Dhaka ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু শ্বশুরবাড়িতে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামাইয়ের মৃত্যু  চিলমারীতে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ডুবে গেছে ৭টি নৌকা সুন্দরগঞ্জে বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন নওগাঁয় বাসের বক্সের ঢাকনার আঘাতে অটোরিকশার ১ যাত্রী নিহত, আহত ২ শিশু   সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বকাপে জিতবে কোন দল? গোবিন্দগঞ্জে এক মানসিক রোগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে পুড়ছে দেশ, জুনে ২-৩ দফা তাপপ্রবাহের আভাস মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা ইরানের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিখোঁজ বাবা: ৫৪ বছর পর বাংলাদেশে জন্মভিটার সন্ধান পেল পাকিস্তানে বেড়ে ওঠা ছেলে

উত্তরাঞ্চলে ফের হাড়কাপানো শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০২:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৩৮ Time View

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা
উত্তরাঞ্চলে আবারও তীব্র শীতের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় গাইবান্ধাসহ পুরো অঞ্চলের জনজীবন কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শনিবার সকাল থেকে গাইবান্ধা শহর ও জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। দিনের বেলাতেও আলো স্বল্পতায় সড়কে যানবাহন চলাচল ধীরগতিতে হচ্ছে, ফলে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। শীতের তীব্রতায় শহর ও গ্রামাঞ্চলে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় রিকশাচালকসহ শ্রমজীবী মানুষের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এই তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অপরদিকে কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে কৃষিকাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ায় বোরো ধানের বীজতলা এবং রবি ফসল ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, সোমবার সকালে গাইবান্ধা জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। আবহাওয়াবিদরা জানান, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে চলমান শীতে সরকারি-বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ সীমিত থাকায় শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। মানবিক উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালাম জানান, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলায় শীতার্তদের মাঝে ইতোমধ্যে ৬শ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারি উদ্যোগ জোরদারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

উত্তরাঞ্চলে ফের হাড়কাপানো শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন

Update Time : ১১:০২:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা
উত্তরাঞ্চলে আবারও তীব্র শীতের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় গাইবান্ধাসহ পুরো অঞ্চলের জনজীবন কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শনিবার সকাল থেকে গাইবান্ধা শহর ও জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। দিনের বেলাতেও আলো স্বল্পতায় সড়কে যানবাহন চলাচল ধীরগতিতে হচ্ছে, ফলে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। শীতের তীব্রতায় শহর ও গ্রামাঞ্চলে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় রিকশাচালকসহ শ্রমজীবী মানুষের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এই তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অপরদিকে কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে কৃষিকাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ায় বোরো ধানের বীজতলা এবং রবি ফসল ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, সোমবার সকালে গাইবান্ধা জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। আবহাওয়াবিদরা জানান, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে চলমান শীতে সরকারি-বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ সীমিত থাকায় শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। মানবিক উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালাম জানান, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলায় শীতার্তদের মাঝে ইতোমধ্যে ৬শ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারি উদ্যোগ জোরদারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।