
আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ পরিবেষ্টিত খারজানি চরের কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বেসরকারি সহায়তায় ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।
প্রায় দুই বছর আগে ব্রহ্মপুত্রের নদীভাঙনের শিকার হয়ে এই চরে আশ্রয় নিয়েছিল প্রায় ৭০টি পরিবার। চলতি বছরের ১৮ মে সকালে মাত্র পাঁচ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে তাদের ঘরবাড়ি, গাছপালা ও স্যানিটারি ল্যাট্রিনসহ সহায়-সম্পদ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করতে বাধ্য হয় অসহায় পরিবারগুলো।
ঝড়-পরবর্তী সময়ে সরকারিভাবে কিছু চাল সহায়তা প্রদান করা হলেও দুস্থ পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি মেরামত বা নতুন করে দাঁড় করানোর সামর্থ্য ছিল না। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এগিয়ে আসে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)। সংস্থাটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে নতুন স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন, ঘর মেরামত এবং নতুন ঘর তৈরির জন্য ঢেউটিন বিতরণ করে।
সহায়তা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। স্থানীয় বাসিন্দা হবিবুর রহমান বলেন, “ঝড়ে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিছুদিন খোলা আকাশের নিচে ছিলাম। গণ উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে ঢেউটিন ও ল্যাট্রিন পেয়ে এখন আমরা নিরাপদে আছি।”
আরেক সুবিধাভোগী সোনাবান বেগম বলেন, “ঝড়ে ঘরের পাশাপাশি ল্যাট্রিন পর্যন্ত উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল। ফলে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এখন ল্যাট্রিন নতুন করে স্থাপন করায় সেই সমস্যা দূর হয়েছে।”
এ বিষয়ে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্ সালাম জানান, দাতা সংস্থা ‘এডব্লিউও ইন্টারন্যাশনাল’-এর সহযোগিতায় কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার পরিবারগুলোকে ঢেউটিন ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং সহায়তা পৌঁছানো তাদের অধিকারের বিষয়। ঝড়ের ক্ষত পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হলেও, অন্তত এখন তারা পরিবার ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারছে।”

Reporter Name 


















