
নিজস্ব প্রতিবেদক: রামিসাসহ সারা দেশে নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, বলাৎকার ও হত্যার বিচার এবং হামে আক্রান্ত শিশুদের পর্যাপ্ত আয়োজন নিশ্চিত করে দায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে গাইবান্ধা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সমাজতান্ত্রি ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে গানাসাস মার্কেটের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
সভায় ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি পরমানন্দ দাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কলেজ শাখার সভাপতি কলি রানী বর্মন, দীপান্তর, সাধারণ সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জান সবুজ, ছাত্র নেতা মোখলেছুর রহমান, কল্লোল, ধন্জয়, আশরাফি আক্তার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে মেকানিক সোহেল রানা ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ খাটের নিচে ও বিচ্ছিন্ন মাথা শৌচাগারে লুকিয়ে রাখে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সতেরো বছরের চেনা প্রতিবেশীর এমন রূপ দেখে আজ প্রতিটি বাবা-মায়ের বুক কাঁপছে—সন্তানকে কোথায় নিরাপদ রাখবেন? সারা দেশে যে হারে মানুষের মুল্যবোধ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে, পশুর স্তর অতিক্রম করে নরপিশাচে পরিণত হয়েছে। যার প্রধান কারণ মাদক, জুয়া, পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি এবং নাটক সিনেমায় এর আকাঙ্ক্ষা বোধ তৈরি করে ভোগবাদী সংস্কৃতির চর্চা।
নারী-শিশু নির্যাতন, বলাৎকার এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি জাতীয় মহামারি। এর দায় এই রাষ্ট্রকে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত বিচার হীনতার সংস্কৃতি এ যাবৎ যত হত্যাকান্ড হয়েছে এই ভংগুর রাট্র দৃষ্টান্ত রাখতে ব্যর্থ। তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষীর অভাব আর আসামির জামিন পাওয়ার সংস্কৃতি আইনকে কেবল কাগজেই বন্দি করে রেখেছে। বক্তাগণ আরো বলেন, এই নিষ্পাপ শিশু রামিসার রক্ত যেন বাংলাদেশের ঘুমন্ত বিবেক ও আইনকে জাগিয়ে তোলে। সেই সাথে সারাদেশে হামে মারা যাওয়া শিশু হত্যার বিচার ও সেই সাথে আক্রান্ত শিশুদের পর্যাপ্ত আয়োজন নিশ্চিত করার দাবী জানান।

Reporter Name 







