Dhaka ০৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কুপি-হারিকেনের আলোয় পীরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠের আসর মহিমাগঞ্জে ‘মব সৃষ্টি করে’ অধ্যক্ষকে পদচ্যুতির প্রতিবাদ ও পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ গণ উন্নয়ন কেন্দ্রে ‘আর্ন-নিট’ প্রকল্পের কর্মীদের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত নওগাঁয় ৮ ঘণ্টায় ছিনতাইয়ের রহস্য উদ্‌ঘাটন, কৃষক দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুরে পোশাকশ্রমিক আন্দোলন: গোবিন্দগঞ্জে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন সুন্দরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, জরিমানা সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নিতে বিধবার কাঁচা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক: আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ নওগাঁ কারা হেফাজতে বগুড়ার আওয়ামী লীগ নেতার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

পোরশায় কর্মচারী দিয়ে এক্স-রে করার অভিযোগ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯৩ Time View
নওগাঁ সংবাদদাতা: নওগাঁর পোরশা উপজেলার নীতপুরে টেকনোলজিস্ট ছাড়াই কর্মচারী দিয়ে রেডিওলজি (এক্স-রে) করার অভিযোগ উঠেছে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালকের বিরুদ্ধে। গত এক বছর থেকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শরিফুল ইসলাম কর্মচারীদের দিয়ে রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনা করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট ছাড়া এক্স-রে করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে উপজেলার বাসীন্দারা।
জানা যায়- জেলার পোরশা উপজেলা হলেও নীতপুর এলাকায় এর সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা ও হাট-বাজারসহ ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা হয়ে থাকে। নীতপুরে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাস্তার বিপরীত পাশে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আনবিক শক্তি কমিশনের কোনো লাইসেন্স নাই। সেখানে গত প্রায় এক বছর থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদের দিয়ে এক্স-রে পরিচালনা করা হচ্ছে। একটি এক্স-রে কক্ষ অবশ্যই বিকিরণ সুরক্ষা বজায় রেখে তৈরি করতে হবে। রেডিয়েশন যেন বাইরে না আসতে পারে, সেজন্য দরজায় স্লাইডিং বা ভারী লেড-ক্ল্যাডিং থাকতে হবে। কিন্তু সেখানে সাধারণ একটি কক্ষে এক্স-রে করা হয়।
অপরদিকে হাসপাতাল সংলগ্ন হওয়ায় একটি দালাল চক্র সিন্ডিকেট করে রোগীদের এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। প্রত্যন্ত এলাকার সহজ-সরল মানুষ না বুঝে দালালদের প্ররোচনায় পড়ে সেখানে এক্স-রে করে। ভুলভাল এক্স-রের কারণে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে হয়রানি হতে হয়। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালাইবাড়ি গ্রামের এক গৃহবধু বলেন- বাম হাতের কবজির সমস্যার জন্য ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ৫০০ টাকায় এক্স-রে করা হয়েছিল। এক্স-রে রিপোর্ট দেখানো হলে সেটি ভুল হয়েছে বলা হয়। ভুল এক্স-রে হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়া হলে মালিক আর টাকা ফেরত দেয়নি।
পাশের পদ্ম (সাবেদা) ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার আতিকুর রহমান বলেন- জানামতে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট নাই। টেকনোলজিস্ট ছাড়াতো এক্স-রে করার নিয়ম নাই।
এ বিষয়ে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক
জানতে চাইলে সেন্টারের পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, অনভিজ্ঞদের দিয়ে এক্স-রে পরিচালনার অভিযোগটি সঠিক না। এক্স-রে পরিচালনার জন্য মাহাথির মাহমুদ নামে একজন অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগও অবগত আছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অর্গানাইজেশন পোরশা শাখার সভাপতি আবু তাহের বলেন- আমরা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়ে রেডিওলজি পরিচালনা করে থাকি। কিন্তু লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়াই গত এক বছর থেকে অনৈতিকভাবে অসিম আকরাম কাজল ও ঈসা নামে দুইজন কর্মচারিকে দিয়ে এক্স-রে পরিচালনা করছে। এরা কেউ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না। যা বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন- ২০১০ এর অধিনে দন্ডনীয় অপরাধ। স্বাস্থ্য বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী জানাই। এক্স-রে ভুল হলে রোগ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং রোগীদের ভোগান্তী বাড়ে।
নওগাঁ জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ আমিনুল ইসলাম বলেন- এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনে প্রশাসন নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট দিয়ে অবশ্যই রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনা করতে হবে। যদি অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট দিয়ে এক্স-রে করা না হয় তাহলে পরীক্ষা সঠিকভাবে ও সঠিক মাত্রায় নাও হতে পারে। এছাড়া সাময়িক হয়ত ক্ষতি বুঝতে পারা যাবে না। কিন্তু দীর্ঘ সময় এভাবে চলতে থাকলে শরীরের ক্ষতি হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুপি-হারিকেনের আলোয় পীরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠের আসর

পোরশায় কর্মচারী দিয়ে এক্স-রে করার অভিযোগ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

Update Time : ০৫:৪৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁ সংবাদদাতা: নওগাঁর পোরশা উপজেলার নীতপুরে টেকনোলজিস্ট ছাড়াই কর্মচারী দিয়ে রেডিওলজি (এক্স-রে) করার অভিযোগ উঠেছে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালকের বিরুদ্ধে। গত এক বছর থেকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শরিফুল ইসলাম কর্মচারীদের দিয়ে রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনা করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট ছাড়া এক্স-রে করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে উপজেলার বাসীন্দারা।
জানা যায়- জেলার পোরশা উপজেলা হলেও নীতপুর এলাকায় এর সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা ও হাট-বাজারসহ ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা হয়ে থাকে। নীতপুরে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাস্তার বিপরীত পাশে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আনবিক শক্তি কমিশনের কোনো লাইসেন্স নাই। সেখানে গত প্রায় এক বছর থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদের দিয়ে এক্স-রে পরিচালনা করা হচ্ছে। একটি এক্স-রে কক্ষ অবশ্যই বিকিরণ সুরক্ষা বজায় রেখে তৈরি করতে হবে। রেডিয়েশন যেন বাইরে না আসতে পারে, সেজন্য দরজায় স্লাইডিং বা ভারী লেড-ক্ল্যাডিং থাকতে হবে। কিন্তু সেখানে সাধারণ একটি কক্ষে এক্স-রে করা হয়।
অপরদিকে হাসপাতাল সংলগ্ন হওয়ায় একটি দালাল চক্র সিন্ডিকেট করে রোগীদের এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। প্রত্যন্ত এলাকার সহজ-সরল মানুষ না বুঝে দালালদের প্ররোচনায় পড়ে সেখানে এক্স-রে করে। ভুলভাল এক্স-রের কারণে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে হয়রানি হতে হয়। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালাইবাড়ি গ্রামের এক গৃহবধু বলেন- বাম হাতের কবজির সমস্যার জন্য ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ৫০০ টাকায় এক্স-রে করা হয়েছিল। এক্স-রে রিপোর্ট দেখানো হলে সেটি ভুল হয়েছে বলা হয়। ভুল এক্স-রে হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়া হলে মালিক আর টাকা ফেরত দেয়নি।
পাশের পদ্ম (সাবেদা) ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার আতিকুর রহমান বলেন- জানামতে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট নাই। টেকনোলজিস্ট ছাড়াতো এক্স-রে করার নিয়ম নাই।
এ বিষয়ে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক
জানতে চাইলে সেন্টারের পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, অনভিজ্ঞদের দিয়ে এক্স-রে পরিচালনার অভিযোগটি সঠিক না। এক্স-রে পরিচালনার জন্য মাহাথির মাহমুদ নামে একজন অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগও অবগত আছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অর্গানাইজেশন পোরশা শাখার সভাপতি আবু তাহের বলেন- আমরা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়ে রেডিওলজি পরিচালনা করে থাকি। কিন্তু লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়াই গত এক বছর থেকে অনৈতিকভাবে অসিম আকরাম কাজল ও ঈসা নামে দুইজন কর্মচারিকে দিয়ে এক্স-রে পরিচালনা করছে। এরা কেউ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না। যা বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন- ২০১০ এর অধিনে দন্ডনীয় অপরাধ। স্বাস্থ্য বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী জানাই। এক্স-রে ভুল হলে রোগ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং রোগীদের ভোগান্তী বাড়ে।
নওগাঁ জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ আমিনুল ইসলাম বলেন- এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনে প্রশাসন নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট দিয়ে অবশ্যই রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনা করতে হবে। যদি অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট দিয়ে এক্স-রে করা না হয় তাহলে পরীক্ষা সঠিকভাবে ও সঠিক মাত্রায় নাও হতে পারে। এছাড়া সাময়িক হয়ত ক্ষতি বুঝতে পারা যাবে না। কিন্তু দীর্ঘ সময় এভাবে চলতে থাকলে শরীরের ক্ষতি হবে।