Dhaka ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সার্ভার হ্যাক করে এনআইডি-সিডিআরসহ গোপন তথ্য সরবরাহ; যুবক গ্রেপ্তার জাভা সাগরে উল্টে গেল যাত্রীবাহী জাহাজ, ৬ জনের মৃত্যু—নিখোঁজ ১৩০ গাইবান্ধায় সংঘাত সংবেদনশীলতা ও দ্বন্দ্ব নিরসনে চার দিনের কর্মশালা শুরু ঢাকা-রংপুর লংমার্চ: পলাশবাড়ীর পথসভা সফল করতে গাইবান্ধায় প্রস্তুতি সভা বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে এনসিপির প্রস্তাবকে আমলে নিচ্ছে গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সাথে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মত বিনিময় উত্তরসংযোগ: নদীর দুই পাড় আর একটি অপেক্ষার গল্প গাইবান্ধায় মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ কমিটির সমন্বয় সভা গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ও মেয়ে আহত ১০ মাস বিচারকহীন সাদুল্লাপুর সহকারী জজ আদালত, ঝুলে আছে প্রায় ৪ হাজার মামলা

সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ২৭২ Time View

আবু তাহের, স্টাফ রিপোর্টার:

বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাত লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে প্রতারকদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও টাকা উদ্ধার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাসিন্দা মাসুদ রানা।

বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) দুপুরে সাঘাটা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

মাসুদ রানা বলেন, তিনি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার উত্তর সাথালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। একই এলাকার মো. মোসলেম উদ্দিন (৫৫) ও তার ছেলে মো. বিপ্লব (৩০) তাকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখান। তাদের কথায় বিশ্বাস করে ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তিনি নগদ ৭ লাখ টাকা তাদের হাতে তুলে দেন।

তিনি আরও জানান, টাকা গ্রহণের সময় অভিযুক্তরা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ছয় মাসের মধ্যে বিদেশে পাঠানোর লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। বরং বারবার সময়ক্ষেপণ ও নানা অজুহাতে তাকে ঘুরিয়ে রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন পর অভিযুক্ত বিপ্লব তার পাওনা টাকার আংশিক হিসেবে ৪ লাখ টাকার একটি অগ্রণী ব্যাংক, সাঘাটা শাখার চেক প্রদান করেন। তবে ব্যাংকে চেকটি জমা দিলে হিসাব নম্বরে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। পরে টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্তরা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, সর্বশেষ গত ১০ জুলাই ২০২৬ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি অভিযুক্ত মোসলেম উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা ফেরত চান। এ সময় অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তাদের ওপর চড়াও হয়, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধরের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তাদের লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, ওই সময় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে টাকা চাইতে গেলে তাকে ও তার সহযোগীদের হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, সংঘবদ্ধভাবে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে তার কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করা হলে তাদের পরামর্শে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সময় মো. আনন্দ, মোছা. সপ্না বেগম, মোছা. ফেন্সি বেগমসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ৭ লাখ টাকা উদ্ধার, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এটাই তার প্রত্যাশা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সার্ভার হ্যাক করে এনআইডি-সিডিআরসহ গোপন তথ্য সরবরাহ; যুবক গ্রেপ্তার

সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

Update Time : ০৩:৪১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

আবু তাহের, স্টাফ রিপোর্টার:

বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাত লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে প্রতারকদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও টাকা উদ্ধার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাসিন্দা মাসুদ রানা।

বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) দুপুরে সাঘাটা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

মাসুদ রানা বলেন, তিনি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার উত্তর সাথালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। একই এলাকার মো. মোসলেম উদ্দিন (৫৫) ও তার ছেলে মো. বিপ্লব (৩০) তাকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখান। তাদের কথায় বিশ্বাস করে ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তিনি নগদ ৭ লাখ টাকা তাদের হাতে তুলে দেন।

তিনি আরও জানান, টাকা গ্রহণের সময় অভিযুক্তরা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ছয় মাসের মধ্যে বিদেশে পাঠানোর লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। বরং বারবার সময়ক্ষেপণ ও নানা অজুহাতে তাকে ঘুরিয়ে রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন পর অভিযুক্ত বিপ্লব তার পাওনা টাকার আংশিক হিসেবে ৪ লাখ টাকার একটি অগ্রণী ব্যাংক, সাঘাটা শাখার চেক প্রদান করেন। তবে ব্যাংকে চেকটি জমা দিলে হিসাব নম্বরে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। পরে টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্তরা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, সর্বশেষ গত ১০ জুলাই ২০২৬ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি অভিযুক্ত মোসলেম উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা ফেরত চান। এ সময় অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তাদের ওপর চড়াও হয়, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধরের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তাদের লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, ওই সময় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে টাকা চাইতে গেলে তাকে ও তার সহযোগীদের হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, সংঘবদ্ধভাবে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে তার কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করা হলে তাদের পরামর্শে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সময় মো. আনন্দ, মোছা. সপ্না বেগম, মোছা. ফেন্সি বেগমসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ৭ লাখ টাকা উদ্ধার, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এটাই তার প্রত্যাশা।