
ডেস্ক রিপোর্ট: পারস্য উপসাগরের তলদেশে শুধু জ্বালানি নয়—নীরবে বয়ে চলেছে পুরো অঞ্চলের ইন্টারনেটের প্রাণরস। আর সেই অদৃশ্য লাইফলাইনের দিকেই এবার ইঙ্গিত দিল ইরান।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ সম্প্রতি সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল ও ক্লাউড অবকাঠামোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। বিষয়টি শুধু তথ্য প্রকাশ নয়—বিশ্লেষকদের মতে, এটি অঞ্চলটির ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর এক ধরনের প্রচ্ছন্ন সতর্কবার্তা।
প্রতিবেদনটিতে হরমুজ প্রণালিকে শুধু তেল পরিবহনের পথ নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন কেবলের করিডোর হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে। এই পথ দিয়েই সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর প্রধান ইন্টারনেট সংযোগ চালু রয়েছে।
তাসনিম দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলো ইন্টারনেটের জন্য ইরানের তুলনায় অনেক বেশি সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। আর এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন কৌশলগত চাপের জায়গা।
বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি সাধারণ কোনো কারিগরি প্রতিবেদন নয়। বরং কেবল, ল্যান্ডিং স্টেশন ও ডেটা সেন্টারগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করার ইঙ্গিত। বিশেষ করে আরব আমিরাত ও বাহরাইনে থাকা ক্লাউড অবকাঠামোর দিকে নজর দিয়ে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে—এসব স্থাপনায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই কেবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে কী হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো দেশ একেবারে ইন্টারনেটবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে বড় ধরনের ধীরগতি, সংযোগে বিঘ্ন বা আংশিক আউটেজ দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরব। পাশাপাশি ওমান ও ইরাকের কিছু অংশেও প্রভাব পড়তে পারে।
কারণ, এসব দেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিকের বড় অংশই এই সমুদ্রতলের কেবলের ওপর নির্ভরশীল। যদিও বেশিরভাগ দেশের বিকল্প সংযোগ (রিডানড্যান্সি) থাকে, তাই একটি কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ না হয়ে অন্য পথে চালু রাখা হয়। তবে একাধিক কেবল একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বড় ধরনের ইন্টারনেট বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা থাকে।
এই বার্তাটি এসেছে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ডিজিটাল অবকাঠামোও হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে এমনও দাবি করা হয়েছে, আরব আমিরাত ও বাহরাইনে আমাজন ওয়েব সার্ভিসের স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলা হয়েছে—যা বাণিজ্যিক ক্লাউড নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, তাসনিমের এই প্রকাশনা স্পষ্ট করছে—বন্দর, জ্বালানি স্থাপনার পাশাপাশি এখন সাবমেরিন কেবল ও ডেটা সেন্টারও হয়ে উঠছে সম্ভাব্য টার্গেট।

Reporter Name 




















