Dhaka ০১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

বাবার কাঁধের ‘বোঝা’ ঘুচলো হুইলচেয়ারে: জিউকে-এর মানবিকতায় হাসলো প্রতিবন্ধী সাইফুল

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২২ Time View

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি:

২৭ বছরের যুবক সাইফুল ইসলাম। জন্মের পর থেকেই যার পৃথিবীটা থমকে আছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকলে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি নেই, নেই চলাচলের সামর্থ্য। দরিদ্র দিনমজুর বাবা শামসুল হকের কাঁধই ছিল তার একমাত্র বাহন। প্রতিদিন ছেলেকে পিঠে নিয়ে রাস্তার ধারের পলিথিন মোড়ানো জীর্ণ ছাউনিতে রেখে যেতেন বাবা। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে বাবার সেই ক্লান্ত পিঠ আর ছেলের অসহায় চাহনি-এই দৃশ্যই ছিল নিত্যদিনের। তবে সেই কষ্টের দিন এবার ফুরোল। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রতিবন্ধী সাইফুলের জগতটা বদলে দিল ‘গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)’।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ঝিনিয়া গ্রামে এক আবেগঘন পরিবেশে সাইফুল ইসলামের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি নতুন হুইলচেয়ার। গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)-এর নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালামের পক্ষ থেকে এই মানবিক উপহার পৌঁছে দেওয়া হয় সাইফুলের বাড়িতে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে সাইফুলের এই মানবেতর জীবনের চিত্র উঠে এলে বিষয়টি জিইউকের নির্বাহী প্রধান আবদুস সালামের দৃষ্টিগোচর হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে সংস্থার পক্ষ থেকে এই হুইলচেয়ারটি প্রদান করা হয়।

হুইলচেয়ারটি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন জিইউকের সমন্বয়কারী আফতাব হোসেন । এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ডকুমেন্টেশন অফিসার রাতুল ইসলাম, প্রজেক্ট অফিসার ডলি সুলতানা, শাখা ব্যবস্থাপক তোতা মিয়া এবং মিল ম্যানেজার আকবর হোসেন।

মানবিক এই উদ্যোগের সাক্ষী হতে সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুন্দরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাংবাদিক এমদাদুল হক ও সাইফুলি নিয়ে প্রতিবেদক লেখক  লিয়ন রানাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

হুইলচেয়ারটি পেয়ে সাইফুলের মুখে ফোটে স্বস্তির হাসি। আর বৃদ্ধ বাবা শামসুল হকের চোখে ছিল কৃতজ্ঞতার অশ্রু। তিনি বলেন, “এতদিন ছেলেকে পিঠে করে বয়েছি, এখন সে হুইলচেয়ারে করে চলতে পারবে। জিইউকে আমার ছেলের কষ্ট দূর করে দিলো।”

সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলো এভাবে পাশে দাঁড়ালে সাইফুলদের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষেরা আর বোঝা হয়ে থাকবে না-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকের পুরস্কার বিতরণ

বাবার কাঁধের ‘বোঝা’ ঘুচলো হুইলচেয়ারে: জিউকে-এর মানবিকতায় হাসলো প্রতিবন্ধী সাইফুল

Update Time : ১১:০২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি:

২৭ বছরের যুবক সাইফুল ইসলাম। জন্মের পর থেকেই যার পৃথিবীটা থমকে আছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকলে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি নেই, নেই চলাচলের সামর্থ্য। দরিদ্র দিনমজুর বাবা শামসুল হকের কাঁধই ছিল তার একমাত্র বাহন। প্রতিদিন ছেলেকে পিঠে নিয়ে রাস্তার ধারের পলিথিন মোড়ানো জীর্ণ ছাউনিতে রেখে যেতেন বাবা। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে বাবার সেই ক্লান্ত পিঠ আর ছেলের অসহায় চাহনি-এই দৃশ্যই ছিল নিত্যদিনের। তবে সেই কষ্টের দিন এবার ফুরোল। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রতিবন্ধী সাইফুলের জগতটা বদলে দিল ‘গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)’।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ঝিনিয়া গ্রামে এক আবেগঘন পরিবেশে সাইফুল ইসলামের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি নতুন হুইলচেয়ার। গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)-এর নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালামের পক্ষ থেকে এই মানবিক উপহার পৌঁছে দেওয়া হয় সাইফুলের বাড়িতে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে সাইফুলের এই মানবেতর জীবনের চিত্র উঠে এলে বিষয়টি জিইউকের নির্বাহী প্রধান আবদুস সালামের দৃষ্টিগোচর হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে সংস্থার পক্ষ থেকে এই হুইলচেয়ারটি প্রদান করা হয়।

হুইলচেয়ারটি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন জিইউকের সমন্বয়কারী আফতাব হোসেন । এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ডকুমেন্টেশন অফিসার রাতুল ইসলাম, প্রজেক্ট অফিসার ডলি সুলতানা, শাখা ব্যবস্থাপক তোতা মিয়া এবং মিল ম্যানেজার আকবর হোসেন।

মানবিক এই উদ্যোগের সাক্ষী হতে সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুন্দরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাংবাদিক এমদাদুল হক ও সাইফুলি নিয়ে প্রতিবেদক লেখক  লিয়ন রানাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

হুইলচেয়ারটি পেয়ে সাইফুলের মুখে ফোটে স্বস্তির হাসি। আর বৃদ্ধ বাবা শামসুল হকের চোখে ছিল কৃতজ্ঞতার অশ্রু। তিনি বলেন, “এতদিন ছেলেকে পিঠে করে বয়েছি, এখন সে হুইলচেয়ারে করে চলতে পারবে। জিইউকে আমার ছেলের কষ্ট দূর করে দিলো।”

সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলো এভাবে পাশে দাঁড়ালে সাইফুলদের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষেরা আর বোঝা হয়ে থাকবে না-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।