Dhaka ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ইমদাদুল হক মিলনকে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মাতলো একঝাঁক শিশু-কিশোর নলকূপ আছে, পানি নেই দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত নওগাঁর হাজারো কৃষক ব্রহ্মপুত্র নদের তীর রক্ষা বাঁধের ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি সাঘাটা উপজেলা বিএনপি’র সাথে এমপি মমতাজের মতবিনিময় সভা পাকিস্তানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: শতাধিক প্রাণহানি, ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নিষিদ্ধ নেইমার: গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে ছাড়াই মাঠে নামছে সান্তোস পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি: ধর্মীয় স্থাপনায় হামলায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, শান্তির আহ্বান গাইবান্ধায় সাবেক সেনা সদস্যের সংবাদ সম্মেলন: জমি বিক্রি ও স্ত্রীর অপপ্রচারের প্রতিবাদ আজ কিংবদন্তি লোকসংগীত শিল্পী আবদুল আলীমের জন্মদিন ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি ইরানের

ঈদকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয়: হাত বাড়ালেই মিলছে ফেনসিডিল-ইয়াবা-গাঁজা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
  • ৯৫ Time View

আবু তাহের:

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গাইবান্ধা জেলাজুড়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা। জেলার সাতটি উপজেলার সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ রুটগুলো দিয়ে প্রতিনিয়ত ঢুকছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইনের মতো মারাত্মক সব মাদকদ্রব্য। উৎসবের মৌসুমে তরুণ ও যুবসমাজের মাঝে মাদকের চাহিদা বাড়ার সুযোগে রাতারাতি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতে মরিয়া স্থানীয় ও আন্তঃজেলা মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে তারা জেলাজুড়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন ও অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। গাইবান্ধা সদর, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর-প্রতিটি উপজেলাতেই এখন মাদকের কেনাবেচা চলছে। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট এবং উত্তরের প্রবেশদ্বার খ্যাত গোবিন্দগঞ্জ-পলাশবাড়ী রুট ব্যবহার করে এসব মাদকের চালান জেলায় প্রবেশ করছে। এছাড়া চরাঞ্চল ও সীমান্তঘেঁষা সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা দিয়ে নদীপথে আসছে গাঁজা ও ফেনসিডিলের বড় বড় চালান। আকারে ছোট এবং সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও রেলপথের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় নিয়ে আসা হচ্ছে ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ঈদের বাজার জমে ওঠার পাশাপাশি সমান্তরালে মাদকের বাজারও জমজমাট হয়ে উঠেছে। এখন আর আগের মতো সুনির্দিষ্ট মাদক স্পটে গিয়ে ক্রেতাদের ভিড় করতে হয় না। মুঠোফোন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গোপন কোড ব্যবহার করে অর্ডার করলেই হোম ডেলিভারির মতো পৌঁছে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত মাদক। প্রতিটি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের চা-দোকান, রেললাইন সংলগ্ন এলাকা এবং নির্জন চরাঞ্চলগুলোকে মাদক কারবারিরা এখন নিরাপদ ট্রানজিট ও বিক্রির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তারে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদের আনন্দ করার কথা তরুণদের, কিন্তু এলাকার কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা আর গাঁজা। টাকা না পেলেই মাদকসেবী সন্তানরা পরিবারের সাথে চরম খারাপ আচরণ করছে, এমনকি বাবা-মাকে লাঞ্ছিত বা মারপিট করতেও দ্বিধা করছে না। ফলে মাদকসেবী সন্তানদের নিয়ে এখন জেলার হাজার হাজার পরিবার চরম আতঙ্কে ও বিপাকে দিন কাটাচ্ছে।

মাদক কারবারিদের এই অপতৎপরতা রুখতে জেলা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই তাদের নজরদারি এবং তৎপরতা বাড়িয়েছে। জেলাজুড়ে বসানো হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট। গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ বেশ কয়েকজন খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। তবে সচেতন মহলের দাবি, শুধু দু-একজন চুনোপুঁটি বা খুচরা বিক্রেতা ধরে এই মহামারি থামানো যাবে না। ঈদের আগেই মাদকের মূল হোতা বা গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। ঈদকে সামনে রেখে কোনো মাদক কারবারিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করা হবে। আসন্ন ঈদকে মাদকমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষকেও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ইমদাদুল হক মিলনকে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মাতলো একঝাঁক শিশু-কিশোর

ঈদকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয়: হাত বাড়ালেই মিলছে ফেনসিডিল-ইয়াবা-গাঁজা

Update Time : ১১:১৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

আবু তাহের:

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গাইবান্ধা জেলাজুড়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা। জেলার সাতটি উপজেলার সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ রুটগুলো দিয়ে প্রতিনিয়ত ঢুকছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইনের মতো মারাত্মক সব মাদকদ্রব্য। উৎসবের মৌসুমে তরুণ ও যুবসমাজের মাঝে মাদকের চাহিদা বাড়ার সুযোগে রাতারাতি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতে মরিয়া স্থানীয় ও আন্তঃজেলা মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে তারা জেলাজুড়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন ও অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। গাইবান্ধা সদর, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর-প্রতিটি উপজেলাতেই এখন মাদকের কেনাবেচা চলছে। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট এবং উত্তরের প্রবেশদ্বার খ্যাত গোবিন্দগঞ্জ-পলাশবাড়ী রুট ব্যবহার করে এসব মাদকের চালান জেলায় প্রবেশ করছে। এছাড়া চরাঞ্চল ও সীমান্তঘেঁষা সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা দিয়ে নদীপথে আসছে গাঁজা ও ফেনসিডিলের বড় বড় চালান। আকারে ছোট এবং সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও রেলপথের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় নিয়ে আসা হচ্ছে ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ঈদের বাজার জমে ওঠার পাশাপাশি সমান্তরালে মাদকের বাজারও জমজমাট হয়ে উঠেছে। এখন আর আগের মতো সুনির্দিষ্ট মাদক স্পটে গিয়ে ক্রেতাদের ভিড় করতে হয় না। মুঠোফোন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গোপন কোড ব্যবহার করে অর্ডার করলেই হোম ডেলিভারির মতো পৌঁছে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত মাদক। প্রতিটি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের চা-দোকান, রেললাইন সংলগ্ন এলাকা এবং নির্জন চরাঞ্চলগুলোকে মাদক কারবারিরা এখন নিরাপদ ট্রানজিট ও বিক্রির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তারে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদের আনন্দ করার কথা তরুণদের, কিন্তু এলাকার কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা আর গাঁজা। টাকা না পেলেই মাদকসেবী সন্তানরা পরিবারের সাথে চরম খারাপ আচরণ করছে, এমনকি বাবা-মাকে লাঞ্ছিত বা মারপিট করতেও দ্বিধা করছে না। ফলে মাদকসেবী সন্তানদের নিয়ে এখন জেলার হাজার হাজার পরিবার চরম আতঙ্কে ও বিপাকে দিন কাটাচ্ছে।

মাদক কারবারিদের এই অপতৎপরতা রুখতে জেলা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই তাদের নজরদারি এবং তৎপরতা বাড়িয়েছে। জেলাজুড়ে বসানো হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট। গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ বেশ কয়েকজন খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। তবে সচেতন মহলের দাবি, শুধু দু-একজন চুনোপুঁটি বা খুচরা বিক্রেতা ধরে এই মহামারি থামানো যাবে না। ঈদের আগেই মাদকের মূল হোতা বা গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। ঈদকে সামনে রেখে কোনো মাদক কারবারিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করা হবে। আসন্ন ঈদকে মাদকমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষকেও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।