Dhaka ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১ আধুনিকায়নের ফাঁদে ৬ বছর তালাবদ্ধ মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকল: ধুঁকছেন শ্রমিক, দিশেহারা আখচাষি অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ, দ্রুত চালুর দাবি দুর্নীতি ও হয়রানি রোধে গাইবান্ধায় অভিযোগ গ্রহণ শুরু, ১১ মে দুদকের গণশুনানি গাইবান্ধায় ছাত্র ইউনিয়নের ৭৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত রংপুরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট: মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থীরা ১০ বছরেও মেলেনি সুফল: স্লুইস গেট যেন কৃষকের গলার কাঁটা নৈশভোজে হামলা: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ট্রাম্প গোবিন্দগঞ্জে ট্রাক চাপায় এবং সাঘাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ যুবকের মৃত্যু হাম পরিস্থিতি: ২৪ ঘণ্টায় হামে ১১ শিশুর মৃত্যু স্ত্রীর তালাকের পর অভিমানে পেট্রোল ঢেলে স্বামীর আত্মহত্যা

গাইবান্ধায় সাঁওতাল যুব সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ১০৫ Time View

স্টাফ রিপোর্টঃ সাঁওতালসহ সকল বিভিন্ন জনজাতির ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষাসহ সরকারী সেবা প্রাপ্তিতে গাইবান্ধায় সাঁওতাল যুবদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শতাধিক সাঁওতাল-ওড়াওঁ সহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর যুব নারী-পুরুষ এতে অংশগ্রহণ করে।
বুধবার সন্ধ্যায় শিশু স্বর্গ ও বিনোদন পার্ক, গাইবান্ধায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রি প্রেস ইউনাইটেড ও আর্টিকেল নাইটিনের সহায়তায় একর্মসূচির আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অবলম্বন। বিকালে সাঁওতাল-ওড়াওঁসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তাদের অধিকার, ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশের দাবি-সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুনসহ সমাবেশে অংশ নেয়। সমাবেশ শেষে জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে।
অবলম্বন এর নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাজহারউল মান্নান, সাংস্কৃতিক কর্মী শিরিন আকতার, নারীনেত্রী মিতা হাসান, নাজমা বেগম, শিক্ষক অশোক সাহা, আহাদুজ্জামান রিমু, অবলম্বন এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর একেএম মাহবুব আলম মুকুল, সাঁওতাল নেত্রী সুরভী মার্ডি, ইয়ুথ নেতা স্বরস্বতী পাহাড়ী, সান্তনা রবিদাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এটি হতাশাজনক যে, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ৭১ বছর পরেও বাংলাদেশে বিভিন্ন জনজাতি নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের দাবি উপেক্ষিত হয়ে আসছে। বর্তমানে দেশের ৫০টির বেশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় রয়েছে অনেক গীত, ঝুমুর, লোকগাঁথা, প্রবাদ-প্রবচন, গল্প; যা কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে। এই সকল ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ জরুরি। না হলে ভাষাগুলো গবেষণা ও পরিচর্যার অভাবে হারিয়ে যাবে। তাদের সংস্কৃতিও বিলুপ্ত হচ্ছে। এরা বাংলাদেশের দরিদ্রতম প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। অধিকাংশই ভূমিহীন। সরকারী ও বেসরকারী সেবাদানকারী সংগঠনসমূহকে তাদের জীবনযাত্রার মান ও সংস্কৃতিক রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।
তারা বলেন, পৃথিবীর সব ভাষার প্রতি সম্মান এবং সংখ্যালঘু ও দুর্বল সম্প্রদায়ের ভাষা রক্ষায় সব দেশের সরকারদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ও সক্রিয় থাকা উচিত। দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা চর্চা ও বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই দেশের সব জাতির মাতৃভাষার প্রতি আমাদের সম্মান নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

kartick kartick

Popular Post

গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১

গাইবান্ধায় সাঁওতাল যুব সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

Update Time : ০৭:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টঃ সাঁওতালসহ সকল বিভিন্ন জনজাতির ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষাসহ সরকারী সেবা প্রাপ্তিতে গাইবান্ধায় সাঁওতাল যুবদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শতাধিক সাঁওতাল-ওড়াওঁ সহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর যুব নারী-পুরুষ এতে অংশগ্রহণ করে।
বুধবার সন্ধ্যায় শিশু স্বর্গ ও বিনোদন পার্ক, গাইবান্ধায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রি প্রেস ইউনাইটেড ও আর্টিকেল নাইটিনের সহায়তায় একর্মসূচির আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অবলম্বন। বিকালে সাঁওতাল-ওড়াওঁসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তাদের অধিকার, ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশের দাবি-সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুনসহ সমাবেশে অংশ নেয়। সমাবেশ শেষে জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে।
অবলম্বন এর নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাজহারউল মান্নান, সাংস্কৃতিক কর্মী শিরিন আকতার, নারীনেত্রী মিতা হাসান, নাজমা বেগম, শিক্ষক অশোক সাহা, আহাদুজ্জামান রিমু, অবলম্বন এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর একেএম মাহবুব আলম মুকুল, সাঁওতাল নেত্রী সুরভী মার্ডি, ইয়ুথ নেতা স্বরস্বতী পাহাড়ী, সান্তনা রবিদাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এটি হতাশাজনক যে, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ৭১ বছর পরেও বাংলাদেশে বিভিন্ন জনজাতি নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের দাবি উপেক্ষিত হয়ে আসছে। বর্তমানে দেশের ৫০টির বেশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় রয়েছে অনেক গীত, ঝুমুর, লোকগাঁথা, প্রবাদ-প্রবচন, গল্প; যা কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে। এই সকল ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ জরুরি। না হলে ভাষাগুলো গবেষণা ও পরিচর্যার অভাবে হারিয়ে যাবে। তাদের সংস্কৃতিও বিলুপ্ত হচ্ছে। এরা বাংলাদেশের দরিদ্রতম প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। অধিকাংশই ভূমিহীন। সরকারী ও বেসরকারী সেবাদানকারী সংগঠনসমূহকে তাদের জীবনযাত্রার মান ও সংস্কৃতিক রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।
তারা বলেন, পৃথিবীর সব ভাষার প্রতি সম্মান এবং সংখ্যালঘু ও দুর্বল সম্প্রদায়ের ভাষা রক্ষায় সব দেশের সরকারদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ও সক্রিয় থাকা উচিত। দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা চর্চা ও বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই দেশের সব জাতির মাতৃভাষার প্রতি আমাদের সম্মান নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে।