Dhaka ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩ নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত-৩, আহত-২৫, কারফিউ জারি খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সাঁতরে পার হওয়ার সময় বাঙালি নদীতে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

জ্বালানি আসছে নিয়মিত, তবুও গাইবান্ধায় কাটেনি সংকটের রেশ: সেচ ও পরিবহনে চরম ভোগান্তি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯৭ Time View

আফতাব হোসেন:

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির পর দেশের জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি উত্তরাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধায়। যদিও একের পর এক তেলবাহী জাহাজ দেশে আসছে এবং বিপিসি বলছে মজুত ধীরে ধীরে বাড়ছে, তবুও বাস্তবে জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও পরিবহন শ্রমিকদের ভোগান্তি কমেনি।

এপ্রিলের প্রথম ২০ দিনেই ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে মোট ১২টি জাহাজ দেশে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, এই মাসে ৮টি জাহাজে প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার টন ডিজেল এবং ২টি জাহাজে ৫৩ হাজার টন অকটেন এসেছে। ভারত থেকেও পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এসব কারণে গত রোববার থেকে সরবরাহ কিছুটা বাড়ানোর কথা বলা হলেও, গাইবান্ধা সদর, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ীসহ বিভিন্ন উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে এর সুফল এখনো পৌঁছায়নি। অনেক জায়গায় এখনো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে, পাম্পগুলোতে ঝুলছে ‘তেল নেই’ নোটিশ, ফলে কেউ কেউ খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন।

সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে ডিজেলের ক্ষেত্রে। একদিকে যেমন তীব্র দাবদাহ চলছে, অন্যদিকে বোরো মৌসুমের শেষ দিকের সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে কৃষকদের ব্যাপকভাবে সেচপাম্পের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় জেলার চরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলের কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। দূর-দূরান্ত থেকে ড্রাম নিয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে এসেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। অনেক পাম্পে রেশনিং করে সীমিত আকারে তেল দেওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম এবং স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহনে যুক্ত ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল।

অন্যদিকে, বিপিসির মতে অকটেনের মজুত চাহিদার তুলনায় বেশি থাকলেও, স্থানীয় পর্যায়ে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ছোট যানবাহনের চালকদের অভিযোগ—পাম্পগুলোতে গেলে প্রায়ই দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পেট্রল ও কেরোসিনের সরবরাহ তুলনামূলক স্থিতিশীল বলা হলেও প্রান্তিক পর্যায়ে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমানে তেলের কোনো সংকট নেই, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং সামনের মে ও জুন মাসের জন্যও আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে বাস্তবে গাইবান্ধার চিত্র এখনো ভিন্ন। আগের ঘাটতির প্রভাব কাটতে সময় লাগায় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ধীরগতির কারণে নতুন মজুতের সুফল এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি জেলার সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের কাছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে স্থানীয় কৃষি ও পরিবহন খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩

জ্বালানি আসছে নিয়মিত, তবুও গাইবান্ধায় কাটেনি সংকটের রেশ: সেচ ও পরিবহনে চরম ভোগান্তি

Update Time : ০১:৩১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

আফতাব হোসেন:

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির পর দেশের জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি উত্তরাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধায়। যদিও একের পর এক তেলবাহী জাহাজ দেশে আসছে এবং বিপিসি বলছে মজুত ধীরে ধীরে বাড়ছে, তবুও বাস্তবে জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও পরিবহন শ্রমিকদের ভোগান্তি কমেনি।

এপ্রিলের প্রথম ২০ দিনেই ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে মোট ১২টি জাহাজ দেশে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, এই মাসে ৮টি জাহাজে প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার টন ডিজেল এবং ২টি জাহাজে ৫৩ হাজার টন অকটেন এসেছে। ভারত থেকেও পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এসব কারণে গত রোববার থেকে সরবরাহ কিছুটা বাড়ানোর কথা বলা হলেও, গাইবান্ধা সদর, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ীসহ বিভিন্ন উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে এর সুফল এখনো পৌঁছায়নি। অনেক জায়গায় এখনো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে, পাম্পগুলোতে ঝুলছে ‘তেল নেই’ নোটিশ, ফলে কেউ কেউ খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন।

সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে ডিজেলের ক্ষেত্রে। একদিকে যেমন তীব্র দাবদাহ চলছে, অন্যদিকে বোরো মৌসুমের শেষ দিকের সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে কৃষকদের ব্যাপকভাবে সেচপাম্পের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় জেলার চরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলের কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। দূর-দূরান্ত থেকে ড্রাম নিয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে এসেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। অনেক পাম্পে রেশনিং করে সীমিত আকারে তেল দেওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম এবং স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহনে যুক্ত ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল।

অন্যদিকে, বিপিসির মতে অকটেনের মজুত চাহিদার তুলনায় বেশি থাকলেও, স্থানীয় পর্যায়ে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ছোট যানবাহনের চালকদের অভিযোগ—পাম্পগুলোতে গেলে প্রায়ই দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পেট্রল ও কেরোসিনের সরবরাহ তুলনামূলক স্থিতিশীল বলা হলেও প্রান্তিক পর্যায়ে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমানে তেলের কোনো সংকট নেই, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং সামনের মে ও জুন মাসের জন্যও আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে বাস্তবে গাইবান্ধার চিত্র এখনো ভিন্ন। আগের ঘাটতির প্রভাব কাটতে সময় লাগায় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ধীরগতির কারণে নতুন মজুতের সুফল এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি জেলার সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের কাছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে স্থানীয় কৃষি ও পরিবহন খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।