Dhaka ১০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নওগাঁর পাহাড়পুরে চীনা পর্যটককে হেনস্তা: টিকটকার ‘হিরো নানা’ আটক বামনডাঙ্গায় রাতের আঁধারে সিন্ডিকেটের ধান সংগ্রহ: ক্ষুব্ধ স্থানীয় কৃষকেরা আর্জেন্টিনাকে হারাতে দরকার নিখুঁত ও সাহসী ফুটবল’: হুঙ্কার অস্ট্রিয়া কোচের মহিমাগঞ্জে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত গাইবান্ধায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশ সদস্যদের এআই প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রশিবিরের নেতা সাইফুল্লা হত্যার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ সাঘাটায় স্কুল কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে ছাত্রশিবির নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আহত ১ চা দিবসে গুণগতমানে শ্রেষ্ঠত্বের পদক পেল ‘মধুপুর চা বাগান’ দারিয়াপুরে বৃক্ষরোপন, ফলদ চারা বিতরণ ও ফল উৎসব অনুষ্ঠিত ১০ লাখে বিক্রি হলেন রুশ সেনাবাহিনীর কাছে: যুদ্ধশিবির থেকে বাংলাদেশি যুবকের বাঁচার আকুতি

বামনডাঙ্গায় রাতের আঁধারে সিন্ডিকেটের ধান সংগ্রহ: ক্ষুব্ধ স্থানীয় কৃষকেরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ৬৩ Time View

স্টাফ রিপোর্টার, সুন্দরগঞ্জ:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা খাদ্য গুদামে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে ফড়িয়া (দালাল) সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের প্রকৃত ধান সংগ্রহ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত করে সাধারণ কৃষকদের বঞ্চিত করার এই ঘটনায় স্থানীয় চাষিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গত রবিবার (২১ জুন) রাতে সরেজমিনে বামনডাঙ্গা খাদ্য গুদামে গিয়ে দেখা যায়, রাত পৌনে ৮টার দিকে গুদামের প্রধান ফটক সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পেছনের একটি ছোট পকেট গেট দিয়ে গোপনে ফড়িয়া সিন্ডিকেটের ধান ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। মূল ফটক বন্ধ রেখে লাঠিসোটা হাতে কুলিদের (শ্রমিক) দিয়ে এক প্রকার পাহারা বসিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা।

স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, দিনের বেলা সাধারণ কৃষকেরা কষ্টার্জিত ধান নিয়ে এলে আর্দ্রতা বা মানের নানা অজুহাতে তা ফেরত দেওয়া হয় অথবা বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। অথচ রাতের অন্ধকারে ফড়িয়াদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সিন্ডিকেটের ধান অনায়াসে গুদামজাত করা হচ্ছে। রবিবার রাতে ফড়িয়াদের ধান নেওয়ার এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত স্থানীয় চাষিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বামনডাঙ্গা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফসানা খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “গতকাল বিকেলে স্থানীয় চারজন কৃষক অফিসের শেষ মুহূর্তে এসে ধান নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ১০০ বস্তা ধান নেওয়া হয় এবং এর পরপরই গুদামের চাবি আমি আমার হেফাজতে নিয়ে নিই।”

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “মূল ঘটনা হলো স্থানীয় কিছু চাঁদাবাজ প্রকৃতির লোক নানা সময়ে এখানে এসে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করতো। আমি এর প্রতিবাদ করায় এবং স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়েছে। এই কারণেই রাতের বেলার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন মাধ্যমে অসত্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অ্যাপ বা লটারির মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বামনডাঙ্গায় সেই নিয়ম প্রকাশ্যেই লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এই অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সাধারণ কৃষকেরা।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নওগাঁর পাহাড়পুরে চীনা পর্যটককে হেনস্তা: টিকটকার ‘হিরো নানা’ আটক

বামনডাঙ্গায় রাতের আঁধারে সিন্ডিকেটের ধান সংগ্রহ: ক্ষুব্ধ স্থানীয় কৃষকেরা

Update Time : ০৪:০১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, সুন্দরগঞ্জ:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা খাদ্য গুদামে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে ফড়িয়া (দালাল) সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের প্রকৃত ধান সংগ্রহ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত করে সাধারণ কৃষকদের বঞ্চিত করার এই ঘটনায় স্থানীয় চাষিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গত রবিবার (২১ জুন) রাতে সরেজমিনে বামনডাঙ্গা খাদ্য গুদামে গিয়ে দেখা যায়, রাত পৌনে ৮টার দিকে গুদামের প্রধান ফটক সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পেছনের একটি ছোট পকেট গেট দিয়ে গোপনে ফড়িয়া সিন্ডিকেটের ধান ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। মূল ফটক বন্ধ রেখে লাঠিসোটা হাতে কুলিদের (শ্রমিক) দিয়ে এক প্রকার পাহারা বসিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা।

স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, দিনের বেলা সাধারণ কৃষকেরা কষ্টার্জিত ধান নিয়ে এলে আর্দ্রতা বা মানের নানা অজুহাতে তা ফেরত দেওয়া হয় অথবা বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। অথচ রাতের অন্ধকারে ফড়িয়াদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সিন্ডিকেটের ধান অনায়াসে গুদামজাত করা হচ্ছে। রবিবার রাতে ফড়িয়াদের ধান নেওয়ার এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত স্থানীয় চাষিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বামনডাঙ্গা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফসানা খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “গতকাল বিকেলে স্থানীয় চারজন কৃষক অফিসের শেষ মুহূর্তে এসে ধান নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ১০০ বস্তা ধান নেওয়া হয় এবং এর পরপরই গুদামের চাবি আমি আমার হেফাজতে নিয়ে নিই।”

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “মূল ঘটনা হলো স্থানীয় কিছু চাঁদাবাজ প্রকৃতির লোক নানা সময়ে এখানে এসে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করতো। আমি এর প্রতিবাদ করায় এবং স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়েছে। এই কারণেই রাতের বেলার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন মাধ্যমে অসত্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অ্যাপ বা লটারির মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বামনডাঙ্গায় সেই নিয়ম প্রকাশ্যেই লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এই অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সাধারণ কৃষকেরা।