
ডেস্ক রিপোর্ট:
প্রতারনা মামলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আমেনা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (১৬ আগষ্ট) সকাল ৯টার দিকে বগুড়ার মাদলা নিশ্চিন্তপুরে অবস্থিত তার নির্মাণাধীন আমেনা ডেইরি ফার্মের অফিস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বগুড়া, গাইবান্ধা, গোবিন্দগঞ্জ এবং জয়পুরহাট কোর্টে তার ও তার স্ত্রী যিনি আমেনা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, উভয়ের নামে একাধিক প্রতারণার মামলা চলমান আছে। জয়পুরহাট জেলা জর্জকোর্টে আবুল কালাম আজাদের নামে একটি মাদক চোরাচালানের মামলাও বিচারধীন রয়েছে।
বগুড়া জেলা জর্জকোর্টের অধীন প্রতারণামূলক অর্থআত্মসাতের মামলা ১৮৮৫/২৫ এর বিচারিক আদেশের প্রেক্ষিতে বগুড়া সদর থানার এসআই নুরুজ্জামান এর নেতৃত্বে একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দুই জন এমপি ও কিছু নেতার যোগসাজশে বা ছত্রছায়ায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্প ও অনুদান এনে দেয়ার কথা বলে বগুড়া ও আশেপাশের জেলা ও উপজেলার বহু স্থানীয় এনজিও, ফার্ম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের থেকে বিভিন্ন কৌশলে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২৪ এর ৫ আগষ্ট পরবর্তীতে কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে পরবর্তীতে রূপ পাল্টিয়ে ফের প্রতারণামূলক অর্থ আত্মসাতের পেশা চালু করে। 
শুণ্য থেকে শুরু করে বিগত ১৫ বছরে বগুড়ায় দুইটি বহুতল বাড়ি, খামার করার জন্য ৩টি জায়গা, গোবিন্দগঞ্জে ৭ বিঘা জমির উপর ফার্ম, রংপুরে, ফরিদপুর, রাজশাহী ও গাইবান্ধায় বাড়ি, ঢাকায় দুইটি দামী ফ্ল্যাটও রয়েছে তার- যা রীতিমতো আলাউদ্দিনের চেরাগ ছাড়া সম্ভব নয়। মানুষের টাকা প্রতারণা করে সে আমেনা ডিইর ফার্ম, আমেনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ, আমেনা বৃদ্ধাশ্রম, আমেনা এতিমখানা, আমেনা বিজ্ঞান লাইব্রেরি, আমেনা প্রতিবন্ধী স্কুল, আমেনা আইসিটি সেন্টার এসব মিলে অন্ততপেক্ষ ২৩টি অ্ঙ্গপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
বগুড়া সদর থানার আবুল কালাম আজাদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাকে কোর্ট প্রেরণ করা হয়েছে।
জনমনে জিজ্ঞাসা আমেনা ফাউন্ডেশন, যেখানে কোন স্টাফ নাই, দেশি-বিদেশি উন্নয়নমূলক প্রজেক্ট নাই, শুধুমাত্র নামে বেনামে সাইনবোর্ড সর্বস্ব কয়েকটি অফিসের মাধ্যমে কীভাবে এত টাকা ও এত সম্পদের মালিক সে এবং তার স্ত্রী! ভুক্তভোগীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

Reporter Name 






