Dhaka ০৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পল্লীগীতির কণ্ঠশিল্পী আব্দুল আলীমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় ‘শোন গো রূপসী কন্যা’ বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩ নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত-৩, আহত-২৫, কারফিউ জারি খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সাঁতরে পার হওয়ার সময় বাঙালি নদীতে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

সাদুল্লাপুরে নাতনি ধর্ষণ ঘটনায় মামলা করায় নানাকে মারধর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
  • ১০২ Time View

সাদুল্লাপুর সংবাদদাতাঃ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে নাইম মিয়া (১৯) নামের যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আর এই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি দেওয়াসহ তার নানা আব্দুল ওয়াহেদকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জয়েনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মামলা সুত্রে জানা গেছে- জয়েনপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে নাইম মিয়া একই গ্রামে বসবাসরত এক তরুণীর সঙ্গে প্রেম-ভালেবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলে। তারপর মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করে। প্রায় ৬ মাস আগে থেকে একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হওয়ার একপর্যায়ে মেয়েটির শারিরীক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। এনিয়ে সন্দেহ হলে ধর্ষক নাইম মিয়া গত ২৪ মে সাদুল্লাপুর ডায়াবেটিক সমিতিতে মেয়েটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। সেখানকার রিপোর্টে মেয়েটি অন্তঃসত্বা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে ধর্ষক নাইম মিয়া ফের বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পেটের বাচ্চা নষ্ট করার জন্য মেয়েকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করে দেন। এরপর গত ২৬ মে হঠাৎ করে মেয়েটির পেটের ব্যাথা অনুভব হয়। তখন প্রথমে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায় স্বজনরা। সেখানে একটি মৃত্যু বাচ্চা প্রসব করে মেয়েটি।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হলে প্রভাবশালী আসামি পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বাদিকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে হুমকি অব্যাহত রাখছেন। এরই একপর্যায়ে শুক্রবার (৩০ মে) ধর্ষিতার নানা আব্দুল ওয়াহেদ জুম্মার নামাজ আদায় করতে জয়েনপুর বাড়ির পাশের মসজিদে রওনা হন। পথিমধ্যে ধর্ষকের বাবা শহিদ মিয়া ও চাচা সাহেদ মিয়া তাকে পধরোধ করে মারধর করেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে ভিকটিমের বাবা-মা বলেন, আমরা অত্যান্ত দরিদ্র মানুষ। স্বামী পরিত্যাক্তা আমাদের মেয়েকে বিয়ে করার কথা বলে নাইম মিয়া বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। এ বিষয়ে মামলা করা হলে নাইম ও তার পরিবারের লোকজন আমাদের হুমকি প্রদর্শন করছে। এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাইম মিয়া ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায় যায়নি। সাদুল্লাপুর থানার ওসি তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, জয়েনপুর গ্রামের এক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (২৭ মে) তার মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

kartick kartick

পল্লীগীতির কণ্ঠশিল্পী আব্দুল আলীমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় ‘শোন গো রূপসী কন্যা’

সাদুল্লাপুরে নাতনি ধর্ষণ ঘটনায় মামলা করায় নানাকে মারধর

Update Time : ০৮:০৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

সাদুল্লাপুর সংবাদদাতাঃ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে নাইম মিয়া (১৯) নামের যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আর এই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি দেওয়াসহ তার নানা আব্দুল ওয়াহেদকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জয়েনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মামলা সুত্রে জানা গেছে- জয়েনপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে নাইম মিয়া একই গ্রামে বসবাসরত এক তরুণীর সঙ্গে প্রেম-ভালেবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলে। তারপর মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করে। প্রায় ৬ মাস আগে থেকে একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হওয়ার একপর্যায়ে মেয়েটির শারিরীক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। এনিয়ে সন্দেহ হলে ধর্ষক নাইম মিয়া গত ২৪ মে সাদুল্লাপুর ডায়াবেটিক সমিতিতে মেয়েটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। সেখানকার রিপোর্টে মেয়েটি অন্তঃসত্বা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে ধর্ষক নাইম মিয়া ফের বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পেটের বাচ্চা নষ্ট করার জন্য মেয়েকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করে দেন। এরপর গত ২৬ মে হঠাৎ করে মেয়েটির পেটের ব্যাথা অনুভব হয়। তখন প্রথমে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায় স্বজনরা। সেখানে একটি মৃত্যু বাচ্চা প্রসব করে মেয়েটি।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হলে প্রভাবশালী আসামি পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বাদিকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে হুমকি অব্যাহত রাখছেন। এরই একপর্যায়ে শুক্রবার (৩০ মে) ধর্ষিতার নানা আব্দুল ওয়াহেদ জুম্মার নামাজ আদায় করতে জয়েনপুর বাড়ির পাশের মসজিদে রওনা হন। পথিমধ্যে ধর্ষকের বাবা শহিদ মিয়া ও চাচা সাহেদ মিয়া তাকে পধরোধ করে মারধর করেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে ভিকটিমের বাবা-মা বলেন, আমরা অত্যান্ত দরিদ্র মানুষ। স্বামী পরিত্যাক্তা আমাদের মেয়েকে বিয়ে করার কথা বলে নাইম মিয়া বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। এ বিষয়ে মামলা করা হলে নাইম ও তার পরিবারের লোকজন আমাদের হুমকি প্রদর্শন করছে। এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাইম মিয়া ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায় যায়নি। সাদুল্লাপুর থানার ওসি তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, জয়েনপুর গ্রামের এক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (২৭ মে) তার মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।