Dhaka ১২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ব্রহ্মপুত্রের বুকে নৌকার পাটাতনে জন্ম নিলো ফুটফুটে কন্যাশিশু গাইবান্ধায় শতভাগ ফেলের তালিকায় জুমারবাড়ি ও ফকিরহাট মহিলা কলেজ : ৩ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য এইচএসসি: এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষা, সুযোগ পাবেন ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী সুন্দরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল ৫ দোকান, অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি এইচএসসির ফলে বড় ধস: পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই তলানিতে গড় পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ, কোন বোর্ডে পাশের হার কত? কৃষকের সন্তান থেকে চিকিৎসক হওয়ার পথে শাকিল শনিবার দেশে ফিরছে ৫ প্রবাসীর লাশ, শোকের মাঝেও ঋণের চাপ সাঘাটায় অবৈধ বালু মজুদে জরিমানা করায় এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ সাঘাটায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সহস্রাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ

ধ্বংস আর মৃত্যুর মাঝেও ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৫৪ Time View

ডেস্ক রিপোর্ট: গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও গণহত্যার বিরুদ্ধে স্পেনের দৃঢ় অবস্থান এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে বিশ্বকাপ ফাইনালে ইয়ামালদের সমর্থন জানিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ফিলিস্তিনিরা। কিন্তু যে জাতি অন্যের সাফল্যে পাশে দাঁড়িয়েছিল, সেই ফিলিস্তিন আজ নিজের ফুটবলই টিকিয়ে রাখার কঠিন লড়াইয়ে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজার ফুটবল অবকাঠামো প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫৬৮ জন ফুটবলার, কোচ ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ১৭ বছর বয়সী তরুণ ফুটবলার ফাদি আল–নাআসান, যিনি সম্প্রতি ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান। ফিলিস্তিন জাতীয় দলের ফুটবলার মোহাম্মদ রশিদ এই পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞকে আখ্যা দিয়েছেন ‘স্পোর্টিসাইড’—অর্থাৎ একটি জাতির ক্রীড়া ব্যবস্থাকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা।

শুধু গাজাই নয়, পশ্চিম তীরেও গত প্রায় তিন বছর ধরে ঘরোয়া ফুটবল লিগ বন্ধ রয়েছে। অনুশীলনে যাওয়ার পথেই খেলোয়াড়দের গ্রেপ্তারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় দলের দুই নারী ফুটবলার রান্দ হালাওয়ানি ও নাতালি আবু দিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এদিকে সাবেক জাতীয় ফুটবলার আহমেদ আবু খাদিজাকে ১৭ মাস বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছিল। আল–বিরেহ শহরের অনুশীলন মাঠগুলোর পাশেই রয়েছে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি। ফলে সেখানকার তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিটি অনুশীলনই অনিশ্চয়তা আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করতে হয়।

জাতীয় নারী দলের সদস্য সারা শাখশির বলেন, “ইসরায়েল হয়তো একজন ফুটবলারকে বন্দি করতে পারে, মাঠ ধ্বংস করে দিতে পারে, কিন্তু ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব মুছে ফেলার চক্রান্ত কখনোই সফল হবে না।“

এমন পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দখলকৃত এলাকায় অংশ নেওয়া ইসরায়েলি ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংস্থাটি।

তবে সব বাধা পেরিয়ে আশার খবরও দিয়েছেন ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই ঘরোয়া ফুটবলের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের কাছে এই লড়াই এখন আর শুধু ফুটবল নয়—এটি বেঁচে থাকা, নিজের পরিচয় এবং অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক।

সূত্র: দ্য নিউ আরব

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ব্রহ্মপুত্রের বুকে নৌকার পাটাতনে জন্ম নিলো ফুটফুটে কন্যাশিশু

ধ্বংস আর মৃত্যুর মাঝেও ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা

Update Time : ০১:৩০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও গণহত্যার বিরুদ্ধে স্পেনের দৃঢ় অবস্থান এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে বিশ্বকাপ ফাইনালে ইয়ামালদের সমর্থন জানিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ফিলিস্তিনিরা। কিন্তু যে জাতি অন্যের সাফল্যে পাশে দাঁড়িয়েছিল, সেই ফিলিস্তিন আজ নিজের ফুটবলই টিকিয়ে রাখার কঠিন লড়াইয়ে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজার ফুটবল অবকাঠামো প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫৬৮ জন ফুটবলার, কোচ ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ১৭ বছর বয়সী তরুণ ফুটবলার ফাদি আল–নাআসান, যিনি সম্প্রতি ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান। ফিলিস্তিন জাতীয় দলের ফুটবলার মোহাম্মদ রশিদ এই পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞকে আখ্যা দিয়েছেন ‘স্পোর্টিসাইড’—অর্থাৎ একটি জাতির ক্রীড়া ব্যবস্থাকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা।

শুধু গাজাই নয়, পশ্চিম তীরেও গত প্রায় তিন বছর ধরে ঘরোয়া ফুটবল লিগ বন্ধ রয়েছে। অনুশীলনে যাওয়ার পথেই খেলোয়াড়দের গ্রেপ্তারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় দলের দুই নারী ফুটবলার রান্দ হালাওয়ানি ও নাতালি আবু দিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এদিকে সাবেক জাতীয় ফুটবলার আহমেদ আবু খাদিজাকে ১৭ মাস বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছিল। আল–বিরেহ শহরের অনুশীলন মাঠগুলোর পাশেই রয়েছে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি। ফলে সেখানকার তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিটি অনুশীলনই অনিশ্চয়তা আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করতে হয়।

জাতীয় নারী দলের সদস্য সারা শাখশির বলেন, “ইসরায়েল হয়তো একজন ফুটবলারকে বন্দি করতে পারে, মাঠ ধ্বংস করে দিতে পারে, কিন্তু ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব মুছে ফেলার চক্রান্ত কখনোই সফল হবে না।“

এমন পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দখলকৃত এলাকায় অংশ নেওয়া ইসরায়েলি ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংস্থাটি।

তবে সব বাধা পেরিয়ে আশার খবরও দিয়েছেন ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই ঘরোয়া ফুটবলের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের কাছে এই লড়াই এখন আর শুধু ফুটবল নয়—এটি বেঁচে থাকা, নিজের পরিচয় এবং অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক।

সূত্র: দ্য নিউ আরব