Dhaka ১২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু শ্বশুরবাড়িতে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামাইয়ের মৃত্যু  চিলমারীতে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ডুবে গেছে ৭টি নৌকা সুন্দরগঞ্জে বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন নওগাঁয় বাসের বক্সের ঢাকনার আঘাতে অটোরিকশার ১ যাত্রী নিহত, আহত ২ শিশু   সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বকাপে জিতবে কোন দল? গোবিন্দগঞ্জে এক মানসিক রোগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে পুড়ছে দেশ, জুনে ২-৩ দফা তাপপ্রবাহের আভাস মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা ইরানের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিখোঁজ বাবা: ৫৪ বছর পর বাংলাদেশে জন্মভিটার সন্ধান পেল পাকিস্তানে বেড়ে ওঠা ছেলে

গাইবান্ধায় নদীভাঙন রোধে নির্মিত গ্রুইন বর্ষায় রক্ষাকবচ, শুষ্ক মৌসুমে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৪৭ Time View

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা

ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙন থেকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ও খোলাহাটি ইউনিয়ন রক্ষায় নির্মিত গ্রুইনগুলো (নদীর স্রোত নিয়ন্ত্রক কাঠামো) এলাকাবাসীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে গ্রুইনের চারপাশে জেগে ওঠা চরে চলছে বিস্তীর্ণ আবাদ। অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে এই কাঠামোটিই বুক পেতে রক্ষা করে হাজারো বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার নদীবেষ্টিত ইউনিয়নগুলোর মধ্যে গিদারী অন্যতম। একসময় প্রতি বছর বর্ষা ও বন্যা মৌসুমে রাক্ষুসে নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হতেন শত শত পরিবার। এই ভয়াবহ ভাঙন প্রতিরোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তীর সংরক্ষণ ও গ্রুইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা ফ্যাপ (ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান-ফ্যাপ ২১) কর্মসূচির আওতায় নদীশাসনের অংশ হিসেবে ১৯৯৫ সালে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার গিদারি ইউনিয়নের ধুতিচোরা গ্রাম এবং কামারজানি এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে প্রায় ২০০ মিটার ব্যবধানে মোট ৫টি পারমিয়েবল গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ করা হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার তীরবর্তী জনপদকে তীব্র নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি একেবারে তলানিতে নেমে গেছে। পানি সরে যাওয়ায় গ্রুইনগুলোর নিচের অংশ এখন পুরোপুরি শুকনা। সেখানে পলি জমে তৈরি হয়েছে উর্বর চর। স্থানীয় কৃষকরা সেই জমিতে ব্যাপক উৎসাহে ধান, ভুট্টাসহ নানা ধরনের রবিশস্যের আবাদ করছেন। একসময়ের প্রমত্ত নদীর বুকে এখন সবুজের সমারোহ। লোহা ও পাটাতনের তৈরি দীর্ঘ সেতুসদৃশ গ্রুইনগুলো বর্তমানে দাঁড়িয়ে আছে দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠের মাঝখানে। স্থানীয়দের চলাচলের জন্য এগুলো এখন শুষ্ক মৌসুমে এক একটি পথ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৯৫ সালে এই ৫টি গ্রুইন নির্মাণের পর থেকে গিদারী ইউনিয়নের একটি বড় অংশ নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। আগে যেখানে প্রতি বছর বাড়িঘর সরাতে হতো, এখন সেখানে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করার সাহস পাচ্ছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষার জন্য বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর মতে, লোহার কাঠামোতে মরিচা ধরা বা নিচের ব্লকের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে নদীর পানি বাড়ার আগেই তা দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে এ ধরনের টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে গাইবান্ধার চরাঞ্চল ও নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

গাইবান্ধায় নদীভাঙন রোধে নির্মিত গ্রুইন বর্ষায় রক্ষাকবচ, শুষ্ক মৌসুমে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ

Update Time : ০১:১০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা

ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙন থেকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ও খোলাহাটি ইউনিয়ন রক্ষায় নির্মিত গ্রুইনগুলো (নদীর স্রোত নিয়ন্ত্রক কাঠামো) এলাকাবাসীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে গ্রুইনের চারপাশে জেগে ওঠা চরে চলছে বিস্তীর্ণ আবাদ। অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে এই কাঠামোটিই বুক পেতে রক্ষা করে হাজারো বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার নদীবেষ্টিত ইউনিয়নগুলোর মধ্যে গিদারী অন্যতম। একসময় প্রতি বছর বর্ষা ও বন্যা মৌসুমে রাক্ষুসে নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হতেন শত শত পরিবার। এই ভয়াবহ ভাঙন প্রতিরোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তীর সংরক্ষণ ও গ্রুইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা ফ্যাপ (ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান-ফ্যাপ ২১) কর্মসূচির আওতায় নদীশাসনের অংশ হিসেবে ১৯৯৫ সালে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার গিদারি ইউনিয়নের ধুতিচোরা গ্রাম এবং কামারজানি এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে প্রায় ২০০ মিটার ব্যবধানে মোট ৫টি পারমিয়েবল গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ করা হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার তীরবর্তী জনপদকে তীব্র নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি একেবারে তলানিতে নেমে গেছে। পানি সরে যাওয়ায় গ্রুইনগুলোর নিচের অংশ এখন পুরোপুরি শুকনা। সেখানে পলি জমে তৈরি হয়েছে উর্বর চর। স্থানীয় কৃষকরা সেই জমিতে ব্যাপক উৎসাহে ধান, ভুট্টাসহ নানা ধরনের রবিশস্যের আবাদ করছেন। একসময়ের প্রমত্ত নদীর বুকে এখন সবুজের সমারোহ। লোহা ও পাটাতনের তৈরি দীর্ঘ সেতুসদৃশ গ্রুইনগুলো বর্তমানে দাঁড়িয়ে আছে দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠের মাঝখানে। স্থানীয়দের চলাচলের জন্য এগুলো এখন শুষ্ক মৌসুমে এক একটি পথ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৯৫ সালে এই ৫টি গ্রুইন নির্মাণের পর থেকে গিদারী ইউনিয়নের একটি বড় অংশ নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। আগে যেখানে প্রতি বছর বাড়িঘর সরাতে হতো, এখন সেখানে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করার সাহস পাচ্ছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষার জন্য বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর মতে, লোহার কাঠামোতে মরিচা ধরা বা নিচের ব্লকের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে নদীর পানি বাড়ার আগেই তা দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে এ ধরনের টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে গাইবান্ধার চরাঞ্চল ও নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে।