
আফতাব হোসেন ও আসাদুজ্জামান রুবেল, গাইবান্ধা:
লোকগীতিতে মামা-ভাগ্নের রসায়ন নিয়ে নানা চটুল কথা প্রচলিত থাকলেও, গাইবান্ধার পলাশবাড়ির ঢোলভাঙ্গা গ্রামে যা ঘটল-তা যেন সেই পুরোনো গানের কলিকেও হার মানিয়েছে। মামার হাতের ঘড়ির মায়া ছেড়ে স্বয়ং মামীর ঘরে গভীর রাতে ভাগ্নের হাজিরা ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত নাটকীয় পরিস্থিতি।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু বেতকাপা ইউনিয়ন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার গভীর রাতে নিরিবিলি পরিবেশে আপন মামা ইসরাফিল আলী কিনুর বাড়িতে হাজির হন ভাগ্নে শিমুল মিয়া, যিনি স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব। মামা তখনও দোকান বন্ধ করে ঘরে ফেরেননি। তবে গল্পের আসল মোড় ঘোরে ঠিক তখনই, যখন দোকান বন্ধ করে আচমকা ঘরে ঢোকেন স্বয়ং মামা।
ঘরের ভেতরে ভাগ্নে ও স্ত্রীর অনাকাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি দেখে মামা তো হতবাক। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিজ্ঞ রাজনীতিকের মতো তাৎক্ষণিক ‘কৌশলগত প্রত্যাহার’ বেছে নেন ভাগ্নে; দ্রুত ঢুকে পড়েন পাশের ঘরের খাটের নিচে। তবে চতুর মামাও দাবার চাল বুঝতে ভুল করেননি। কালবিলম্ব না করে ঘরের দরজায় বাইরে থেকে শক্ত তালা ঝুলিয়ে দেন তিনি। এরপর চিৎকার-চেঁচামেচি করে ডেকে তোলেন আশপাশের প্রতিবেশী ও স্বজনদের।
মধ্যরাতের এই রুদ্ধশ্বাস নাটকের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় তালা খোলার পর। খাটের নিচ থেকে জনসম্মুখে বের হয়ে ভাগ্নে অবশ্য দমে যাননি; উল্টো ক্ষোভে ফেটে পড়ে মামার ওপর চড়াও হন। মুহূর্তে কথার লড়াই রূপ নেয় তুমুল হাতাহাতিতে। ধস্তাধস্তির এই চূড়ান্ত পর্বে মামা ও ভাগ্নে-উভয়কেই আহত হয়ে খেসারত দিতে হয়।
প্রেমের টানে গভীর রাতের এই অভিযান আর খাটের তলায় লুকোচুরির করুণ পরিণতি এখন পুরো এলাকায় রীতিমতো ‘টক অব দ্য টাউন’।
ঘটনার বিষয়ে ইসরাফিল আলী কিনু জানান, তিনি রাতে দোকান থেকে বাসায় আসার পর তার ছেলে দরজা খুলে দেয়। ঘরে প্রবেশ করার পরই তিনি শিমুলের উপস্থিতি টের পান। অবস্থা বুঝতে পেরে শিমুল দ্রুত ঘরের অন্য একটি কক্ষের খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে কিনু মিয়া বাইরে থেকে ঘরের ছিটকানি আটকে দিয়ে তার বড় ভাইকে ডাক দেন।এরপর ঘর খোলার পর উভয়ের মাঝে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শিমুল এবং ইসরাফিল আলী কিনু দুজনেই কমবেশি আহত হন।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত শিমুল মিয়া সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘটনাকে সাজানো নাটক বলে দাবী করেন এবং বলেন আমাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এই নাটক করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে পাড়ার চায়ের দোকানে এখন একটাই গুঞ্জন-সম্পর্কের এমন অদ্ভুত টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত কার লাভ হলো আর কার ঘড়ি হারাল!

Reporter Name 




















