Dhaka ১২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

বিত্তের দাপট বনাম চিত্তের সাহস: পাজেরোর ভিড়ে সাইকেল হাঁকিয়ে ভোটের মাঠে মাস্টারমশাই!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৩৫ Time View

প্রতিনিধি গাইবান্ধা:

নির্বাচনী মাঠ মানেই তো এলাহী কারবার! কালো কাচ তোলা পাজেরো গাড়ির বহর, কর্মীদের বিরিয়ানি খাওয়ার ধুম, আর মাইকের আওয়াজে কানের পর্দা ফাটানোর জোগাড়। একেকজন প্রার্থীর পেছনে যে পরিমাণ গাড়ি আর লোকলশকর থাকে, তা দেখে মনে হয় কোনো যুদ্ধজয়ের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনের চিত্রনাট্যে হঠাৎ এক ‘টুইস্ট’!

সবাই যখন জিপ গাড়ির ধুলো ওড়াচ্ছেন, তখন ধুলোবালির নিচ দিয়ে টুং-টাং শব্দ করে এগিয়ে চলেছেন একজন। বাহন-মান্ধাতার আমলের একখানা বাইসাইকেল। কাঁধে ঝোলানো হ্যান্ডমাইক, আর মার্কায় ‘আধুনিক’ কিছু নয়-একেবারে খাঁটি গ্রামবাংলার ‘ঢেঁকি’!

ইনি হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজিজার রহমান (বিএসসি)। পেশায় দড়ি জামালপুর রোকেয়া সামাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, গণতন্ত্রে ‘তেল’ (জ্বালানি) না থাকলেও চলে, যদি পায়ের জোর আর মনের জোর থাকে!

‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ এবং একটি সাইকেল অন্য প্রার্থীদের নির্বাচনী বহরে যখন ট্রাফিক জ্যাম লেগে যায়, তখন আজিজার মাস্টারের কোনো টেনশন নেই। তার কোনো ড্রাইভার লাগে না, কারণ তিনি নিজেই চালক। তার কোনো মাইকম্যান লাগে না, কারণ কাঁধের হ্যান্ডমাইকে তিনি নিজেই ঘোষক। এমনকি তার কোনো তোষামুদে কর্মীও লাগে না, কারণ তিনি একাই একশ!

নির্বাচনী মাঠে তার এই ‘সেলফ ডিপেন্ডেন্ট’ বা আত্মনির্ভরশীল মডেল দেখে ভোটাররা বেশ কৌতূহল নিয়ে তাকাচ্ছেন। কেউ কেউ ভাবছেন, মাস্টারমশাই কি সংসদে গিয়েও সাইকেল চালিয়েই ঢুকবেন? আবার কেউ রসিকতা করে বলছেন, ‘‘বাকিরা তো ভোটে জিতলে জনগণের মাথায় কাঁঠাল ভাঙবেন, আর আজিজার ভাই জিতলে ঢেঁকিতে ধান ভানবেন!’’

বাজেট যেখানে জিরো, সাহস সেখানে হিরো আজিজার রহমানের বাড়ি সাদুল্লাপুরের খোদা বকস গ্রামে। ব্যক্তিগত জীবন যেমন সাদামাটা, প্রচারণাও তাই। পকেটে নেই গরম টাকার বান্ডিল, নেই পোস্টারের বাহার। তবে তার আছে অদম্য সাহস। যেখানে বড় বড় প্রার্থীরা লাখ টাকার তেল পুড়িয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন, সেখানে আজিজার মাস্টার ক্যালোরি পুড়িয়ে প্যাডেল মারছেন। পরিবেশবান্ধব নির্বাচন বোধহয় একেই বলে!

ভোটাররা অবশ্য এই দৃশ্য বেশ উপভোগ করছেন। গ্রামের চায়ের দোকানে ঝড় উঠছে-“টাকা ছিটালেই ভোট হয় না, মাস্টারের সাইকেলের চাকায় যে দম আছে, তা পাজেরোর চাকাতেও নেই!”

ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে-এ প্রবাদ পুরনো। তবে আজিজার রহমান দেখাচ্ছেন, ঢেঁকি নির্বাচনে দাঁড়ালে সাইকেলেও চড়ে! ফলাফল যা-ই হোক, গাইবান্ধা-৩ আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে এই ‘সাইকেল ও ঢেঁকি কাব্য’ যে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করল, তা হলফ করেই বলা যায়। গণতন্ত্রের প্যাডেল এভাবেই ঘুরতে থাকুক!

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকের পুরস্কার বিতরণ

বিত্তের দাপট বনাম চিত্তের সাহস: পাজেরোর ভিড়ে সাইকেল হাঁকিয়ে ভোটের মাঠে মাস্টারমশাই!

Update Time : ০২:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রতিনিধি গাইবান্ধা:

নির্বাচনী মাঠ মানেই তো এলাহী কারবার! কালো কাচ তোলা পাজেরো গাড়ির বহর, কর্মীদের বিরিয়ানি খাওয়ার ধুম, আর মাইকের আওয়াজে কানের পর্দা ফাটানোর জোগাড়। একেকজন প্রার্থীর পেছনে যে পরিমাণ গাড়ি আর লোকলশকর থাকে, তা দেখে মনে হয় কোনো যুদ্ধজয়ের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনের চিত্রনাট্যে হঠাৎ এক ‘টুইস্ট’!

সবাই যখন জিপ গাড়ির ধুলো ওড়াচ্ছেন, তখন ধুলোবালির নিচ দিয়ে টুং-টাং শব্দ করে এগিয়ে চলেছেন একজন। বাহন-মান্ধাতার আমলের একখানা বাইসাইকেল। কাঁধে ঝোলানো হ্যান্ডমাইক, আর মার্কায় ‘আধুনিক’ কিছু নয়-একেবারে খাঁটি গ্রামবাংলার ‘ঢেঁকি’!

ইনি হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজিজার রহমান (বিএসসি)। পেশায় দড়ি জামালপুর রোকেয়া সামাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, গণতন্ত্রে ‘তেল’ (জ্বালানি) না থাকলেও চলে, যদি পায়ের জোর আর মনের জোর থাকে!

‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ এবং একটি সাইকেল অন্য প্রার্থীদের নির্বাচনী বহরে যখন ট্রাফিক জ্যাম লেগে যায়, তখন আজিজার মাস্টারের কোনো টেনশন নেই। তার কোনো ড্রাইভার লাগে না, কারণ তিনি নিজেই চালক। তার কোনো মাইকম্যান লাগে না, কারণ কাঁধের হ্যান্ডমাইকে তিনি নিজেই ঘোষক। এমনকি তার কোনো তোষামুদে কর্মীও লাগে না, কারণ তিনি একাই একশ!

নির্বাচনী মাঠে তার এই ‘সেলফ ডিপেন্ডেন্ট’ বা আত্মনির্ভরশীল মডেল দেখে ভোটাররা বেশ কৌতূহল নিয়ে তাকাচ্ছেন। কেউ কেউ ভাবছেন, মাস্টারমশাই কি সংসদে গিয়েও সাইকেল চালিয়েই ঢুকবেন? আবার কেউ রসিকতা করে বলছেন, ‘‘বাকিরা তো ভোটে জিতলে জনগণের মাথায় কাঁঠাল ভাঙবেন, আর আজিজার ভাই জিতলে ঢেঁকিতে ধান ভানবেন!’’

বাজেট যেখানে জিরো, সাহস সেখানে হিরো আজিজার রহমানের বাড়ি সাদুল্লাপুরের খোদা বকস গ্রামে। ব্যক্তিগত জীবন যেমন সাদামাটা, প্রচারণাও তাই। পকেটে নেই গরম টাকার বান্ডিল, নেই পোস্টারের বাহার। তবে তার আছে অদম্য সাহস। যেখানে বড় বড় প্রার্থীরা লাখ টাকার তেল পুড়িয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন, সেখানে আজিজার মাস্টার ক্যালোরি পুড়িয়ে প্যাডেল মারছেন। পরিবেশবান্ধব নির্বাচন বোধহয় একেই বলে!

ভোটাররা অবশ্য এই দৃশ্য বেশ উপভোগ করছেন। গ্রামের চায়ের দোকানে ঝড় উঠছে-“টাকা ছিটালেই ভোট হয় না, মাস্টারের সাইকেলের চাকায় যে দম আছে, তা পাজেরোর চাকাতেও নেই!”

ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে-এ প্রবাদ পুরনো। তবে আজিজার রহমান দেখাচ্ছেন, ঢেঁকি নির্বাচনে দাঁড়ালে সাইকেলেও চড়ে! ফলাফল যা-ই হোক, গাইবান্ধা-৩ আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে এই ‘সাইকেল ও ঢেঁকি কাব্য’ যে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করল, তা হলফ করেই বলা যায়। গণতন্ত্রের প্যাডেল এভাবেই ঘুরতে থাকুক!