টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার মা-ছেলেসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছামাত্র এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নে পুর্ব নিজপাড়া ও বোয়ালীদহ গ্রামে ৫ ব্যক্তির মরদেহ পৌঁছে।
নিহতরা হলেন, পূর্ব নিজপাড়া গ্রামের হামিদুজ্জামান মিয়ার স্ত্রী নার্গিস বেগম (৪০) তার ছেলে নিরব মিয়া (১১), আজিজার রহমানের ছেলে সুলতান রহমান (২৫), আবদুর রশিদ মিয়ার মেয়ে রিফা আক্তার (২০) ও বোয়ালীদহ নামাপাড়া গ্রামের দোলা বেগম (২৫)।
নিহততের স্বজনরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সবাই টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকার গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। এরই মধ্যেই ঈদের ছুটি বাড়িতে আসেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য শুক্রবার (২৭ মার্চ) স্থানীয় পঁচার বাজার থেকে বনশ্রী বাসযোগে টাঙ্গাইলের দিকে রওনা হয়। পথিমধ্যে কালিহাতী এলাকায় বাসটির তেল ফুরিয়ে যায়। এ সময় যাত্রীরা অলস সময় পার করতে ট্রেন লাইনে বসে পড়েন। এতে হঠাৎ ট্রেন চলে আসায় কাটা পড়ে ওই ৫ যাত্রী ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন।
এদিকে শনিবার সকালে নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের চোখে এখন শুধু অশ্রু আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কা।
এ বিষয়ে নিহত নার্গিসের স্বামী হামিদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমার স্ত্রী নার্গিস বেগম গার্মেন্টেসে চাকরি করে সংসার চালাতেন। এরই মধ্যে আমার স্ত্রী-সন্তান দুজনে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেল। এখন আমি কিভাবে বাঁচবো?
সাদুল্লাপুরে ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন বলেন, ট্রেনে কাটা পড়ে আমাদের এলাকায় ৫ জন নিহতের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ইতোমধ্যে শোকাহত পরিবারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করা হবে।

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 


















