Dhaka ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১ আধুনিকায়নের ফাঁদে ৬ বছর তালাবদ্ধ মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকল: ধুঁকছেন শ্রমিক, দিশেহারা আখচাষি অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ, দ্রুত চালুর দাবি দুর্নীতি ও হয়রানি রোধে গাইবান্ধায় অভিযোগ গ্রহণ শুরু, ১১ মে দুদকের গণশুনানি গাইবান্ধায় ছাত্র ইউনিয়নের ৭৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত রংপুরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট: মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থীরা ১০ বছরেও মেলেনি সুফল: স্লুইস গেট যেন কৃষকের গলার কাঁটা নৈশভোজে হামলা: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ট্রাম্প গোবিন্দগঞ্জে ট্রাক চাপায় এবং সাঘাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ যুবকের মৃত্যু হাম পরিস্থিতি: ২৪ ঘণ্টায় হামে ১১ শিশুর মৃত্যু স্ত্রীর তালাকের পর অভিমানে পেট্রোল ঢেলে স্বামীর আত্মহত্যা

টিউশনির টাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন সুন্দরগঞ্জের এমপি প্রার্থী পরমানন্দ

টিউশনির টাকা আর দাদার পুরাতন মোটরসাইকেলে চেপে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের এমপি প্রার্থী পরমানন্দ দাস।  প্রচারণার শেষ সময়ে এসে বিষয়টি নজর কেড়েছে সবার। তিনি বাংলাদেশ সামাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এর প্রার্থী হিসেবে কাঁচি মার্কায় নির্বাচন করছেন।

এই আসনে হেভিওয়েট তিন প্রার্থীসহ মোট আটজন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী লাঙল প্রতীক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাজেদুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. জিয়াউল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

আসনটি রাজনৈতিকভাবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। প্রার্থীরা দলবল নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা  করছেন। মঞ্চ সাজিয়ে শত শত কর্মী-সমর্থক নিয়ে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) প্রার্থী পরমানন্দ দাসের প্রচারণার কৌশলটা ভিন্নধর্মী।

সোমবার (৯ ফেব্রয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার বামনডাঙ্গা, সোনারায়, পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান পরমানন্দ। দাদার সেই পুরোনো একটি মোটরসাইকেলই তার একমাত্র বাহন। তাতে কাঠের কাঁচি ও পোষ্টার বাঁধানো। পিছনে আর সামনের অংশে আছে মাইক। এভাবে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ভোট চাচ্ছেন পরমানন্দ দাস।

গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে বেড়াচ্ছেন। যে দিকে যাচ্ছেন সেদিকের বাজারে দাড়িয়ে এক হাতে হ্যান্ডমাইক দিয়ে নিজের প্রচারণা করছেন, আরেক হাত দিয়ে হ্যান্ডবিল বিতরণ করছেন । মাইকে বলছেন- ও চাচি, ও খালা, ও আপা, ও দাদি, ও আন্টি, ও চাচা, ও অটোচালক ভাই, কৃষক ভাই, ও ভাতিজা, আমার কাঁচি মার্কায় একটি করে ভোট দেন। নির্বাচিত হলে আমি বেকার সমস্যা সমাধান করব। সংসদে গিয়ে আপনাদের সমস্যার কথা তুলে ধরবো।

তার এমন প্রচারণা দেখতে পেয়ে লোকজন জড়ো হচ্ছেন। এসব জায়গায় লোক জমায়েত করে পরমানন্দ দাস বলছেন, পেট্রোল খরচ হয় নাই, আমার কাছে থাকা টিউশনির টাকা দিয়ে গাড়ীতে তেল তুলেছি। তাই আমি একাই মোটরসাইকেলে নিজের প্রচারণা চালাচ্ছি। আমার কোনো কর্মীবাহিনী নেই। যারা আমাকে ভালোবাসেন, তারাই আমাকে ভোট দিবেন। আমার নির্বাচনী খরচ নেই। তাই নির্বাচিত হলে টাকা তোলারও চাপ থাকবে না। যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন, তারা নির্বাচিত হলে তো অনিয়ম-দুর্নীতি করে নিজের টাকা আগে তুলবেন। আমার ক্ষেত্রে তা হবে না। আমি নির্বাচিত হলেও এখানেই থাকব। আপনারা আমাকে সব সময় পাশে পাবেন।

পরমানন্দ দাসের জীবনটা শুরু হয়েছিল একেবারে প্রান্তিক বাস্তবতায়। অজপাড়াগাঁয়ে বাবার সঙ্গে মাছ ধরে সংসারের চাকা ঘোরাতেন তিনি। সেই কাদামাখা জীবন থেকেই স্বপ্ন দেখেছেন বড় হওয়ার, মানুষের জন্য কিছু করার। অভাবের সঙ্গে লড়াই করেই পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন। এলএলবি ও স্নাতকোত্তর শেষ করলেও কপালে জোটেনি কোনো চাকরি। পরে টিউশনি করেই সংসার চালাতে শুরু করেন। সেই টিউশনির টাকা একটু একটু করে জমিয়ে এবার সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন তিনি।

উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছহাটী গ্রামের রামচন্দ্র দাসের ছেলে‎ পরমানন্দ দাস। বাবা রামচন্দ্র পেশায় একজন জেলে। অভাবের সংসারে ছেলেকে পড়ালেখা করানো ছিল কঠিন এক লড়াই। তবু বাবা-মায়ের স্বপ্ন আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি গাইবান্ধা শহরের গোবিন্দপুর এলাকায় বসবাস করেন এবং সেখান থেকেই টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

‎এই আসনে ১২৩টি ভোটকেন্দ্রে ৭৬৯টি কক্ষে মোট ৪ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৫৭৪, নারী ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৫৩৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১

টিউশনির টাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন সুন্দরগঞ্জের এমপি প্রার্থী পরমানন্দ

Update Time : ০১:৩২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
টিউশনির টাকা আর দাদার পুরাতন মোটরসাইকেলে চেপে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের এমপি প্রার্থী পরমানন্দ দাস।  প্রচারণার শেষ সময়ে এসে বিষয়টি নজর কেড়েছে সবার। তিনি বাংলাদেশ সামাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এর প্রার্থী হিসেবে কাঁচি মার্কায় নির্বাচন করছেন।

এই আসনে হেভিওয়েট তিন প্রার্থীসহ মোট আটজন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী লাঙল প্রতীক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাজেদুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. জিয়াউল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

আসনটি রাজনৈতিকভাবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। প্রার্থীরা দলবল নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা  করছেন। মঞ্চ সাজিয়ে শত শত কর্মী-সমর্থক নিয়ে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) প্রার্থী পরমানন্দ দাসের প্রচারণার কৌশলটা ভিন্নধর্মী।

সোমবার (৯ ফেব্রয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার বামনডাঙ্গা, সোনারায়, পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান পরমানন্দ। দাদার সেই পুরোনো একটি মোটরসাইকেলই তার একমাত্র বাহন। তাতে কাঠের কাঁচি ও পোষ্টার বাঁধানো। পিছনে আর সামনের অংশে আছে মাইক। এভাবে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ভোট চাচ্ছেন পরমানন্দ দাস।

গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে বেড়াচ্ছেন। যে দিকে যাচ্ছেন সেদিকের বাজারে দাড়িয়ে এক হাতে হ্যান্ডমাইক দিয়ে নিজের প্রচারণা করছেন, আরেক হাত দিয়ে হ্যান্ডবিল বিতরণ করছেন । মাইকে বলছেন- ও চাচি, ও খালা, ও আপা, ও দাদি, ও আন্টি, ও চাচা, ও অটোচালক ভাই, কৃষক ভাই, ও ভাতিজা, আমার কাঁচি মার্কায় একটি করে ভোট দেন। নির্বাচিত হলে আমি বেকার সমস্যা সমাধান করব। সংসদে গিয়ে আপনাদের সমস্যার কথা তুলে ধরবো।

তার এমন প্রচারণা দেখতে পেয়ে লোকজন জড়ো হচ্ছেন। এসব জায়গায় লোক জমায়েত করে পরমানন্দ দাস বলছেন, পেট্রোল খরচ হয় নাই, আমার কাছে থাকা টিউশনির টাকা দিয়ে গাড়ীতে তেল তুলেছি। তাই আমি একাই মোটরসাইকেলে নিজের প্রচারণা চালাচ্ছি। আমার কোনো কর্মীবাহিনী নেই। যারা আমাকে ভালোবাসেন, তারাই আমাকে ভোট দিবেন। আমার নির্বাচনী খরচ নেই। তাই নির্বাচিত হলে টাকা তোলারও চাপ থাকবে না। যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন, তারা নির্বাচিত হলে তো অনিয়ম-দুর্নীতি করে নিজের টাকা আগে তুলবেন। আমার ক্ষেত্রে তা হবে না। আমি নির্বাচিত হলেও এখানেই থাকব। আপনারা আমাকে সব সময় পাশে পাবেন।

পরমানন্দ দাসের জীবনটা শুরু হয়েছিল একেবারে প্রান্তিক বাস্তবতায়। অজপাড়াগাঁয়ে বাবার সঙ্গে মাছ ধরে সংসারের চাকা ঘোরাতেন তিনি। সেই কাদামাখা জীবন থেকেই স্বপ্ন দেখেছেন বড় হওয়ার, মানুষের জন্য কিছু করার। অভাবের সঙ্গে লড়াই করেই পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন। এলএলবি ও স্নাতকোত্তর শেষ করলেও কপালে জোটেনি কোনো চাকরি। পরে টিউশনি করেই সংসার চালাতে শুরু করেন। সেই টিউশনির টাকা একটু একটু করে জমিয়ে এবার সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন তিনি।

উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছহাটী গ্রামের রামচন্দ্র দাসের ছেলে‎ পরমানন্দ দাস। বাবা রামচন্দ্র পেশায় একজন জেলে। অভাবের সংসারে ছেলেকে পড়ালেখা করানো ছিল কঠিন এক লড়াই। তবু বাবা-মায়ের স্বপ্ন আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি গাইবান্ধা শহরের গোবিন্দপুর এলাকায় বসবাস করেন এবং সেখান থেকেই টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

‎এই আসনে ১২৩টি ভোটকেন্দ্রে ৭৬৯টি কক্ষে মোট ৪ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৫৭৪, নারী ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৫৩৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।