
এই আসনে হেভিওয়েট তিন প্রার্থীসহ মোট আটজন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী লাঙল প্রতীক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাজেদুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. জিয়াউল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।
আসনটি রাজনৈতিকভাবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। প্রার্থীরা দলবল নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করছেন। মঞ্চ সাজিয়ে শত শত কর্মী-সমর্থক নিয়ে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) প্রার্থী পরমানন্দ দাসের প্রচারণার কৌশলটা ভিন্নধর্মী।
সোমবার (৯ ফেব্রয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার বামনডাঙ্গা, সোনারায়, পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান পরমানন্দ। দাদার সেই পুরোনো একটি মোটরসাইকেলই তার একমাত্র বাহন। তাতে কাঠের কাঁচি ও পোষ্টার বাঁধানো। পিছনে আর সামনের অংশে আছে মাইক। এভাবে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ভোট চাচ্ছেন পরমানন্দ দাস।
গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে বেড়াচ্ছেন। যে দিকে যাচ্ছেন সেদিকের বাজারে দাড়িয়ে এক হাতে হ্যান্ডমাইক দিয়ে নিজের প্রচারণা করছেন, আরেক হাত দিয়ে হ্যান্ডবিল বিতরণ করছেন । মাইকে বলছেন- ও চাচি, ও খালা, ও আপা, ও দাদি, ও আন্টি, ও চাচা, ও অটোচালক ভাই, কৃষক ভাই, ও ভাতিজা, আমার কাঁচি মার্কায় একটি করে ভোট দেন। নির্বাচিত হলে আমি বেকার সমস্যা সমাধান করব। সংসদে গিয়ে আপনাদের সমস্যার কথা তুলে ধরবো।
তার এমন প্রচারণা দেখতে পেয়ে লোকজন জড়ো হচ্ছেন। এসব জায়গায় লোক জমায়েত করে পরমানন্দ দাস বলছেন, পেট্রোল খরচ হয় নাই, আমার কাছে থাকা টিউশনির টাকা দিয়ে গাড়ীতে তেল তুলেছি। তাই আমি একাই মোটরসাইকেলে নিজের প্রচারণা চালাচ্ছি। আমার কোনো কর্মীবাহিনী নেই। যারা আমাকে ভালোবাসেন, তারাই আমাকে ভোট দিবেন। আমার নির্বাচনী খরচ নেই। তাই নির্বাচিত হলে টাকা তোলারও চাপ থাকবে না। যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন, তারা নির্বাচিত হলে তো অনিয়ম-দুর্নীতি করে নিজের টাকা আগে তুলবেন। আমার ক্ষেত্রে তা হবে না। আমি নির্বাচিত হলেও এখানেই থাকব। আপনারা আমাকে সব সময় পাশে পাবেন।

হবিবর রহমান হবি: 


















