Dhaka ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১ আধুনিকায়নের ফাঁদে ৬ বছর তালাবদ্ধ মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকল: ধুঁকছেন শ্রমিক, দিশেহারা আখচাষি অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ, দ্রুত চালুর দাবি দুর্নীতি ও হয়রানি রোধে গাইবান্ধায় অভিযোগ গ্রহণ শুরু, ১১ মে দুদকের গণশুনানি গাইবান্ধায় ছাত্র ইউনিয়নের ৭৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত রংপুরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট: মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থীরা ১০ বছরেও মেলেনি সুফল: স্লুইস গেট যেন কৃষকের গলার কাঁটা নৈশভোজে হামলা: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ট্রাম্প গোবিন্দগঞ্জে ট্রাক চাপায় এবং সাঘাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ যুবকের মৃত্যু হাম পরিস্থিতি: ২৪ ঘণ্টায় হামে ১১ শিশুর মৃত্যু স্ত্রীর তালাকের পর অভিমানে পেট্রোল ঢেলে স্বামীর আত্মহত্যা

আমি বিসিএস ক্যাডার মায়ের পরিচয়ে এখন পরিচিত হবো

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • ৯৫ Time View

আহসান হাবিব রুবেলঃ বৃষ্টিভেজা এক রাত। ঘুমে ঢেকে আছে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া বাজার। হঠাৎ মোবাইল ফোনে ভেসে উঠল একটি বার্তা,
“ভাইয়া, আমি বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।”
চোখ জলে ভিজে উঠল আপেল মাহমুদের। ছোট বোন আকতিয়া আয়মান মীম দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
এই জয় শুধু এক পরিবারের নয়। এটি এক গ্রামের, এক প্রজন্মের, এক সাংবাদিক বাবার অপূর্ণ স্বপ্নপূরণের গল্প।
ঠাকুরগাঁও সদরের ঘণিমহেষপুর গ্রামের সহজ-সরল পরিবেশে মীমের শৈশব। বাবার আদর্শ, মায়ের কঠোরতা আর ভাইয়ের সাহচর্যে গড়া এক সংগ্রামী জীবন।
রুহিয়া মহিলা মাদরাসা থেকে এসএসসি এবং গিন্নীদেবী আগরওয়াল মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি শেষে সে ভর্তি হয় ঢাকা সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বাংলা বিভাগে। তখনই বুঝেছিল, তার যাত্রা কেবল শুরু।
তার বাবা, মরহুম মকবুল হোসেন ছিলেন রুহিয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন আদর্শ সাংবাদিক। বাবার অকাল মৃত্যু মীমের জীবনে এক বড় ধাক্কা হলেও হয়ে ওঠে তার পথচলার প্রেরণা।
ভাই আপেল মাহমুদ বলেন, “মীমের এই বিসিএস জয় কেবল আমার বোনের নয়, এটি বাবার রক্ত-ঘামে গড়া স্বপ্নের বাস্তবায়ন। রুহিয়ার প্রতিটি মেয়ের জন্য এটি এক সাহসের প্রতীক।”
মীমের ভাবি, মোজামন্ডল হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাবেয়া সুলতানা বলেন, “মেয়েটা অদ্ভুত রকমের সংগ্রামী। ওর চোখে ছিল আগুন, মনেপ্রাণে ছিল দৃঢ়তা। রাতভর পড়াশোনা করেছে। অথচ একটুও ক্লান্তি প্রকাশ পেত না।”
মীম নিজেও খুব শান্ত ও বিনয়ের সঙ্গে জানায়, “আমি কখনো নিজেকে মফস্বলের মেয়ে ভেবে থেমে থাকিনি। সুযোগ না থাকলে তৈরি করতে হয়। আমি শুধু আমার পরিবারের নয়, আমার এলাকার প্রতিটি মেয়ের জন্য এই জয় নিয়ে এসেছি।”
তার মা রোখসানা হোসেন আবেগে কাঁপা কণ্ঠে বলেন, “ওর বাবা বেঁচে থাকলে আজ কত গর্ব করত! আজ আমি গর্বিত। আমি এখন বিসিএস ক্যাডার মায়ের পরিচয়ে পরিচিত হবো।”
রুখসানার চোখের জল কেবল আনন্দ নয়। সেই অশ্রু একজন স্বপ্নবান বাবার স্মৃতির, একজন সাহসী ভাইয়ের সহযাত্রার এবং একজন সংগ্রামী নারীর বিজয়ের।
আকতিয়া আয়মান মীমের বিসিএস জয় কোনো সাধারণ সাফল্য নয়। এটি এক সংগ্রামের, স্বপ্নের ও বিজয়ের নাম।
এই মেয়েটি আজ প্রমাণ করে দিয়েছে “আমি মফস্বলের মেয়ে হতে পারি, কিন্তু আমার স্বপ্ন সীমান্ত মানে না।”

 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

kartick kartick

Popular Post

গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১

আমি বিসিএস ক্যাডার মায়ের পরিচয়ে এখন পরিচিত হবো

Update Time : ০৭:০২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

আহসান হাবিব রুবেলঃ বৃষ্টিভেজা এক রাত। ঘুমে ঢেকে আছে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া বাজার। হঠাৎ মোবাইল ফোনে ভেসে উঠল একটি বার্তা,
“ভাইয়া, আমি বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।”
চোখ জলে ভিজে উঠল আপেল মাহমুদের। ছোট বোন আকতিয়া আয়মান মীম দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
এই জয় শুধু এক পরিবারের নয়। এটি এক গ্রামের, এক প্রজন্মের, এক সাংবাদিক বাবার অপূর্ণ স্বপ্নপূরণের গল্প।
ঠাকুরগাঁও সদরের ঘণিমহেষপুর গ্রামের সহজ-সরল পরিবেশে মীমের শৈশব। বাবার আদর্শ, মায়ের কঠোরতা আর ভাইয়ের সাহচর্যে গড়া এক সংগ্রামী জীবন।
রুহিয়া মহিলা মাদরাসা থেকে এসএসসি এবং গিন্নীদেবী আগরওয়াল মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি শেষে সে ভর্তি হয় ঢাকা সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বাংলা বিভাগে। তখনই বুঝেছিল, তার যাত্রা কেবল শুরু।
তার বাবা, মরহুম মকবুল হোসেন ছিলেন রুহিয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন আদর্শ সাংবাদিক। বাবার অকাল মৃত্যু মীমের জীবনে এক বড় ধাক্কা হলেও হয়ে ওঠে তার পথচলার প্রেরণা।
ভাই আপেল মাহমুদ বলেন, “মীমের এই বিসিএস জয় কেবল আমার বোনের নয়, এটি বাবার রক্ত-ঘামে গড়া স্বপ্নের বাস্তবায়ন। রুহিয়ার প্রতিটি মেয়ের জন্য এটি এক সাহসের প্রতীক।”
মীমের ভাবি, মোজামন্ডল হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাবেয়া সুলতানা বলেন, “মেয়েটা অদ্ভুত রকমের সংগ্রামী। ওর চোখে ছিল আগুন, মনেপ্রাণে ছিল দৃঢ়তা। রাতভর পড়াশোনা করেছে। অথচ একটুও ক্লান্তি প্রকাশ পেত না।”
মীম নিজেও খুব শান্ত ও বিনয়ের সঙ্গে জানায়, “আমি কখনো নিজেকে মফস্বলের মেয়ে ভেবে থেমে থাকিনি। সুযোগ না থাকলে তৈরি করতে হয়। আমি শুধু আমার পরিবারের নয়, আমার এলাকার প্রতিটি মেয়ের জন্য এই জয় নিয়ে এসেছি।”
তার মা রোখসানা হোসেন আবেগে কাঁপা কণ্ঠে বলেন, “ওর বাবা বেঁচে থাকলে আজ কত গর্ব করত! আজ আমি গর্বিত। আমি এখন বিসিএস ক্যাডার মায়ের পরিচয়ে পরিচিত হবো।”
রুখসানার চোখের জল কেবল আনন্দ নয়। সেই অশ্রু একজন স্বপ্নবান বাবার স্মৃতির, একজন সাহসী ভাইয়ের সহযাত্রার এবং একজন সংগ্রামী নারীর বিজয়ের।
আকতিয়া আয়মান মীমের বিসিএস জয় কোনো সাধারণ সাফল্য নয়। এটি এক সংগ্রামের, স্বপ্নের ও বিজয়ের নাম।
এই মেয়েটি আজ প্রমাণ করে দিয়েছে “আমি মফস্বলের মেয়ে হতে পারি, কিন্তু আমার স্বপ্ন সীমান্ত মানে না।”