Dhaka ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

 গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে বিনম্র শ্রদ্ধায় বিদায় দেয়া হলো প্রয়াত সাংবাদিক মশিয়ার রহমান খানকে  

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
  • ১০০ Time View

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ শেষ শ্রদ্ধা জানালেন সাংবাদিক মশিয়ার রহমান খানকে। বুধবার বাদ মাগরিব সাংবাদিক মশিয়ার রহমান খানের মরদেহ কাচারি বাজারস্থ গাইবান্ধা প্রেসক্লাব চত্বরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মাজহারউল মান্নান, এম.আবদুস্‌ সালাম, গোবিন্দলাল দাস, ওয়াজিউর রহমার রাফেল, সাইফুল ইসলাম দুলু, অধ্যাপক মমতাজুর রহমান বাবু, কবি দেবাশীষ দাশ দেবু, অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন, সহ-সভাপতি রেজাউন্নবী রাজু, মো. খালেদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসউজ্জামান মোনা, যুগ্ম সম্পাদক জাভেদ হোসেন, যোবায়ের আলী, রোকনুজ্জামান, কুদ্দুস আলম, আফতাব হোসেন প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা জোবায়ের আলী। পরে তাঁর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় কমিউনিস্ট পার্টি, গাইবান্ধা প্রেসক্লাব, গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চ, উদীচী, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ, সাতভাই চম্পা, মহিলা পরিষদ, সিপিবি নারী শাখাসহ বিভিন্ন সংগঠন।

এরপর বাদ এশা গোরস্থান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। এর আগে ভোরে ঢাকার রামপুরায় ছেলে ডা. ইশতিয়াক খান নির্ঝরের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক জেলা প্রতিনিধি, সাপ্তাহিক গাইবান্ধা ও দৈনিক সন্ধান এর সম্পাদক, ছড়াকার ও সংগঠক মশিয়ার রহমান খান (ইন্নালিল্লাহি……রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল (৭৫) বছর। তিনি শহরের ব্রিজ রোডের বাসিন্দা ছিলেন।

মশিয়ার রহমান খান ১৯৫০ সালে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের উজান বোচাগাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হেমায়েত হোসেন খান, মাতা- মজিদা খানম। ৬ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ৫ম। এক ছেলে ইশতিয়াক খান নির্ঝর একজন চিকিৎসক। তার স্ত্রী তানজিনা আকতার রাকা আগেই মারা গেছেন।

মশিয়ার রহমান খান গত শতকের ষাটের দশকে সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। তিনি ছড়া লিখে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন। দীর্ঘ বছর ছড়া লিখলেও ২০২৫ সালে একুশের বই মেলায় তাঁর রচিত আমরা ছিলাম খোঁয়াড়ে নামে একটি ছড়া গ্রন্থ প্রকাশিত হয়, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এছাড়াও ছন্দের আলপনা ছড়া সংকলনের তিনি অন্যতম লেখক। শিশু সংগঠন সাত ভাই চমপা ও গাইবান্ধা সাহিত্য পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।

মশিয়ার রহমান খান ১৯৭২ সালে বার্তা সংস্থা বাংলাশে প্রেস ইন্টারন্যাশনাল (বিপিআই)-এর গাইবান্ধা সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৭৪ সালের শেষদিকে দৈনিক বাংলার বাণী-তে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাক-এর গাইবান্ধা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি গাইবান্ধা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় পত্রিকা সাপ্তাহিক গাইবান্ধা ও পরে দৈনিক সন্ধান এর সমপাদক ও প্রকাশক ছিলেন। তিনি ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যনত্ম অবিভক্ত গাইবান্ধা প্রেসক্লাব-এর সাধারণ সমপাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গোবিন্দগঞ্জে বিষাক্ত মদপানে যুবকের মৃত্যু, অসুস্থ ২

 গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে বিনম্র শ্রদ্ধায় বিদায় দেয়া হলো প্রয়াত সাংবাদিক মশিয়ার রহমান খানকে  

Update Time : ১১:১৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ শেষ শ্রদ্ধা জানালেন সাংবাদিক মশিয়ার রহমান খানকে। বুধবার বাদ মাগরিব সাংবাদিক মশিয়ার রহমান খানের মরদেহ কাচারি বাজারস্থ গাইবান্ধা প্রেসক্লাব চত্বরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মাজহারউল মান্নান, এম.আবদুস্‌ সালাম, গোবিন্দলাল দাস, ওয়াজিউর রহমার রাফেল, সাইফুল ইসলাম দুলু, অধ্যাপক মমতাজুর রহমান বাবু, কবি দেবাশীষ দাশ দেবু, অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন, সহ-সভাপতি রেজাউন্নবী রাজু, মো. খালেদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসউজ্জামান মোনা, যুগ্ম সম্পাদক জাভেদ হোসেন, যোবায়ের আলী, রোকনুজ্জামান, কুদ্দুস আলম, আফতাব হোসেন প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা জোবায়ের আলী। পরে তাঁর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় কমিউনিস্ট পার্টি, গাইবান্ধা প্রেসক্লাব, গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চ, উদীচী, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ, সাতভাই চম্পা, মহিলা পরিষদ, সিপিবি নারী শাখাসহ বিভিন্ন সংগঠন।

এরপর বাদ এশা গোরস্থান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। এর আগে ভোরে ঢাকার রামপুরায় ছেলে ডা. ইশতিয়াক খান নির্ঝরের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক জেলা প্রতিনিধি, সাপ্তাহিক গাইবান্ধা ও দৈনিক সন্ধান এর সম্পাদক, ছড়াকার ও সংগঠক মশিয়ার রহমান খান (ইন্নালিল্লাহি……রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল (৭৫) বছর। তিনি শহরের ব্রিজ রোডের বাসিন্দা ছিলেন।

মশিয়ার রহমান খান ১৯৫০ সালে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের উজান বোচাগাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হেমায়েত হোসেন খান, মাতা- মজিদা খানম। ৬ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ৫ম। এক ছেলে ইশতিয়াক খান নির্ঝর একজন চিকিৎসক। তার স্ত্রী তানজিনা আকতার রাকা আগেই মারা গেছেন।

মশিয়ার রহমান খান গত শতকের ষাটের দশকে সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। তিনি ছড়া লিখে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন। দীর্ঘ বছর ছড়া লিখলেও ২০২৫ সালে একুশের বই মেলায় তাঁর রচিত আমরা ছিলাম খোঁয়াড়ে নামে একটি ছড়া গ্রন্থ প্রকাশিত হয়, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এছাড়াও ছন্দের আলপনা ছড়া সংকলনের তিনি অন্যতম লেখক। শিশু সংগঠন সাত ভাই চমপা ও গাইবান্ধা সাহিত্য পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।

মশিয়ার রহমান খান ১৯৭২ সালে বার্তা সংস্থা বাংলাশে প্রেস ইন্টারন্যাশনাল (বিপিআই)-এর গাইবান্ধা সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৭৪ সালের শেষদিকে দৈনিক বাংলার বাণী-তে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাক-এর গাইবান্ধা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি গাইবান্ধা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় পত্রিকা সাপ্তাহিক গাইবান্ধা ও পরে দৈনিক সন্ধান এর সমপাদক ও প্রকাশক ছিলেন। তিনি ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যনত্ম অবিভক্ত গাইবান্ধা প্রেসক্লাব-এর সাধারণ সমপাদকের দায়িত্ব পালন করেন।