
আজকের জনগণ ডেস্ক: মহালয়া বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন। পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনাকে কেন্দ্র করে পালিত হয় মহালয়া। শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে আসা এই দিনটি ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও বাঙালির আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশজুড়ে মহালয়া পালিত হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দিরে চণ্ডীপাঠ, তর্পণ ও ধর্মীয় সংগীতের আয়োজন করা হয়। আগামী ১৬–১৭ অক্টোবর থেকে পঞ্জিকা ও মন্দিরের রীতি অনুযায়ী দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের আবাহন শুরু হয়। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে দেবী দুর্গার আরাধনা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মহালয়ার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষঙ্গ হলো তর্পণ। এদিন ভোরে নদী, পুকুর কিংবা অন্যান্য জলাশয়ে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ করেন অনেকে। প্রয়াত স্বজনদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাঁদের স্মরণ করার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় পারিবারিক বন্ধন ও পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
মহালয়ার সঙ্গে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। বিশেষ করে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠানটি কয়েক প্রজন্ম ধরে মহালয়ার ভোরের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। চণ্ডীপাঠ, সংগীত ও দেবী দুর্গার মাহাত্ম্য বর্ণনার এই অনুষ্ঠান বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে অনন্য স্থান অধিকার করে আছে।
বাংলাদেশেও মহালয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিভিন্ন মন্দিরে চণ্ডীপাঠ, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। মহালয়ার পর দুর্গাপূজার প্রস্তুতি আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা ও পূজার আয়োজন ঘিরে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে।
তবে মহালয়া কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর অন্তর্নিহিত বার্তা হলো অশুভ’র বিরুদ্ধে শুভ’র জয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও কল্যাণের চেতনা জাগ্রত করা।
বাংলাদেশের বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে মহালয়া এবং শারদীয় দুর্গোৎসব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ ও মানবিক মূল্যবোধ সবার —এই চেতনাই মহালয়ার সর্বজনীন তাৎপর্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।

Reporter Name 



















