Dhaka ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাইবান্ধায় দীঘিতে গোসলে নেমে তিন বন্ধুর তর্ক, এক কিশোরকে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ জিইউকের ৩ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: আনন্দলোক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ জিইউকের ৩ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: আনন্দলোক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ গাইবান্ধায় সামাজিক সংগঠন ‘হৃদয়ে চরাঞ্চল’-এর সূচনা সভা অনুষ্ঠিত পলাশবাড়িতে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া, এলাকায় থমথমে অবস্থা অবশেষে সত্যি হলো গুঞ্জন, শাকিবের সেই নীতিই মেনেছিলেন বুবলী বিশ্বকাপ ফুটবল সরাসরি দেখাবে বিটিভি বিশেষ অসহায় নারীর জমিসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ, থানায় মেলেনি প্রতিকার গাইবান্ধায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকের পুরস্কার বিতরণ গোবিন্দগঞ্জে বিষাক্ত মদপানে যুবকের মৃত্যু, অসুস্থ ২

সিজুর মৃত্যু পানিতে ডুবে নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি পরিবারের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে গাইবান্ধাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
  • ২১৭ Time View

 

স্টাফ রিপোর্ট ঃ গাইবান্ধার সাঘাটা থানায় ঢুকে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মহসিন আলীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় পুকুরে ডুবে মারা যাওয়া যুবক সিজু মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাইবান্ধাবাসী। পরিবারের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত ‘হত্যা’।
আজ শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেল গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন সিজুর স্বজন ও স্থানীয়রা। এতে অংশ নেন গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভে বক্তারা সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদশা আলমকে অভিযুক্ত করে অবিলম্বে তাকে প্রত্যাহার ও গ্রেফতারের দাবি জানান।
বক্তাতারা আরও বলেন, ‘সিজুর মৃত্যু পানিতে ডুবে নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাকে ঠান্ডা মাথায় মেরে ফেলা হয়েছে।’ সিজু সুস্থ সবল একজন স্বাভাবিক যুবক।
বিকেল দেড়ঘণ্টা ব্যাপী মানববন্ধনচলাকালে পরে বিক্ষোভে রুপ নেয় সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত চলে। এসময় উত্তেজিত জনতা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এসময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে রাস্তা ফাঁকা করার কথা জানালে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এসময় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল আলম বিক্ষেভকারীদের সাথে কথা বলে তাদের শান্ত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। কিন্তু উপস্থিত জনতা পুলিশ সুপারকে আসার দাবি তোলেন। পরে আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা বিক্ষোভ স্থলে আসতে বাধ্য হন। তবে পুলিশ সুপার এসে নিহত সিজুর মা-সহ তার নিকটতম কয়েকজন নিয়ে তার কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলবেন বলে নিয়ে যান।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত ৮ টায় সিজুর মা পুলিশ সুপারের কার্যালয়েই এসপির সাথে কথা বলতে ছিলেন।
এদিকে, এর আগে দুপুরে বাদ জোহর সিজুর নিজ গ্রাম গিদারীতে জানাজা নামাজের পূর্বে গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল করিম বক্তব্য রাখেন। তিনি সিজুকে ইসলামী ছাত্র শিবিরের একজন সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করে বলেন, “সিজু অন্যায়ের প্রতিবাদ করতো বলেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।” এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত বিচার দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার সকালে সাঘাটা থানার পাশে সাঘাটা হাই স্কুলের পুকুর থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে সিজুর মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
পরে থানা চত্বরে সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল, ভারপ্রাপ্ত) বিদ্রোহ কুমার কুন্ড আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে সিজু মিয়া সাঘাটা থানায় যান মোবাইল হারানোর বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তাকে জিডি করতে দেওয়া হয়নি। পরে ৫০ টাকা দিয়ে পুলিশ নিজেই তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু প্রায় ঘণ্টাখানেক পর ফের ফিরে এসে ছুরি হাতে থানায় ঢুকে পড়েন তিনি। এ সময় দায়িত্বরত কনস্টেবল সেরাজুলের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে এবং এএসআই মহসিন আলীকে মাথা ও হাতে ছুরিকাঘাত করেন।
তিনি আরো জানান, হামলার পরপরই সিজু দৌঁড়ে পালিয়ে থানার পেছনে থাকা পাইলট স্কুলের পুকুরে ঝাঁপ দেন। রাতে পুকুরের গভীরতা বেশি থাকায় উদ্ধার সম্ভব না হওয়ায় রংপুর থেকে ডুবুরি দল এনে পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
তার আগে ঘটনার দিন (বৃহস্পতিবার) সাঘাটা থানার ওসি বাদশা আলম সাংবাদিকদের বলেন, “সিজুর মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ ছিল। তবে তার হামলার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

kartick kartick

Popular Post

গাইবান্ধায় দীঘিতে গোসলে নেমে তিন বন্ধুর তর্ক, এক কিশোরকে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ

সিজুর মৃত্যু পানিতে ডুবে নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি পরিবারের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে গাইবান্ধাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

Update Time : ০৯:৩২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

 

স্টাফ রিপোর্ট ঃ গাইবান্ধার সাঘাটা থানায় ঢুকে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মহসিন আলীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় পুকুরে ডুবে মারা যাওয়া যুবক সিজু মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাইবান্ধাবাসী। পরিবারের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত ‘হত্যা’।
আজ শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেল গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন সিজুর স্বজন ও স্থানীয়রা। এতে অংশ নেন গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভে বক্তারা সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদশা আলমকে অভিযুক্ত করে অবিলম্বে তাকে প্রত্যাহার ও গ্রেফতারের দাবি জানান।
বক্তাতারা আরও বলেন, ‘সিজুর মৃত্যু পানিতে ডুবে নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাকে ঠান্ডা মাথায় মেরে ফেলা হয়েছে।’ সিজু সুস্থ সবল একজন স্বাভাবিক যুবক।
বিকেল দেড়ঘণ্টা ব্যাপী মানববন্ধনচলাকালে পরে বিক্ষোভে রুপ নেয় সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত চলে। এসময় উত্তেজিত জনতা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এসময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে রাস্তা ফাঁকা করার কথা জানালে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এসময় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল আলম বিক্ষেভকারীদের সাথে কথা বলে তাদের শান্ত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। কিন্তু উপস্থিত জনতা পুলিশ সুপারকে আসার দাবি তোলেন। পরে আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা বিক্ষোভ স্থলে আসতে বাধ্য হন। তবে পুলিশ সুপার এসে নিহত সিজুর মা-সহ তার নিকটতম কয়েকজন নিয়ে তার কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলবেন বলে নিয়ে যান।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত ৮ টায় সিজুর মা পুলিশ সুপারের কার্যালয়েই এসপির সাথে কথা বলতে ছিলেন।
এদিকে, এর আগে দুপুরে বাদ জোহর সিজুর নিজ গ্রাম গিদারীতে জানাজা নামাজের পূর্বে গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল করিম বক্তব্য রাখেন। তিনি সিজুকে ইসলামী ছাত্র শিবিরের একজন সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করে বলেন, “সিজু অন্যায়ের প্রতিবাদ করতো বলেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।” এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত বিচার দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার সকালে সাঘাটা থানার পাশে সাঘাটা হাই স্কুলের পুকুর থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে সিজুর মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
পরে থানা চত্বরে সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল, ভারপ্রাপ্ত) বিদ্রোহ কুমার কুন্ড আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে সিজু মিয়া সাঘাটা থানায় যান মোবাইল হারানোর বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তাকে জিডি করতে দেওয়া হয়নি। পরে ৫০ টাকা দিয়ে পুলিশ নিজেই তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু প্রায় ঘণ্টাখানেক পর ফের ফিরে এসে ছুরি হাতে থানায় ঢুকে পড়েন তিনি। এ সময় দায়িত্বরত কনস্টেবল সেরাজুলের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে এবং এএসআই মহসিন আলীকে মাথা ও হাতে ছুরিকাঘাত করেন।
তিনি আরো জানান, হামলার পরপরই সিজু দৌঁড়ে পালিয়ে থানার পেছনে থাকা পাইলট স্কুলের পুকুরে ঝাঁপ দেন। রাতে পুকুরের গভীরতা বেশি থাকায় উদ্ধার সম্ভব না হওয়ায় রংপুর থেকে ডুবুরি দল এনে পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
তার আগে ঘটনার দিন (বৃহস্পতিবার) সাঘাটা থানার ওসি বাদশা আলম সাংবাদিকদের বলেন, “সিজুর মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ ছিল। তবে তার হামলার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।