Dhaka ১০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নওগাঁর পাহাড়পুরে চীনা পর্যটককে হেনস্তা: টিকটকার ‘হিরো নানা’ আটক বামনডাঙ্গায় রাতের আঁধারে সিন্ডিকেটের ধান সংগ্রহ: ক্ষুব্ধ স্থানীয় কৃষকেরা আর্জেন্টিনাকে হারাতে দরকার নিখুঁত ও সাহসী ফুটবল’: হুঙ্কার অস্ট্রিয়া কোচের মহিমাগঞ্জে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত গাইবান্ধায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশ সদস্যদের এআই প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রশিবিরের নেতা সাইফুল্লা হত্যার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ সাঘাটায় স্কুল কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে ছাত্রশিবির নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আহত ১ চা দিবসে গুণগতমানে শ্রেষ্ঠত্বের পদক পেল ‘মধুপুর চা বাগান’ দারিয়াপুরে বৃক্ষরোপন, ফলদ চারা বিতরণ ও ফল উৎসব অনুষ্ঠিত ১০ লাখে বিক্রি হলেন রুশ সেনাবাহিনীর কাছে: যুদ্ধশিবির থেকে বাংলাদেশি যুবকের বাঁচার আকুতি

চিলমারীতে শিশু আয়শা হত্যা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ, স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • ৫৩ Time View

চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের শিশু আয়শা সিদ্দিকা আশুরা হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী কহিনুর বেগম কনিকা(২৬) কে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে শিউরে ওঠার মতো মর্মান্তিক তথ্য। নিষ্পাপ শিশুকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এই নির্মম ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া।

গ্রেফতারের পর পুলিশকে দেওয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়শার ঘাতক কহিনুর বেগম কনিকা জানায়, ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে তাদের বাড়িতে তার আড়াই বছর বয়সী ছেলে মো.আব্দুল্লাহ কাফির সঙ্গে খেলছিল আয়শা। খেলার একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ’র হাতে থাকা একটি কলমের আঘাতে আয়শার একটি চোখে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। হঠাৎ এমন ঘটনায় ভীত হয়ে পড়ে কহিনুর বেগম কনিকা। বিষয়টি জানাজানি হলে দায় এড়াতে কহিনুর দ্রুত আহত আয়শাকে নিজের ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে এবং পরে ঘরের ভেতরে থাকা একটি ড্রামের মধ্যে আটকে রেখে ড্রামের মুখ আটকিয়ে দেয়। দীর্ঘ সময়পর ড্রামের মুখ খুলে আয়শাকে মৃত অবস্থায় বের করেন।

এরপর ঘটনার আলামত আড়াল করতে ওইদিন রাত ১০টার দিকে তাদের বাড়ির পাশে জনৈক মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিকের পতিত জমিতে বাঁশের কঞ্চির উপর আয়শার নিথর দেহ ফেলে আসে, যেন ঘটনাটি অন্য কোনোভাবে ঘটেছে বলে মনে হয়।

এদিকে, আয়শা নিখোঁজ হওয়ার পর দিনভর স্বজনরা তাকে খুঁজতে থাকেন। কোথাও খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারের সদস্যদের। অবশেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আয়শার মরদেহ উদ্ধার হলে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয়রা। ছোট্ট শিশুটির এমন পরিণতিতে চারদিকে নেমে আসে শোকের ছায়া।

পরে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তথ্য। বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে এই আলোচিত মামলার মূল আসামি কহিনুর বেগম কনিকাকে তার বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০)-কেও গ্রেফতার করা হয়। রাশেদুল ইসলাম আপেল ও কহিনুর বেগম উপজেলার মাচাবান্দা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার ও উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চিলমারীতে শিশু হত্যার ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্র পুলিশ সুপার, কুড়িগ্রাম মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় চিলমারী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ দল দ্রুততম সময়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন ও মূল ঘাতকদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এ হত্যাকান্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা সাহপাড়া এলাকায় গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে বাড়ির পাশে খেলছিল দুই বছর বয়সী আয়শা সিদ্দিকা আশুরা। হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় সে। দিনভর আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজির পর রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নওগাঁর পাহাড়পুরে চীনা পর্যটককে হেনস্তা: টিকটকার ‘হিরো নানা’ আটক

চিলমারীতে শিশু আয়শা হত্যা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ, স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার 

Update Time : ০৩:২৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের শিশু আয়শা সিদ্দিকা আশুরা হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী কহিনুর বেগম কনিকা(২৬) কে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে শিউরে ওঠার মতো মর্মান্তিক তথ্য। নিষ্পাপ শিশুকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এই নির্মম ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া।

গ্রেফতারের পর পুলিশকে দেওয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়শার ঘাতক কহিনুর বেগম কনিকা জানায়, ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে তাদের বাড়িতে তার আড়াই বছর বয়সী ছেলে মো.আব্দুল্লাহ কাফির সঙ্গে খেলছিল আয়শা। খেলার একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ’র হাতে থাকা একটি কলমের আঘাতে আয়শার একটি চোখে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। হঠাৎ এমন ঘটনায় ভীত হয়ে পড়ে কহিনুর বেগম কনিকা। বিষয়টি জানাজানি হলে দায় এড়াতে কহিনুর দ্রুত আহত আয়শাকে নিজের ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে এবং পরে ঘরের ভেতরে থাকা একটি ড্রামের মধ্যে আটকে রেখে ড্রামের মুখ আটকিয়ে দেয়। দীর্ঘ সময়পর ড্রামের মুখ খুলে আয়শাকে মৃত অবস্থায় বের করেন।

এরপর ঘটনার আলামত আড়াল করতে ওইদিন রাত ১০টার দিকে তাদের বাড়ির পাশে জনৈক মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিকের পতিত জমিতে বাঁশের কঞ্চির উপর আয়শার নিথর দেহ ফেলে আসে, যেন ঘটনাটি অন্য কোনোভাবে ঘটেছে বলে মনে হয়।

এদিকে, আয়শা নিখোঁজ হওয়ার পর দিনভর স্বজনরা তাকে খুঁজতে থাকেন। কোথাও খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারের সদস্যদের। অবশেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আয়শার মরদেহ উদ্ধার হলে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয়রা। ছোট্ট শিশুটির এমন পরিণতিতে চারদিকে নেমে আসে শোকের ছায়া।

পরে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তথ্য। বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে এই আলোচিত মামলার মূল আসামি কহিনুর বেগম কনিকাকে তার বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০)-কেও গ্রেফতার করা হয়। রাশেদুল ইসলাম আপেল ও কহিনুর বেগম উপজেলার মাচাবান্দা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার ও উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চিলমারীতে শিশু হত্যার ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্র পুলিশ সুপার, কুড়িগ্রাম মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় চিলমারী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ দল দ্রুততম সময়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন ও মূল ঘাতকদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এ হত্যাকান্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা সাহপাড়া এলাকায় গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে বাড়ির পাশে খেলছিল দুই বছর বয়সী আয়শা সিদ্দিকা আশুরা। হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় সে। দিনভর আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজির পর রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।