Dhaka ১০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ইউএনও অফিসে তালা এক বিদ্যালয়ে ১৩ শিক্ষক-কর্মচারীর ৫ শিক্ষার্থী, পাশ করেনি কেউ! সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু গোবিন্দগঞ্জের তিন দাখিল মাদ্রাসায় শতভাগ ফেল, জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি প্রসূতি সেজে শিশু চুরির সময় স্বামী-স্ত্রী আটক, শিশু উদ্ধার কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড চরের মানুষ ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলছাত্রী অপহরণ: ১০ দিন পর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩ রেমিট্যান্স নয়, নওগাঁয় ফিরছে ১৩ কফিন এসএসসির ফল প্রকাশের পর এক কিশোরীর আত্মহনন শিবির ও জামায়াত নেতার কবর জিয়ারতে কাঁদলেন ডা. শফিকুর রহমান

প্রসূতি সেজে শিশু চুরির সময় স্বামী-স্ত্রী আটক, শিশু উদ্ধার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ Time View
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে প্রসূতি সেজে অভিনব কায়দায় শিশু চুরি করে পালানোর সময় শিশুসহ হাতে নাতে আটক করা হয়েছে একটি শিশু পাচার চক্রের সদস্য স্বামী-স্ত্রীকে ।

সোমবার (১০ আগষ্ট) বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃতরা হলেন উপজেলা ফাঁসিতলা গ্রামের  মৃত ভোলা মিয়ার পুত্র সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শিফালী বেগম। পরে তাদেরকে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়।

জানা গেছে, উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের  সমসপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুপালী বেগম সন্তান প্রসবের জন্য সকালে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসুতি বিভাগে ভর্তি হয়। যথাযথ চিকিৎসায়  শেফালি বেগম একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। প্রসবের পর শিশুটিকে কোলে নিয়ে তার দাদী জয়গুন বেওয়া  ঘোরাফেরা  করছিলেন। এ সময় পাশের বেড থেকে এসে শেফালী নামের এক প্রসূতী জয়গুন বেওয়ার কাছ থেকে শিশুটি কোলে নেয়ার ইচ্ছে পোষণ করে।  শিশুটিকে তার কোলে দেয় জয়গুন বেওয়া। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটিকে কোলে নিয়ে খেলা করতে থাকে শেফালী বেগম। নবজাতককে ওই নারীর কোলে রেখে জয়গুন বেওয়া ডাক্তারের কাছে গেলে সুযোগ বুঝে শেফালী বেগম ও তার স্বামী ওই নবজাতক পুত্র সন্তানটি নিয়ে পালানোর উদ্দেশে হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ থেকে  নীচে নেমে আসে। ইতোমধ্যে জয়গুন বেওয়া ফিরে এসে নবজাতক ও ওই নারীকে না পেয়ে চিৎকার করে ছুটাছুটি শুরু করে। এক পর্যায়ে দ্রুত নীচে নেমে এসে দেখে শিশুসহ ওই নারী ও আরো ৩/৪ জন পালিয়ে যাচ্ছে।
এ সময় চিৎকার শুনে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মী এগিয়ে এলে তার সহায়তায় নারী ও তার স্বামী সিরাজুলকে আটক করলেও পাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে  যায়।  এরপর পুলিশে খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে তারা মুলত শিশুপাচারকারী চক্রের সদস্য। প্রসুতি সেজে  শেফালি বেগম  শিশু চুরির সুযোগ খুঁজছিল। পরে প্রসুতি সাজার জন্য পেট উচু করতে শেফালি বেগমের পেটে ও কোমরে বেঁধে রাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়।

এ ব্যাপারে  আটক ওই স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে  এজাহার দাখিল করা হয়েছে। নবজাতক শিশুর মা রুপালি বেগম বলেন আল্লাহ সহায় ছিলেন এ জন্য আমার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি।

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার আটকের কথা স্বীকার করে বলেন, এখনও অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ইউএনও অফিসে তালা

প্রসূতি সেজে শিশু চুরির সময় স্বামী-স্ত্রী আটক, শিশু উদ্ধার

Update Time : ১২:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে প্রসূতি সেজে অভিনব কায়দায় শিশু চুরি করে পালানোর সময় শিশুসহ হাতে নাতে আটক করা হয়েছে একটি শিশু পাচার চক্রের সদস্য স্বামী-স্ত্রীকে ।

সোমবার (১০ আগষ্ট) বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃতরা হলেন উপজেলা ফাঁসিতলা গ্রামের  মৃত ভোলা মিয়ার পুত্র সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শিফালী বেগম। পরে তাদেরকে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়।

জানা গেছে, উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের  সমসপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুপালী বেগম সন্তান প্রসবের জন্য সকালে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসুতি বিভাগে ভর্তি হয়। যথাযথ চিকিৎসায়  শেফালি বেগম একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। প্রসবের পর শিশুটিকে কোলে নিয়ে তার দাদী জয়গুন বেওয়া  ঘোরাফেরা  করছিলেন। এ সময় পাশের বেড থেকে এসে শেফালী নামের এক প্রসূতী জয়গুন বেওয়ার কাছ থেকে শিশুটি কোলে নেয়ার ইচ্ছে পোষণ করে।  শিশুটিকে তার কোলে দেয় জয়গুন বেওয়া। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটিকে কোলে নিয়ে খেলা করতে থাকে শেফালী বেগম। নবজাতককে ওই নারীর কোলে রেখে জয়গুন বেওয়া ডাক্তারের কাছে গেলে সুযোগ বুঝে শেফালী বেগম ও তার স্বামী ওই নবজাতক পুত্র সন্তানটি নিয়ে পালানোর উদ্দেশে হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ থেকে  নীচে নেমে আসে। ইতোমধ্যে জয়গুন বেওয়া ফিরে এসে নবজাতক ও ওই নারীকে না পেয়ে চিৎকার করে ছুটাছুটি শুরু করে। এক পর্যায়ে দ্রুত নীচে নেমে এসে দেখে শিশুসহ ওই নারী ও আরো ৩/৪ জন পালিয়ে যাচ্ছে।
এ সময় চিৎকার শুনে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মী এগিয়ে এলে তার সহায়তায় নারী ও তার স্বামী সিরাজুলকে আটক করলেও পাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে  যায়।  এরপর পুলিশে খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে তারা মুলত শিশুপাচারকারী চক্রের সদস্য। প্রসুতি সেজে  শেফালি বেগম  শিশু চুরির সুযোগ খুঁজছিল। পরে প্রসুতি সাজার জন্য পেট উচু করতে শেফালি বেগমের পেটে ও কোমরে বেঁধে রাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়।

এ ব্যাপারে  আটক ওই স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে  এজাহার দাখিল করা হয়েছে। নবজাতক শিশুর মা রুপালি বেগম বলেন আল্লাহ সহায় ছিলেন এ জন্য আমার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি।

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার আটকের কথা স্বীকার করে বলেন, এখনও অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।