Dhaka ১২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
তুরস্কের লড়াই, তবুও হার! পলাশবাড়ীতে এমপির উন্নয়ন বরাদ্দ বিতরণ ও সড়ক কাজের উদ্বোধন বিশ্বকাপে গোলের বিশ্বরেকর্ড পুনরুদ্ধার করল ব্রাজিল মেসিকে নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে! কেন লাল কার্ড নয়? ফিফার কাছে নালিশ আলজেরিয়ার নেইমার ফিরছেন, রাফিনিয়ার চোট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্রাজিল হাইতিকে হারিয়ে স্বস্তির জয় ব্রাজিলের, তবে কাটেনি মাঝমাঠের দুশ্চিন্তা চিলমারীতে ব্রিজে ওঠার সংযোগ সড়কের বেহাল দশা ভোগান্তিতে ৫০হাজার মানুষ অতিবৃষ্টিতে সুন্দরগঞ্জ-মাওলানা ভাসানী সেতু সড়ক ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ গাইবান্ধায় দীঘিতে গোসলে নেমে তিন বন্ধুর তর্ক, এক কিশোরকে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ জিইউকের ৩ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: আনন্দলোক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ

হাইতিকে হারিয়ে স্বস্তির জয় ব্রাজিলের, তবে কাটেনি মাঝমাঠের দুশ্চিন্তা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ১৯ Time View

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের ব্যবধান আকাশ-পাতাল-৮২ ধাপ! ব্রাজিল যেখানে বিশ্ব ফুটবলের পঞ্চম স্থানে, সেখানে হাইতির অবস্থান ৮৭তম। এত বড় ব্যবধানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শক্তিশালী দলের আসল শক্তি বা পরিপক্বতা পুরোপুরি পরিমাপ করা কঠিন। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কতটা নিজেদের হাতে ছিল, সেই মূল্যায়ন করাই যায়। আর এই মাপকাঠিতে হাইতির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জিতলেও, কিছু পুরোনো দুশ্চিন্তা রয়েই গেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের।

মরক্কোর বিপক্ষে গত ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্সে বেশ কিছু ঘাটতি ছিল। বিশেষ করে রক্ষণে ইবানিয়েজ, মিডফিল্ডে কাসেমিরো-পাকেতা এবং ফরোয়ার্ড লাইনে ইগর থিয়াগোর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ একাদশে দুটি পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ। ইবানিয়েজের জায়গায় দানিলো এবং ইগর থিয়াগোর জায়গায় সুযোগ পান মাতেউস কুনিয়া।

কোচের করা পরিবর্তনগুলো প্রথমার্ধেই দারুণভাবে কাজে দেয়। ডান প্রান্তে দানিলোর দারুণ পারফরম্যান্সের কারণে উইং নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি ব্রাজিলকে। তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিলেন মাতেউস কুনিয়া। ডায়মন্ড ফরমেশনে কুনিয়াকে একদম সামনে খেলানোর সিদ্ধান্তটি ব্রাজিলের আক্রমণে গতি ও ভারসাম্য এনে দেয়। ম্যাচের প্রথম গোলটি কিছুটা ভাগ্য সহায় হওয়ায় আসলেও, কুনিয়ার দ্বিতীয় গোলটি ছিল দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের জাদু। আক্রমণে ধার বাড়ানোর পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য ফাঁকা জায়গাও তৈরি করে দিচ্ছিলেন তিনি।

ম্যাচ জিতলেও প্রথমার্ধের শুরুতে লুকাস পাকেতা ও কাসেমিরোর মধ্যকার সমন্বয়হীনতা ছিল চোখে পড়ার মতো। দুজনকে মাঝমাঠে বেশ বিচ্ছিন্ন মনে হয়েছে, এমনকি বল হারানোর পর তা পুনরুদ্ধারের তীব্র চেষ্টাও দেখা যায়নি। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পাকেতা ছন্দ ফিরে পান এবং ব্রুনো গিমাইরাস মাঝমাঠের হাল ধরেন।

ব্রাজিলের জন্য আসল উদ্বেগের জায়গা এখন কাসেমিরো। প্রথমার্ধে অন্তত দুবার তিনি যেভাবে সহজে পরাস্ত হয়েছেন, তা ব্রাজিলের মাঝমাঠের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। পরবর্তীতে পাকেতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার পর ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সৃজনশীলতা এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ দৃশ্যত কমে যায়।

বাঁ প্রান্তে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আবারও প্রমাণ করেছেন, মরক্কোর বিপক্ষে তাঁর ভালো খেলা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। হাইতির রক্ষণভাগে অনবরত ভীতি ছড়িয়েছেন তিনি, দলের দুটি গোলেই ছিল তাঁর অবদান। তবে বল পায়ে অতিরিক্ত সময় রাখার প্রবণতা কোচ আনচেলত্তিকে কিছুটা বিরক্ত করতে পারে।

দ্বিতীয়াল্ধে ব্রাজিলকে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে। একপর্যায়ে মাঠে একসঙ্গে চার ফরোয়ার্ড—ভিনিসিয়ুস, রায়ান, এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে খেলিয়ে বড় পরীক্ষা চালান আনচেলত্তি। তবে এই চারজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া বা কৌশলগত সমন্বয় তৈরি হওয়ার মতো যথেষ্ট সুযোগ ছিল না। ফলে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফাঁদে পড়ে দ্বিতীয় অংশে ম্যাচের ওপর থেকে দাপট হারায় ‘সেলেসাও’রা।

শেষ কথা

দিন শেষে ৩-০ গোলের জয়টি ব্রাজিলের জন্য স্বস্তির হলেও ম্যাচজুড়ে ভুল পাস ও বল নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। হাইতির মতো দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে যেখানে গোল উৎসব করার সুযোগ ছিল, সেখানে আনচেলত্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় না গিয়ে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে পারতেন।

সব মিলিয়ে, হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের এই পারফরম্যান্সকে ‘পূর্ণ নম্বর’ দেওয়া যাচ্ছে না, আবার একে হতাশাজনকও বলা চলে না। এটি ছিল মাঝামাঝি মানের একটি জয়—যা ৩ পয়েন্ট এনে দিলেও কোচের জন্য অনেক প্রশ্নের উত্তর অধরাই রেখে গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

তুরস্কের লড়াই, তবুও হার!

হাইতিকে হারিয়ে স্বস্তির জয় ব্রাজিলের, তবে কাটেনি মাঝমাঠের দুশ্চিন্তা

Update Time : ১০:০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের ব্যবধান আকাশ-পাতাল-৮২ ধাপ! ব্রাজিল যেখানে বিশ্ব ফুটবলের পঞ্চম স্থানে, সেখানে হাইতির অবস্থান ৮৭তম। এত বড় ব্যবধানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শক্তিশালী দলের আসল শক্তি বা পরিপক্বতা পুরোপুরি পরিমাপ করা কঠিন। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কতটা নিজেদের হাতে ছিল, সেই মূল্যায়ন করাই যায়। আর এই মাপকাঠিতে হাইতির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জিতলেও, কিছু পুরোনো দুশ্চিন্তা রয়েই গেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের।

মরক্কোর বিপক্ষে গত ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্সে বেশ কিছু ঘাটতি ছিল। বিশেষ করে রক্ষণে ইবানিয়েজ, মিডফিল্ডে কাসেমিরো-পাকেতা এবং ফরোয়ার্ড লাইনে ইগর থিয়াগোর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ একাদশে দুটি পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ। ইবানিয়েজের জায়গায় দানিলো এবং ইগর থিয়াগোর জায়গায় সুযোগ পান মাতেউস কুনিয়া।

কোচের করা পরিবর্তনগুলো প্রথমার্ধেই দারুণভাবে কাজে দেয়। ডান প্রান্তে দানিলোর দারুণ পারফরম্যান্সের কারণে উইং নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি ব্রাজিলকে। তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিলেন মাতেউস কুনিয়া। ডায়মন্ড ফরমেশনে কুনিয়াকে একদম সামনে খেলানোর সিদ্ধান্তটি ব্রাজিলের আক্রমণে গতি ও ভারসাম্য এনে দেয়। ম্যাচের প্রথম গোলটি কিছুটা ভাগ্য সহায় হওয়ায় আসলেও, কুনিয়ার দ্বিতীয় গোলটি ছিল দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের জাদু। আক্রমণে ধার বাড়ানোর পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য ফাঁকা জায়গাও তৈরি করে দিচ্ছিলেন তিনি।

ম্যাচ জিতলেও প্রথমার্ধের শুরুতে লুকাস পাকেতা ও কাসেমিরোর মধ্যকার সমন্বয়হীনতা ছিল চোখে পড়ার মতো। দুজনকে মাঝমাঠে বেশ বিচ্ছিন্ন মনে হয়েছে, এমনকি বল হারানোর পর তা পুনরুদ্ধারের তীব্র চেষ্টাও দেখা যায়নি। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পাকেতা ছন্দ ফিরে পান এবং ব্রুনো গিমাইরাস মাঝমাঠের হাল ধরেন।

ব্রাজিলের জন্য আসল উদ্বেগের জায়গা এখন কাসেমিরো। প্রথমার্ধে অন্তত দুবার তিনি যেভাবে সহজে পরাস্ত হয়েছেন, তা ব্রাজিলের মাঝমাঠের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। পরবর্তীতে পাকেতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার পর ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সৃজনশীলতা এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ দৃশ্যত কমে যায়।

বাঁ প্রান্তে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আবারও প্রমাণ করেছেন, মরক্কোর বিপক্ষে তাঁর ভালো খেলা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। হাইতির রক্ষণভাগে অনবরত ভীতি ছড়িয়েছেন তিনি, দলের দুটি গোলেই ছিল তাঁর অবদান। তবে বল পায়ে অতিরিক্ত সময় রাখার প্রবণতা কোচ আনচেলত্তিকে কিছুটা বিরক্ত করতে পারে।

দ্বিতীয়াল্ধে ব্রাজিলকে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে। একপর্যায়ে মাঠে একসঙ্গে চার ফরোয়ার্ড—ভিনিসিয়ুস, রায়ান, এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে খেলিয়ে বড় পরীক্ষা চালান আনচেলত্তি। তবে এই চারজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া বা কৌশলগত সমন্বয় তৈরি হওয়ার মতো যথেষ্ট সুযোগ ছিল না। ফলে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফাঁদে পড়ে দ্বিতীয় অংশে ম্যাচের ওপর থেকে দাপট হারায় ‘সেলেসাও’রা।

শেষ কথা

দিন শেষে ৩-০ গোলের জয়টি ব্রাজিলের জন্য স্বস্তির হলেও ম্যাচজুড়ে ভুল পাস ও বল নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। হাইতির মতো দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে যেখানে গোল উৎসব করার সুযোগ ছিল, সেখানে আনচেলত্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় না গিয়ে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে পারতেন।

সব মিলিয়ে, হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের এই পারফরম্যান্সকে ‘পূর্ণ নম্বর’ দেওয়া যাচ্ছে না, আবার একে হতাশাজনকও বলা চলে না। এটি ছিল মাঝামাঝি মানের একটি জয়—যা ৩ পয়েন্ট এনে দিলেও কোচের জন্য অনেক প্রশ্নের উত্তর অধরাই রেখে গেছে।