
স্পোর্টস ডেস্ক:
আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে এবার সরাসরি আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ামক সংস্থা ফিফার (FIFA) দ্বারস্থ হলো আলজেরিয়া। পোল্যান্ডের রেফারি সিমন মার্সিনিয়াকের তিনটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফার রেফারিং কমিশনকে চিঠি দিয়েছে তারা। বিশেষ করে, ‘ভিএআর’ (VAR) বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তির সাহায্য না নিয়েই কেন লিয়োনেল মেসিকে কার্ড না দেখিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো, সেই প্রশ্নটিই এখন বিশ্ব ফুটবলে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ম্যাচ চলাকালীন আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মেন্ডির পায়ে বল ছিল এবং তিনি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। ঠিক সেই সময় লিয়োনেল মেসি কিছুটা দূর থেকে দৌড়ে গিয়ে পিছন থেকে একটি বিপজ্জনক ট্যাকল করেন। ম্যাচের রিপ্লে-তে স্পষ্ট দেখা যায়, মেন্ডির ডান পায়ের কাফ মাসল ও অ্যাকিলিস টেন্ডনের মাঝামাঝি জায়গায় আঘাত করেছে মেসির বুটের স্টাড।
ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী: ট্যাকল করার সময় বুটের স্টাড দৃশ্যমান হলে সাধারণত রেফারিরা হলুদ কার্ড দেখান এবং পিছন থেকে গোড়ালির ওপর এমন বিপজ্জনক আঘাতের ক্ষেত্রে সরাসরি লাল কার্ড দেওয়ারও স্পষ্ট বিধান রয়েছে, কারণ এতে ফুটবলারদের বড় ধরনের চোট পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
রেফারি সিমন মার্সিনিয়াক ফাউলের বাঁশি বাজালেও মেসিকে কোনো কার্ড দেখাননি। আলজেরিয়া শিবিরের দাবি, রেফারি যদি তখন সঠিক ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে মেসিকে মাঠছাড়া করতেন, তবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করতে পারতেন না।আলজেরিয়ার ফুটবল ফেডারেশনের এক কর্তা জানান:“আমাদের অভিযোগ মূলত মেসির ফাউল নিয়ে। ওটা নিশ্চিতভাবে লাল কার্ড ছিল। আর্জেন্টিনা অত্যন্ত ভালো দল, কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। অন্তত তিনটি ক্ষেত্রে রেফারির কঠোর হওয়া উচিত ছিল, অথচ একটি বারও ‘ভার’ প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়নি!”
শুধু মেসিই নন, অভিযোগের তির উঠেছে আর্জেন্টিনার আরেক তারকা অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বিরুদ্ধেও। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাক অ্যালিস্টার কনুই দিয়ে আলজেরিয়ার ফুটবলার ইব্রাহিম মাজ়াকে গুঁতো মেরেছিলেন বলে অভিযোগ। পোলিশ রেফারি মার্সিনিয়াক সেই ঘটনাতেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি।
এই ঘটনার পর ফিফার নিরপেক্ষতা এবং দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে মুখ খুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রস। তিনি তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন:“আমি মেসির ঘটনাটা দেখেছি। আমার দলের কোনো ফুটবলারকে এভাবে ফাউল করা হলে আমি ছেড়ে দিতাম না। সম্প্রতি আমার দলের মিডফিল্ডার থেম্বা জ়াওয়ানে ঠিক এমন একটি ফাউল করায় তাকে তিন ম্যাচের জন্য সাসপেন্ড করেছে ফিফা। আমি চাই না মেসির মতো ফুটবলার মাঠ থেকে বেরিয়ে যাক, কিন্তু ফিফার এই দ্বিমুখী আচরণের পার্থক্য আমার বোধগম্য হচ্ছে না।”
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অন্য কোনো সাধারণ ফুটবলার যদি পিছন থেকে সরাসরি এভাবে পায়ে মারতেন, তবে রেফারি কখনোই বিষয়টি এত লঘু করে দেখতেন না। মেসির প্রতি রেফারির এই ‘বিশেষ অনুকম্পা’ ফুটবল মহলে বড়সড় বিতর্কের ঝড় তুলে দিল।

Reporter Name 














