Dhaka ০২:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ডায়াবেটিক সমিতি জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হলেন সেকেন্দার আযম আনাম কুপি-হারিকেনের আলোয় পীরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠের আসর মহিমাগঞ্জে ‘মব সৃষ্টি করে’ অধ্যক্ষকে পদচ্যুতির প্রতিবাদ ও পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ গণ উন্নয়ন কেন্দ্রে ‘আর্ন-নিট’ প্রকল্পের কর্মীদের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত নওগাঁয় ৮ ঘণ্টায় ছিনতাইয়ের রহস্য উদ্‌ঘাটন, কৃষক দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুরে পোশাকশ্রমিক আন্দোলন: গোবিন্দগঞ্জে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন সুন্দরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, জরিমানা সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নিতে বিধবার কাঁচা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক: আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ

হারিয়ে যাওয়া কাঠশিল্পে নতুন প্রাণ, রুহিয়ার হাটে স্বপ্ন গড়ছেন ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ১২৭ Time View

আহসান হাবিব রুবেল (ঠাকুরগাঁও): একসময় হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ কাঠশিল্প এখন আবারও ফিরে পেয়েছে নতুন গতি। ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া এলাকায় কাঠমিস্ত্রীরা স্বল্প খরচে তৈরি করছেন নান্দনিক ও ব্যবহারযোগ্য আসবাবপত্র। যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।

উচ্চমূল্যের কারণে উন্নতমানের কাঠের আসবাবপত্র যেখানে অনেকের সাধ্যের বাইরে, সেখানে রুহিয়ার কারিগররা তৈরি করছেন কম দামে প্রয়োজনীয় খাট, টেবিল, চেয়ার, শোকেস, ড্রেসিং টেবিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী। ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও এখন সহজেই ঘর সাজাতে পারছেন নিজেদের সাধ্যের মধ্যে।
এলাকাবাসী হামিদুল ও সুমন জানান, কম দামে এসব আসবাবপত্র পাওয়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের ক্রেতারাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। চাহিদা বাড়ায় অনেক কাঠমিস্ত্রি এখন বাইরের কাজ ছেড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে এই পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। এতে যেমন বেকারত্ব কমছে, তেমনি বাড়ছে তাদের আয়ও।
রুহিয়ার ঐতিহ্যবাহী রামনাথ হাট বসে প্রতি শুক্রবার ও সোমবার। হাটবারে গ্রামের মানুষ গবাদিপশু ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে ভিড় জমায়। এই সুযোগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিয়ে আসেন বিভিন্ন ধরনের কাঠের আসবাবপত্র, যা সহজেই ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করছে।

হাটে পাওয়া যাচ্ছে— খাট: ১,২০০ থেকে ২,০০০ টাকা, শোকেস: ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা, ড্রেসিং টেবিল: ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা, টেবিল: ৩০০ থেকে ১,০০০ টাকা, চেয়ার (জোড়া): ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা, আলনা: ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, দরজা: ৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা, চৌকি: ৪০০ থেকে ১,০০০ টাকা।

দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় হাট থেকে এসব আসবাবপত্র কিনে অনেক ব্যবসায়ী পিকআপ ও অটো চার্জার, ভ্যানে করে বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি বিক্রি না হলেও স্থানীয় বাজার—খোচাবাড়ি ও লাহিড়ীতেও এগুলো বিক্রির সুযোগ রয়েছে।
রুহিয়া মধুপুর এলাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ী আক্তারুল ইসলাম বলেন, “কম দামে ভালো মানের আসবাবপত্র তৈরি করায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। এতে আমাদের আয়ও ভালো হচ্ছে।”

স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ শুধু গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে না, বরং হারিয়ে যেতে বসা কাঠশিল্পকেও ফিরিয়ে আনছে নতুন সম্ভাবনায়।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ডায়াবেটিক সমিতি জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হলেন সেকেন্দার আযম আনাম

হারিয়ে যাওয়া কাঠশিল্পে নতুন প্রাণ, রুহিয়ার হাটে স্বপ্ন গড়ছেন ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা

Update Time : ০২:১৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

আহসান হাবিব রুবেল (ঠাকুরগাঁও): একসময় হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ কাঠশিল্প এখন আবারও ফিরে পেয়েছে নতুন গতি। ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া এলাকায় কাঠমিস্ত্রীরা স্বল্প খরচে তৈরি করছেন নান্দনিক ও ব্যবহারযোগ্য আসবাবপত্র। যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।

উচ্চমূল্যের কারণে উন্নতমানের কাঠের আসবাবপত্র যেখানে অনেকের সাধ্যের বাইরে, সেখানে রুহিয়ার কারিগররা তৈরি করছেন কম দামে প্রয়োজনীয় খাট, টেবিল, চেয়ার, শোকেস, ড্রেসিং টেবিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী। ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও এখন সহজেই ঘর সাজাতে পারছেন নিজেদের সাধ্যের মধ্যে।
এলাকাবাসী হামিদুল ও সুমন জানান, কম দামে এসব আসবাবপত্র পাওয়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের ক্রেতারাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। চাহিদা বাড়ায় অনেক কাঠমিস্ত্রি এখন বাইরের কাজ ছেড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে এই পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। এতে যেমন বেকারত্ব কমছে, তেমনি বাড়ছে তাদের আয়ও।
রুহিয়ার ঐতিহ্যবাহী রামনাথ হাট বসে প্রতি শুক্রবার ও সোমবার। হাটবারে গ্রামের মানুষ গবাদিপশু ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে ভিড় জমায়। এই সুযোগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিয়ে আসেন বিভিন্ন ধরনের কাঠের আসবাবপত্র, যা সহজেই ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করছে।

হাটে পাওয়া যাচ্ছে— খাট: ১,২০০ থেকে ২,০০০ টাকা, শোকেস: ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা, ড্রেসিং টেবিল: ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা, টেবিল: ৩০০ থেকে ১,০০০ টাকা, চেয়ার (জোড়া): ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা, আলনা: ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, দরজা: ৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা, চৌকি: ৪০০ থেকে ১,০০০ টাকা।

দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় হাট থেকে এসব আসবাবপত্র কিনে অনেক ব্যবসায়ী পিকআপ ও অটো চার্জার, ভ্যানে করে বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি বিক্রি না হলেও স্থানীয় বাজার—খোচাবাড়ি ও লাহিড়ীতেও এগুলো বিক্রির সুযোগ রয়েছে।
রুহিয়া মধুপুর এলাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ী আক্তারুল ইসলাম বলেন, “কম দামে ভালো মানের আসবাবপত্র তৈরি করায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। এতে আমাদের আয়ও ভালো হচ্ছে।”

স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ শুধু গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে না, বরং হারিয়ে যেতে বসা কাঠশিল্পকেও ফিরিয়ে আনছে নতুন সম্ভাবনায়।