Dhaka ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু শ্বশুরবাড়িতে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামাইয়ের মৃত্যু  চিলমারীতে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ডুবে গেছে ৭টি নৌকা সুন্দরগঞ্জে বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন নওগাঁয় বাসের বক্সের ঢাকনার আঘাতে অটোরিকশার ১ যাত্রী নিহত, আহত ২ শিশু   সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বকাপে জিতবে কোন দল? গোবিন্দগঞ্জে এক মানসিক রোগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে পুড়ছে দেশ, জুনে ২-৩ দফা তাপপ্রবাহের আভাস মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা ইরানের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিখোঁজ বাবা: ৫৪ বছর পর বাংলাদেশে জন্মভিটার সন্ধান পেল পাকিস্তানে বেড়ে ওঠা ছেলে

পোরশায় কর্মচারী দিয়ে এক্স-রে করার অভিযোগ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৯ Time View
নওগাঁ সংবাদদাতা: নওগাঁর পোরশা উপজেলার নীতপুরে টেকনোলজিস্ট ছাড়াই কর্মচারী দিয়ে রেডিওলজি (এক্স-রে) করার অভিযোগ উঠেছে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালকের বিরুদ্ধে। গত এক বছর থেকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শরিফুল ইসলাম কর্মচারীদের দিয়ে রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনা করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট ছাড়া এক্স-রে করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে উপজেলার বাসীন্দারা।
জানা যায়- জেলার পোরশা উপজেলা হলেও নীতপুর এলাকায় এর সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা ও হাট-বাজারসহ ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা হয়ে থাকে। নীতপুরে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাস্তার বিপরীত পাশে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আনবিক শক্তি কমিশনের কোনো লাইসেন্স নাই। সেখানে গত প্রায় এক বছর থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদের দিয়ে এক্স-রে পরিচালনা করা হচ্ছে। একটি এক্স-রে কক্ষ অবশ্যই বিকিরণ সুরক্ষা বজায় রেখে তৈরি করতে হবে। রেডিয়েশন যেন বাইরে না আসতে পারে, সেজন্য দরজায় স্লাইডিং বা ভারী লেড-ক্ল্যাডিং থাকতে হবে। কিন্তু সেখানে সাধারণ একটি কক্ষে এক্স-রে করা হয়।
অপরদিকে হাসপাতাল সংলগ্ন হওয়ায় একটি দালাল চক্র সিন্ডিকেট করে রোগীদের এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। প্রত্যন্ত এলাকার সহজ-সরল মানুষ না বুঝে দালালদের প্ররোচনায় পড়ে সেখানে এক্স-রে করে। ভুলভাল এক্স-রের কারণে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে হয়রানি হতে হয়। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালাইবাড়ি গ্রামের এক গৃহবধু বলেন- বাম হাতের কবজির সমস্যার জন্য ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ৫০০ টাকায় এক্স-রে করা হয়েছিল। এক্স-রে রিপোর্ট দেখানো হলে সেটি ভুল হয়েছে বলা হয়। ভুল এক্স-রে হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়া হলে মালিক আর টাকা ফেরত দেয়নি।
পাশের পদ্ম (সাবেদা) ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার আতিকুর রহমান বলেন- জানামতে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট নাই। টেকনোলজিস্ট ছাড়াতো এক্স-রে করার নিয়ম নাই।
এ বিষয়ে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক
জানতে চাইলে সেন্টারের পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, অনভিজ্ঞদের দিয়ে এক্স-রে পরিচালনার অভিযোগটি সঠিক না। এক্স-রে পরিচালনার জন্য মাহাথির মাহমুদ নামে একজন অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগও অবগত আছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অর্গানাইজেশন পোরশা শাখার সভাপতি আবু তাহের বলেন- আমরা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়ে রেডিওলজি পরিচালনা করে থাকি। কিন্তু লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়াই গত এক বছর থেকে অনৈতিকভাবে অসিম আকরাম কাজল ও ঈসা নামে দুইজন কর্মচারিকে দিয়ে এক্স-রে পরিচালনা করছে। এরা কেউ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না। যা বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন- ২০১০ এর অধিনে দন্ডনীয় অপরাধ। স্বাস্থ্য বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী জানাই। এক্স-রে ভুল হলে রোগ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং রোগীদের ভোগান্তী বাড়ে।
নওগাঁ জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ আমিনুল ইসলাম বলেন- এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনে প্রশাসন নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট দিয়ে অবশ্যই রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনা করতে হবে। যদি অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট দিয়ে এক্স-রে করা না হয় তাহলে পরীক্ষা সঠিকভাবে ও সঠিক মাত্রায় নাও হতে পারে। এছাড়া সাময়িক হয়ত ক্ষতি বুঝতে পারা যাবে না। কিন্তু দীর্ঘ সময় এভাবে চলতে থাকলে শরীরের ক্ষতি হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

পোরশায় কর্মচারী দিয়ে এক্স-রে করার অভিযোগ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

Update Time : ০৫:৪৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁ সংবাদদাতা: নওগাঁর পোরশা উপজেলার নীতপুরে টেকনোলজিস্ট ছাড়াই কর্মচারী দিয়ে রেডিওলজি (এক্স-রে) করার অভিযোগ উঠেছে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালকের বিরুদ্ধে। গত এক বছর থেকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শরিফুল ইসলাম কর্মচারীদের দিয়ে রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনা করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট ছাড়া এক্স-রে করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে উপজেলার বাসীন্দারা।
জানা যায়- জেলার পোরশা উপজেলা হলেও নীতপুর এলাকায় এর সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা ও হাট-বাজারসহ ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা হয়ে থাকে। নীতপুরে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাস্তার বিপরীত পাশে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আনবিক শক্তি কমিশনের কোনো লাইসেন্স নাই। সেখানে গত প্রায় এক বছর থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদের দিয়ে এক্স-রে পরিচালনা করা হচ্ছে। একটি এক্স-রে কক্ষ অবশ্যই বিকিরণ সুরক্ষা বজায় রেখে তৈরি করতে হবে। রেডিয়েশন যেন বাইরে না আসতে পারে, সেজন্য দরজায় স্লাইডিং বা ভারী লেড-ক্ল্যাডিং থাকতে হবে। কিন্তু সেখানে সাধারণ একটি কক্ষে এক্স-রে করা হয়।
অপরদিকে হাসপাতাল সংলগ্ন হওয়ায় একটি দালাল চক্র সিন্ডিকেট করে রোগীদের এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। প্রত্যন্ত এলাকার সহজ-সরল মানুষ না বুঝে দালালদের প্ররোচনায় পড়ে সেখানে এক্স-রে করে। ভুলভাল এক্স-রের কারণে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে হয়রানি হতে হয়। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালাইবাড়ি গ্রামের এক গৃহবধু বলেন- বাম হাতের কবজির সমস্যার জন্য ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ৫০০ টাকায় এক্স-রে করা হয়েছিল। এক্স-রে রিপোর্ট দেখানো হলে সেটি ভুল হয়েছে বলা হয়। ভুল এক্স-রে হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়া হলে মালিক আর টাকা ফেরত দেয়নি।
পাশের পদ্ম (সাবেদা) ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার আতিকুর রহমান বলেন- জানামতে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট নাই। টেকনোলজিস্ট ছাড়াতো এক্স-রে করার নিয়ম নাই।
এ বিষয়ে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক
জানতে চাইলে সেন্টারের পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, অনভিজ্ঞদের দিয়ে এক্স-রে পরিচালনার অভিযোগটি সঠিক না। এক্স-রে পরিচালনার জন্য মাহাথির মাহমুদ নামে একজন অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগও অবগত আছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অর্গানাইজেশন পোরশা শাখার সভাপতি আবু তাহের বলেন- আমরা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়ে রেডিওলজি পরিচালনা করে থাকি। কিন্তু লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়াই গত এক বছর থেকে অনৈতিকভাবে অসিম আকরাম কাজল ও ঈসা নামে দুইজন কর্মচারিকে দিয়ে এক্স-রে পরিচালনা করছে। এরা কেউ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না। যা বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন- ২০১০ এর অধিনে দন্ডনীয় অপরাধ। স্বাস্থ্য বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী জানাই। এক্স-রে ভুল হলে রোগ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং রোগীদের ভোগান্তী বাড়ে।
নওগাঁ জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ আমিনুল ইসলাম বলেন- এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনে প্রশাসন নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট দিয়ে অবশ্যই রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনা করতে হবে। যদি অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট দিয়ে এক্স-রে করা না হয় তাহলে পরীক্ষা সঠিকভাবে ও সঠিক মাত্রায় নাও হতে পারে। এছাড়া সাময়িক হয়ত ক্ষতি বুঝতে পারা যাবে না। কিন্তু দীর্ঘ সময় এভাবে চলতে থাকলে শরীরের ক্ষতি হবে।