যন্ত সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কপথ। এই সড়কটি একদিকে যেমন বন্যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে অন্যদিকে গাইবান্ধা থেকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও মোকামতলা হয়ে বগুড়ার যাতায়াতের অন্যতম যোগাযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রতিদিন সিএনজি, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরণের পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করলেও গত সপ্তাহ থেকে বৃষ্টির পানি জমে সড়কের প্রায় অর্ধশত স্থানে ভেঙ্গে ধ্বসে যাওয়ায় বড় যানবাহন চলাচল পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। কোনমতে মটরসাইকেল অটোরিক্সা চললেও ঘটছে দুর্ঘটনা। গত একমাসে ছোট-বড় ১৬টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এই সড়কটি যানবাহন চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের সাথে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন পড়েছেন সিএনজি চালকেরা।

অপরদিকে, বিকল্প কোন সড়ক না থাকায় দুর—দুরান্তের চালকেরা যানবাহন নিয়ে এই সড়কে আসলেও বাধ্য হয়ে ফেরত যাচ্ছেন। সাঘাটার সিএনজি চালক হাফিজার রহমান বলেন, সাঘাটা ডাকবাংলা থেকে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ৪০ থেকে ৫০টি সিএনজি জুমারবাড়ি হয়ে বগুড়ায় চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে এখন চলাচল বন্ধপ্রায়। এতে করে যাত্রীদের বিরম্বার সাথে আমাদের আয় রোজগারও বন্ধ হয়েছে।

সাঘাটা বাজারের ব্যবসায়ী আকতার হোসেন, ঢাকা থেকে মালামাল ট্রাকে করে সাঘাটা বাজারে আনতে জুমারবাড়ি সড়কটি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন বন্ধ হওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ি, গাইবান্ধা, ভরতখালী হয়ে ৭০ কিলোমিটার ঘুরে আসতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি যাচ্ছে।

জুমারবাড়ি বাজারের লিটন মিয়া বলেন, গতবছর সড়কটি সংস্কার হয়েছে আর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি মেরামত কাজ চললেও দেখে মনে হবে না এটি আসলে কী হয়েছে। কাজের মধ্যে ধ্বসে যাচ্ছে শেষ হলে তো আর কেউ দেখবে না।

তবে, পানি নিষ্কানের ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটি দুর্বল হয়ে পড়ে এক বছরের মধ্যে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান। স্থানীয়রা ধ্বসে যাওয়া স্থানে বালুর বস্তা ও লাল কাপড় দিয়ে সতর্কতা করে দিয়েছেন।

সাঘাটা বাজারের জাকির হোসেন জানান জুমারবাড়ির সাথে সাঘাটা থানার একমাত্র সড়ক এটি, কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকির অভাবে সড়ক আরো বেশি ঝুঁকিপর্ণ হয়ে উঠছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে  সাঘাটার বাশহাটা থেকে জুমারবাড়ি পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সংস্কারের ২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পগ্রহণ করে। প্রথমে বাঁধের পাশ থেকে মাটি তুলে সংস্কার করা হলেও পরবতীর্তে যমুনা নদী থেকে বালু এনে সংস্কার করা হয়। তবে, বাঁধের মাটি কেটে বাঁধে দেওয়ায় বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এলজিইডির সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী নয়ন বাবু জানান, এই মুহুর্তে সংস্কার বা মেরামত করার সুযোগ নেই, কেননা এই বাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণ এর দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। এলজিইডি শুধুমাত্র পাকা রাস্তা সংস্কার করতে পারবে, কিন্তু বাঁধের বড় বড় গর্ত সংস্কারের দায়িত্বও তাদের। এজন্য তিনি পাউবোকেই এগিয়ে আসার কথা জানান।

পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক, বৃষ্টির কারণে বাঁধটির ক্ষতি হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এটির সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে, এটির পরবতীর্ দায়িত্ব এলজিইডিকেই নিতে হবে। কেননা আগে বাঁধের দু’পাশেই পানি নামতো, কিন্তু এখন পূর্বপাশে উচু করে দেওয়ায় পানি একদিকে গড়ছে এতে করে ধ্বসে যাচ্ছে। এজন্য এলজিইডির উচিত পানি নিষ্কাষনে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।