Dhaka ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা অনিশ্চয়তার অবসান: নওগাঁয় এমপি ধলুর অর্থায়নে পাকা ঘর পেল দুই অসহায় পরিবার ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ারের মনোনয়ন সংগ্রহ মেধা ও স্বপ্নের পাশে গাইবান্ধায় শিক্ষাবৃত্তি ও কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশিদের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার কথা জানালেন উপহাইকমিশনার গাইবান্ধায় ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া ১৩ মাসের শিশু উদ্ধার, বাবাসহ গ্রেফতার ৪ মেসির শেষ ম্যাচ নিয়ে কী বললেন দি মারিয়া? ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির সাংগঠনিক সভা  জ্বালানি তেলের দামে বড় ধাক্কা, লিটারে বাড়ল ২০ টাকা লোকালয়ে শিয়ালের হানা, শিশু-নারীসহ আহত ৯ জন

চিলমারীতে বারবার মেয়াদ বাড়লেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, জনভোগান্তি চরমে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ৫৯ Time View

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে চিলমারী-হরিপুর পিসি গার্ডার সেতুর সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘসূত্রতার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে টানা বৃষ্টিতে সদ্য নির্মিত ৫.২৩ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ছোট-বড় প্রায় ৯০টি গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষোভের শীর্ষে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পাঁচপীর বাজার থেকে চিলমারী উপজেলা হেডকোয়ার্টার সড়কে তিস্তা নদীর ওপর ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের (৩য় সংশোধিত) আওতায় এই সংযোগ সড়কটির কাজ শুরু হয়। উপজেলার মাটিকাটামোড় হতে পাঁচপীর জিসি সড়ক পর্যন্ত মোট ৫.২৩ কি.মি. রাস্তা উন্নয়নের জন্য ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সম্পাদিত হয়। ১০ কোটি ৩৩ লাখ ২ হাজার ৮৩২ টাকা ব্যয়ে নাটোরের মীর হাবিবুল আলমের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজটি করছেন রৌমারীর রাশেদুল ইসলাম রাশেদ নামের এক ঠিকাদার।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া কাজটি ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও এখন পর্যন্ত কাজের মাত্র ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কের দুই পাশের মাটি ধসে গেছে। এতে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হওয়ায় রিকশা, ভ্যান ও পথচারীদের চলাচল ঝঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আতাউর রহমান ও জোবায়দুল ইসলাম বলেন, “সেতু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সংযোগ সড়কের অভাবে আমরা সুফল পাচ্ছি না। বারবার মেয়াদ বাড়লেও কেন কাজ শেষ হয় না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

ফয়সাল হক নামে এক পথচারী জানান, গর্তে পড়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতে বাইসাইকেল বা মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার রাশেদুল ইসলাম রাশেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলী জানান, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং কাজটি বর্তমানে চলমান আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য দাপ্তরিকভাবে চিঠি দিয়ে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঠাকুরগাঁওয়ে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

চিলমারীতে বারবার মেয়াদ বাড়লেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, জনভোগান্তি চরমে

Update Time : ০৫:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে চিলমারী-হরিপুর পিসি গার্ডার সেতুর সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘসূত্রতার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে টানা বৃষ্টিতে সদ্য নির্মিত ৫.২৩ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ছোট-বড় প্রায় ৯০টি গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষোভের শীর্ষে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পাঁচপীর বাজার থেকে চিলমারী উপজেলা হেডকোয়ার্টার সড়কে তিস্তা নদীর ওপর ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের (৩য় সংশোধিত) আওতায় এই সংযোগ সড়কটির কাজ শুরু হয়। উপজেলার মাটিকাটামোড় হতে পাঁচপীর জিসি সড়ক পর্যন্ত মোট ৫.২৩ কি.মি. রাস্তা উন্নয়নের জন্য ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সম্পাদিত হয়। ১০ কোটি ৩৩ লাখ ২ হাজার ৮৩২ টাকা ব্যয়ে নাটোরের মীর হাবিবুল আলমের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজটি করছেন রৌমারীর রাশেদুল ইসলাম রাশেদ নামের এক ঠিকাদার।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া কাজটি ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও এখন পর্যন্ত কাজের মাত্র ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কের দুই পাশের মাটি ধসে গেছে। এতে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হওয়ায় রিকশা, ভ্যান ও পথচারীদের চলাচল ঝঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আতাউর রহমান ও জোবায়দুল ইসলাম বলেন, “সেতু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সংযোগ সড়কের অভাবে আমরা সুফল পাচ্ছি না। বারবার মেয়াদ বাড়লেও কেন কাজ শেষ হয় না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

ফয়সাল হক নামে এক পথচারী জানান, গর্তে পড়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতে বাইসাইকেল বা মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার রাশেদুল ইসলাম রাশেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলী জানান, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং কাজটি বর্তমানে চলমান আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য দাপ্তরিকভাবে চিঠি দিয়ে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।