Dhaka ০১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পল্লীগীতির কণ্ঠশিল্পী আব্দুল আলীমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় ‘শোন গো রূপসী কন্যা’ বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩ নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত-৩, আহত-২৫, কারফিউ জারি খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সাঁতরে পার হওয়ার সময় বাঙালি নদীতে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

গাইবান্ধায় জলাতঙ্কে ৫ মৃত্যু: ক্ষতিপূরণ ও টিকা নিশ্চিতে হাইকোর্টে রিট

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ৬৫ Time View

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। রিটে নিহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ প্রদান, চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং দেশব্যাপী পর্যাপ্ত অ্যান্টি-রেবিস (জলাতঙ্ক) টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাফিনুর ইসলাম এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস. এম. সাইফুল ইসলামের দ্বৈত বেঞ্চে রিটের প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে গাইবান্ধার সিভিল সার্জনকে পুরো ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে আগামী ৮ জুনের মধ্যে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভ্যাকসিনের ঘাটতি ছিল কি না, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, রিট আবেদনে মূলত ৩টি প্রধান বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা ও রুল জারির আবেদন করা হয়েছে: ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা: নিহত নন্দা রাণী, ফুলু মিয়া ও রত্নেশ্বর কুমারসহ ৫ জনের পরিবারের জন্য উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ এবং বর্তমানে আক্রান্ত ও ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ সরকারি খরচে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। আইনি জবাবদিহিতা: সারাদেশে সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টি-রেবিস টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যর্থতা, টিকার ঘাটতি এবং চিকিৎসা অবহেলাকে কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন। নীতিমালা ও জাতীয় কমিশন: দেশব্যাপী সব জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে অ্যান্টি-রেবিস টিকার জরুরি মজুদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি ‘জাতীয় জরুরি প্রতিক্রিয়া নীতিমালা’ প্রণয়ন এবং টিকার প্রাপ্যতা ও চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি জাতীয় কমিশন গঠনের নির্দেশনা।

গত ১০ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে “৭২ ঘণ্টায় তিন মৃত্যু; ভ্যাকসিন সংকটে বাড়ছে জলাতঙ্ক আতঙ্ক” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়, যা এই রিটের ভিত্তি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ও ছাপরহাটী ইউনিয়নে পাগলা কুকুরের কামড়ে মোট ১৩ জন আক্রান্ত হন। আক্রান্তরা সরকারি হাসপাতালে গেলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন পাননি বলে অভিযোগ ওঠে। চিকিৎসায় বিলম্বের কারণে প্রথমে ৩ জন এবং পরবর্তীতে আরও ২ নারীসহ মোট ৫ জন জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বর্তমানে আহত আরও ১০ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

পল্লীগীতির কণ্ঠশিল্পী আব্দুল আলীমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় ‘শোন গো রূপসী কন্যা’

গাইবান্ধায় জলাতঙ্কে ৫ মৃত্যু: ক্ষতিপূরণ ও টিকা নিশ্চিতে হাইকোর্টে রিট

Update Time : ০১:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। রিটে নিহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ প্রদান, চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং দেশব্যাপী পর্যাপ্ত অ্যান্টি-রেবিস (জলাতঙ্ক) টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাফিনুর ইসলাম এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস. এম. সাইফুল ইসলামের দ্বৈত বেঞ্চে রিটের প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে গাইবান্ধার সিভিল সার্জনকে পুরো ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে আগামী ৮ জুনের মধ্যে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভ্যাকসিনের ঘাটতি ছিল কি না, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, রিট আবেদনে মূলত ৩টি প্রধান বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা ও রুল জারির আবেদন করা হয়েছে: ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা: নিহত নন্দা রাণী, ফুলু মিয়া ও রত্নেশ্বর কুমারসহ ৫ জনের পরিবারের জন্য উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ এবং বর্তমানে আক্রান্ত ও ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ সরকারি খরচে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। আইনি জবাবদিহিতা: সারাদেশে সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টি-রেবিস টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যর্থতা, টিকার ঘাটতি এবং চিকিৎসা অবহেলাকে কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন। নীতিমালা ও জাতীয় কমিশন: দেশব্যাপী সব জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে অ্যান্টি-রেবিস টিকার জরুরি মজুদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি ‘জাতীয় জরুরি প্রতিক্রিয়া নীতিমালা’ প্রণয়ন এবং টিকার প্রাপ্যতা ও চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি জাতীয় কমিশন গঠনের নির্দেশনা।

গত ১০ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে “৭২ ঘণ্টায় তিন মৃত্যু; ভ্যাকসিন সংকটে বাড়ছে জলাতঙ্ক আতঙ্ক” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়, যা এই রিটের ভিত্তি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ও ছাপরহাটী ইউনিয়নে পাগলা কুকুরের কামড়ে মোট ১৩ জন আক্রান্ত হন। আক্রান্তরা সরকারি হাসপাতালে গেলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন পাননি বলে অভিযোগ ওঠে। চিকিৎসায় বিলম্বের কারণে প্রথমে ৩ জন এবং পরবর্তীতে আরও ২ নারীসহ মোট ৫ জন জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বর্তমানে আহত আরও ১০ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।