
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
দৃঢ় মনোবল, অদম্য ইচ্ছা আর নিরলস পরিশ্রম থাকলে কোনো প্রতিকূলতাই যে স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না-তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাইবান্ধার তরুণ মো. শাকিল মিয়া। এক দরিদ্র কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি আজ স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে। সরকারি মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে মানবিক চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের উত্তর গিদারী (প্রধানের বাজার) গ্রামের কৃষক মো. সাদা মিয়া ও গৃহিণী শারভানু বেগমের তিন সন্তানের একজন শাকিল। টানাটানির সংসার হলেও সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন এই দম্পতি।
শাকিলের শিক্ষাজীবনের প্রথম পাঠ শুরু হয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) পরিচালিত ও নেটজ বাংলাদেশের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক দৌলতুন নেছা খাতুন আনন্দলোক বিদ্যালয়ে। সেখানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করে ২০১২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে স্থানীয় আমান উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) এবং গাইবান্ধার দারিয়াপুরস্থ হাজী ওসমান গণি ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০২১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করেন।
উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ চুকিয়ে ওই বছরই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখেন শাকিল। সুযোগ পান গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে। বর্তমানে তিনি এমবিবিএস শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত।
গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্ সালাম বলেন, “সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ২৬ টি আনন্দলোক বিদ্যালয়গুলো চালু করা হয়। এখানে পাঠদানের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের সৎ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এই বিদ্যালয়গুলো থেকে উঠে এসে দরিদ্র পরিবারের বহু সন্তান আজ দেশ-বিদেশের নামী প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন এবং পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরিবারের হাল ধরেছেন।”
কৃষকের সন্তান শাকিলের এই সাফল্য কেবল তাঁর নিজের বা পরিবারের নয়; এলাকার সুবিধাবঞ্চিত ও চরাঞ্চলের অসংখ্য শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যতে তৃণমূল ও প্রান্তিক মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে চান ভবিষ্যৎ এই চিকিৎসক।

Reporter Name 


















