
নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে এক চীনা পর্যটককে হেনস্তা করে টিকটক ভিডিও তৈরি এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে তাকে আটক করা হয়। আটক যুবকের নাম আব্দুল মাবুদ (স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘হিরো নানা’ নামে পরিচিত)। তিনি জয়পুরহাট জেলার চণ্ডীপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আব্দুল মাবুদ ওই চীনা পর্যটককে লক্ষ্য করে অবমাননাকর মন্তব্য করছেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “বাংলা ভাষা যে কঠিনের কঠিন, কিচ্ছু বোঝে না। আচ্ছা বিয়া শাদি করেন নি? খালি হাসে। বাচ্চা কয়টা, তাও হাসে। বাসা কোথায়?…” এরপর ওই পর্যটকের উদ্দেশ্যে কিছু আপত্তিকর ও গালিগালাজসূচক শব্দও ব্যবহার করতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ট্যুরিস্ট পুলিশ জানায়, বিষয়টি নজরে আসার পরই তদন্ত শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে বদলগাছী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা তাহির ইবনে মোহাম্মদ নয়ন বলেন, “একজন বিদেশি পর্যটক আমাদের পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে হেনস্তা হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখলাম, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
রেজাউন নবী স্যান্ডু নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাই। যারা এই ঐতিহাসিক স্থানের সুনাম নষ্ট করছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
তবে অভিযুক্ত আব্দুল মাবুদের ছেলে রাফি দাবি করেছেন, “আমার বাবা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। মজার ছলে আমরা এই ভিডিওটি করেছিলাম।”
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টডিয়ান মোহাম্মদ ফজলুল করিম বলেন, “এই ঘটনায় পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের ব্যাপক সুনাম নষ্ট হয়েছে। অভিযুক্তকে আটক করে বদলগাছী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/পরিদর্শক) মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে চীনা পর্যটককে হেনস্তার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। এই বিষয়ে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

Reporter Name 
















